• বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

ঢালিউড

স্থবিরতায় ঢাকাই চলচ্চিত্র

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ মার্চ ২০২০

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে দর্শকের রুচি। বদলে গেছে চলচ্চিত্রের ধারাও। চলচ্চিত্রে নিত্যনতুন উপাদান, সময়োপযোগী উপস্থাপনা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনোদনের অনুষঙ্গ দেখতে চায় দর্শক। তা না হলে মুখ থুবড়ে পড়তে হয় চলচ্চিত্রটিকে। গত কয়েক বছরের দিকে চোখ বুলালে এমনটাই দেখা মেলা। জরিপ করলে গত কয়েক বছরকেই চলচ্চিত্রের বিপর্যয়ের বছর বলে গণ্য করা যায়। দিনের পর দিন লোকসান আর ফ্লপ ছবির তালিকা ভারী হওয়ায় রীতিমত হতাশ হয়ে পড়েছেন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা। এই ভগ্ন চলচ্চিত্র শিল্পকে একমাত্র শাকিব খানই টেনে নিয়ে এসেছেন এতদিন। কিন্তু সেই শাকিব খানও এখন ঠিকমতো হাল ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন। চলচ্চিত্রের শেষ ভরসা শাকিব খানের চলচ্চিত্রও একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে। অন্ধের যষ্ঠির মতো টিকে থাকা এ তারকার চলচ্চিত্রও ঠেকাতে পারছে না বাণিজ্যিক বিপর্যয়। গত বছর মাত্র একটি হিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন শাকিব খান। আর সেই ছবিটিই ছিল বছরের একমাত্র হিট চলচ্চিত্র।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বিপর্যয়। চলচ্চিত্রে চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে অল্প সময়ের ব্যবধানেই মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের দুই ছবি। এর মধ্যে একটি কাজী হায়াত পরিচালিত ‘বীর’। বুবলীকে সঙ্গে নিয়ে বরাবরের মতো শাকিব এবারও পর্দা কাঁপাবেন- এমনটাই আশা ছিল শাকিবভক্তদের। তবে সে আশার গুড়ে বালি। ছবির ফার্স্টলুক দেখে দর্শক ছবিটির প্রতি যতটা আকৃষ্ট হয়েছিলেন, ছবি দেখার পর ততটাই হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, কাজী হায়াত নিজের ছবি ‘ধর’র আদলেই এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন। ‘ধর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রয়াত নায়ক মান্না। ছবিটিতে মান্নার সংলাপ ছিল কম, কিন্তু অভিব্যক্তি প্রকাশের সুযোগ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ‘বীর’ ছবিতে শাকিব খান বিরামহীন সংলাপ বলে গেছেন, যা দর্শকের অনেকটাই পছন্দ হয়নি। শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া অপর ছবিটি হলো শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘শাহেনশাহ’।

চলচ্চিত্রে একটি কথা প্রচলিত আছে, যে ছবি বারবার মুক্তির তারিখ বদলায়, সেটা ব্যবসায়িকভাবেও ব্যর্থ হয়। এ কথার যথার্থ উদাহরণ ‘শাহেনশাহ’। যথারীতি এই ছবিটিও মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১২০টি প্রেক্ষাগৃহ পেয়েও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি এ ছবি।

অনেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব বলে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আদতে সে চেষ্টা ধোপে টেকেনি। কারণ এখন পর্যন্ত দেশের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ই রয়েছে। ফলে আবারো পুরনো সেই কথাতেই ফিরে যেতে হয়, দর্শক গল্প খোঁজেন। কপি পেস্টের গল্প আর চিত্রনাট্য ব্যবহার করে এখনকার সচেতন দর্শকদের বোকা বানানো সহজ নয়। মূলত নির্ভরশীল নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার ও একাধিক নির্ভরশীল বাণিজ্যিক তারকার অভাবে চলচ্চিত্র শিল্প সংকটে নিপতিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রের বর্তমান বিপর্যস্ত এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবিয়ে জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের তীর তাক করেছেন বনভোজন ও নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনগুলোর ওপর। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘প্রদর্শক ও পরিবেশকদের মধ্যে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এর বিকল্প কিছু হতে পারে না।

অনেকেই আবার ভারতীয় প্রদর্শন ব্যবসায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, সাপ্তাহিক হল প্রোটেকশন মানি নির্ধারণ করে পরিবেশকের হাতে সিনেমা হল ছেড়ে দিতে হবে। তাতে সিনেমা হলকে বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক নিয়ে ভাবতে হবে না। চার সপ্তাহে হল মালিকদের আর লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা করতে হবে না। প্রদর্শক ও পরিবেশকদের মধ্যে একটা ইতিবাচক বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি হলেই কেবল চলচ্চিত্র শিল্প নতুন করে জীবন ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

আবার অনেকেই এ বিপর্যয় থেকে উত্তরণের দায়িত্ব প্রযোজকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সম্প্রতি প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হয়েছে। দায়িত্বে এসেছে নতুন কমিটি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তিম মুহূর্তে এই কমিটির অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ ধরনের প্রযোজক নয়, নিয়মিত প্রযোজকদের নিত্যনতুন ছবিতে লগ্নি করতে হবে এবং অন্যদেন উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত ছবির প্রতিও জোড় দিতে হবে। তবেই ফিরবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুদিন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads