• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
কাঁঠাল পাতা বিক্রয় করে সাবলম্বী হয়ার স্বপ্ন

নওগাঁর মহাদেবপুরে কাঁঠঅল পাতা বিক্রয়ের উদ্দেশে সাজানো গাড়ির সামনে আনিচুর রহমানসহ তার তিন জন কাজের লোক

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বৈচিত্র

কাঁঠাল পাতা বিক্রয় করে সাবলম্বী হয়ার স্বপ্ন

  • মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নওগাঁর মহাদেবপুরে দিন মজুরি কাজ ও রিক্সা চালানো দুখের দিনগুলো পেরিয়ে এখন কাঁঠাল পাতা বিক্রয় করে সাবলম্বী হয়ার স্বপ্ন দেখছেন আনিছুর রহমান। মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ ইউনিয়নের রামচরণপুর গ্রামের মৃত শফিজ উদ্দীনের পুত্র মোঃ আনিছুর রহমান। তিনার বাবা মার জমিজমা না থাকায় বাল্য জীবন থেকেই অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতো। দীর্ঘদিন পেটে ভাতে কাজ করলেও গিরস্তের মন উঠতনা । মাঝে মধ্যেই কারনে অকারনে গাল মন্দ শুনতে হতো।

একদিন মনের দুঃখে রিক্সা চালানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও অন্যের ভাড়া রিক্সায় প্রায় অর্ধেক টাকা বেহাত হতো। একপর্যায়ে চাপায়নবাবগঞ্জ হাটে কাঁঠালের পাতা বিক্রয়ের দৃশ্য দেখে সেখানে এগিয়ে যাওয়ার পর বিস্তারিত ঘটনা জানল। আলোচনায় জানতে পররেন চাপাই থেকে সাইদুর রহমান, রাজা বাবু, ওবায়দুল ইসলাম ও রাজু আহম্মেদ মহাদেবপুর উপজেলার বাগডোব বাজারে কাঁঠাল পাতা কিনতে প্রতিদিন আসেন। এসব পাতা তারা চাপায়নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ছাগলের ফার্মে বিক্রয় করেন। সেই থেকে আনিছুর রহমানের জীবনের মোড় বদলে গেল।

মহাদেবপুর উপজেরার গ্রাম গঞ্জে কাঁঠাল পাতা বিক্রয়ের কথা অনেকেই জানেন না। ছাগলের সবচেয়ে উৎকৃষ্ঠ ও প্রিয় খাবার কাঁঠাল পাতা। এই কাঁঠাল পাতায়ালা গাছের পাতা ৩০০টাকা থেকে ১৫০০টাকা পর্যন্ত দামে কিনে বাগডোব বাজারে বিক্রয় করতে শুরু করেন। তারাই এই পাতার বাজারের নাম দিয়েছে পাতার হাট। এই হাটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগই হলেও পাতার বাজার বসবেই।

পাতা বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, দুঃখের দিন পেরিয়ে আজ সুখি হয়ার স্বপ্ন দেখছি আমি। গত প্রায় ১৫ থেকে ১৮ বছর যাবৎ কাঁঠাল পাতা বিক্রয় করে দুই ছেলে ও দুই য়েয়েকে মানুষ করেছি। প্রতিদিন আমার সাথে এখন পাঁচ জন কাজের লোক কাঁঠাল পাতা কাটার কাজ করে। জন প্রতি ৩০০টাকা ও দুবেলা খাবার প্রতিদিন দিয়েও আমার ভাল লাভ থাকে। এসব কাঁঠাল পাতা মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গামসহ পাশ্ববর্তী পত্নীতলা, শাপাহার,নিয়ামতপুর,মান্দা উপজেলার কিছু অংশ সহ নওগাঁ সদর উপজেলারও কাঁঠাল পাতাযুক্ত গাছের পাতা কিনে থাকি। সারা বছর এসব গাছের পাতা কেটে বাজারে বিক্রয় করে নিজের বাড়ি তৈরিসহ কিছু জমিও কিনেছি। যা আগামী দিনে আমার সন্তানদের এতো পরিশ্রম না করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, এসব পাতা গাছ থেকে কেটে বাজারে বিক্রয় করে ব্যক্তিগতভাবে সাবলম্বি হলেও গাছের পাতায় খাদ্য তৈরী হয় সেঠি বিঘ্নিত হবে এবং ফলন কমে যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads