• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ব্যতিক্রমী গণসংযোগে কেসিসি  নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলররা

খুলনা সিটি করপোরেশনের ভবন

সংরক্ষিত ছবি

নির্বাচন

ব্যতিক্রমী গণসংযোগে কেসিসি নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলররা

  • এ কে হিরু, খুলনা
  • প্রকাশিত ২০ মে ২০১৮

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচন শেষ হলেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের গণসংযোগ এখনো শেষ হয়নি। বিজয়ী কাউন্সিলররা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে গিয়েছিলেন ভোটের জন্য, এখন যাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। বর্তমান গণসংযোগে তারা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে ওয়ার্ডবাসীর সহযোগিতা চাইছেন। এদিকে নবনির্বাচিত মেয়র বলছেন, কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক নগরী গড়ে তুলবেন তিনি।

প্রথমবারের মতো কেসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছেন ফকির সাইফুল ইসলাম। তিনি দ্বারে দ্বারে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। বলছেন, ভোটের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন হবে। কেসিসির ২২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন নির্বাচিত এই কাউন্সিলর বলেন, সাধারণত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলররা নির্বাচনী ইশতেহার দেয় না, কিন্তু আমি দিয়েছি। শপথ নেওয়ার পর তার প্রথম কাজ সম্পর্কে বলেন, প্রথমেই আমার ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে চাই। এর মধ্য দিয়েই ওয়ার্ডের কোথায় মাদক বিক্রি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুনর্নির্বাচিত কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু বলেন, আমার স্বপ্ন হচ্ছে ওয়ার্ডে শরীরচর্চা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে ওয়ার্ডবাসীর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। এই ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বারে থাকবে একটি সুসজ্জিত গেট; যার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলে অথবা বের হলে নগরবাসী ও অতিথিরা বুঝতে পারবেন আমি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বের হচ্ছি অথবা প্রবেশ করছি।

২১ নম্বর ওয়ার্ডের পুনর্নির্বাচিত কাউন্সিলর শামসুদ্দিন মিয়া স্বপন বলেন, খুলনার বাণিজ্যিক এলাকা বড় বাজার রয়েছে আমার ওয়ার্ডে। বাজারটি ভৈরব নদীর পাড়ে অবস্থিত এবং ভাঙনকবলিত এলাকা। আমার লক্ষ্য বাজারটিকে একটি বেষ্টনী বলয়ের মধ্যে আনা। এতে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলসহ পণ্য কেনা-বেচায় সুবিধা হবে। এ ছাড়া দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলাও আমার লক্ষ্য।

সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের পাশাপাশি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাও যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর আমেনা হালিম বেবী বলেন, ভোটের আগে গিয়েছি ভোট চাইতে আর এখন যাচ্ছি শুভেচ্ছা বিনিময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। ৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর কনিকা সাহা জানান, নারী ও শিশুদের উন্নয়নে তিনি বিশেষ অবদান রাখতে চান। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলবেন। তাছাড়া বৃদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, গর্ভবতী ভাতা, দুগ্ধদানকারী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা সঠিকভাবে বিতরণের ব্যবস্থা নেবেন।

এ প্রসঙ্গে খুলনা নগরীর নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ডের ৩১ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১০ জনসহ ৪১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় তিনি মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগর গড়ে তুলবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় খুলনা হবে একটি আধুনিক তিলোত্তমা নগরী; বাংলাদেশের একটি মডেল সিটি করপোরেশন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে কেসিসি নির্বাচনে ৩১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩টিতে আওয়ামী লীগ, ৯টিতে বিএনপি, ৪ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও ২ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন দুজন ও একটি ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। আর সংরক্ষিত ১০টি নারী ওয়ার্ডের ৮টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একটির ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। নির্বাচিত একাধিক কাউন্সিলর জানান, দলীয় বিবেচনায় নয়, সকলে মিলে নগরীর উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads