• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ইশতেহার নিয়ে ব্যস্ততা

ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

ইশতেহার নিয়ে ব্যস্ততা

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০৪ জুন ২০১৮

সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী অক্টোবরে হবে তফসিল। ফলে হাতে কিছুটা সময় রেখে সব রাজনৈতিক দল ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইশতেহার তৈরি, আগাম প্রচার, প্রার্থী বাছাইসহ শক্তিশালী কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনো দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগের ইশতেহারে কিছু সংযোজন-বিয়োজন ঘটাচ্ছেন। কেউ কেউ খসড়া জমাও দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে। তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত ঘষামাজা করা হবে তাতে।

দলসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোট টানার ইশতেহার তৈরি করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে তরুণদের আকৃষ্ট এবং ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর দলটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে এতে। অন্যদিকে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপিও প্রস্তুতি চালাচ্ছে জোরেশোরে। দুর্নীতির লাগাম টানতে নতুন ফর্মুলা (ভিশন-২০৩০) অনুযায়ী দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সরকার চালুর প্রতিশ্রুতি দেবে দলটি। আর যুক্তফ্রন্ট সব দল ও দক্ষ নাগরিকের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে। এ ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য দলের ইশতেহারে থাকছে বাস্তবমুখী জনদাবির বহিঃপ্রকাশ।

আওয়ামী লীগ : সরকার পরিচালনার পাশাপাশি নির্বাচনের জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তফসিলের জন্য অপেক্ষায় না থেকে প্রচারণায় নেমেছেন দলীয় সভাপতিসহ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে প্রচারণা শুরু করে নৌকায় ভোট দেওয়ার ওয়াদা নেন শেখ হাসিনা। দলটি সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরছে। বিভাগীয় শহর এবং কিছু জেলা শহরেও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।

দলটির প্রচার সেল নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এবার ১২ লাখ কর্মীকে পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণ দেবে দলটি। তারা ভোটের আগ পর্যন্ত প্রচারের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

দলের মনোনয়ন বোর্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি দুটি সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ আমলাদের দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করছে ক্ষমতাসীন এই দলটি। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আমলা এইচটি ইমাম, সমন্বয়ক হিসেবে ড. আবদুর রাজ্জাক রয়েছেন।

ইশতেহার প্রসঙ্গে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইশতেহারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-মাদক নির্মূল, সুশাসন, গ্রামীণ জীবনযাত্রার উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, কৃৃষি, শিল্পায়ন এবং দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলার ওপর অতীতের মতো এবারো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার ও রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অর্জন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নারীর কর্মসংস্থান, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, দুর্নীতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তো আমরা বলেই আসছি।

বিএনপি : ঘরে-বাইরে স্মরণকালের ভয়াবহ বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি বিএনপি। ২০-দলীয় জোটের প্রধান দলটি বিপর্যস্ত থাকায় স্বস্তিতে নেই তাদের শরিকরাও। এই মুহূর্তে দলটি দৃশ্যত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আছে। তবে ভেতরে ভেতরে জোরেশোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে ৩০০ আসনে ৯০০ প্রার্থীর তালিকা হয়েছে। প্রার্থীরা প্রচারণার কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন নেত্রীর মুক্তির কর্মসূচিকে। গ্রেফতার আতঙ্কে নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারছেন না তারা। তবে পোস্টার, ব্যানারের মাধ্যমে প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন।

দলের থিঙ্কট্যাঙ্কদের সহায়তায় কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও সমর্থক ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন। সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ ও সাবেক আমলা ইসমাইল জবিউল্লাহ। এই কমিটিতে আছেন এক ডজন সাবেক আমলা-বোদ্ধা। তারা সম্প্রতি ব্যাংক সেক্টরের অনিয়মের চিত্র প্রকাশ করেছেন।

ড. মাহবুব উল্লাহ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিএনপির ইশতেহারের অধিকাংশই ভিশন-২০৩০-তে উল্লেখ করা আছে। মূলত সুশাসন বলতে যা বোঝায় এবার সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবশ্যই ‘চমক’ বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় আমাদের সামনে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশায় অভিজ্ঞ, বিদ্বানদের সরকারের অংশীদার করতে চায় বিএনপি। তাদের পরামর্শেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, সুশাসন নিশ্চিত হবে।

যুক্তফ্রন্ট : সম্প্রতি যুক্তফ্রন্টের তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাসহ দেশের অগ্রগতির জন্য তারা নির্বাচিত হলে জাতীয় সরকার গঠন করবে। ফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশের খবরকে জানান, জনগণ ভোট দিলে তাদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও শোষনমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকার গঠন করবে।

জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আগেই ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও তারা মাঠে থাকবে। এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতিও শুরু করেছে দলটি। চূড়ান্ত করা হয়েছে ৩০০ আসনের প্রার্থীও। আর ভোট টানার ইশতেহার তৈরি করছেন দলের সিনিয়র নেতা ও জাপাপন্থি সাবেক আমলারা। এইচএম এরশাদ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি জবাবদিহিতামূলক ও গণমুখী ইশতেহার দেবেন।

এ ছাড়া ২০ দল ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক, জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরেই। যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবেন তারা আপাতত ইশতেহারের চিন্তা করছেন না। তবে পৃথকভাবে যারা নির্বাচন করবেন, তারা নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads