• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
দলীয় মনোনয়ন পেতে আ. লীগ বিএনপির ৮ প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ

সিলেট সিটি করপোরেশ নির্বাচন

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

সিসিক নির্বাচন

দলীয় মনোনয়ন পেতে আ. লীগ বিএনপির ৮ প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ

  • আবু তাহের চৌধুরী, সিলেট
  • প্রকাশিত ০৬ জুন ২০১৮

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন সঠিক সময়ে হচ্ছে কি না এ নিয়ে ছিল সংশয়। সব জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচন কমিশন আগামী ৩০ জুলাই সিসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। একই দিন রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলেও প্রশ্ন- কে বা কারা হচ্ছেন দলীেয় প্রার্থী? বিশেষত মেয়র পদে কারা লড়বেন- এই নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপিতে দেখা দিয়েছে মেয়র প্রার্থী জট। দুই দলেরই অর্ধডজনের বেশি প্রার্থী মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য চালাচ্ছেন লবিং। মাঠেও সরব রয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরেও আওয়ামী ও বিএনপি জোটের শরিক দল থেকেও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে। তবে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে চারজন এবং বিএনপি থেকে চারজন প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগ থেকে দলটির মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও মনোনয়ন পেতে তৎপর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। এর বাইরে দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের নাম।

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক ছাড়া নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম প্রার্থী হতে চান। সিটি কপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদির নামও শোনা যাচ্ছে এ তালিকায়।

সব প্রার্থীই ইতোমধ্যে জোরেশোরে শুরু করেছেন প্রচারণা ও গণসংযোগ। তারিখ ঘোষণার পর তারা আরো আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দলীয় হাইকমান্ডের সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

প্রতিদিনই সভা, সেমিনার, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সিসিক মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনমুখী দল। তাই আমরা চাই সঠিক নির্বাচন। আগে দল সিদ্ধান্ত নিক যে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। যদি দল নির্বাচনে যায় তাহলে আমাকেই মনোনয়ন দেবে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘দলের সবাই চান সিলেট সিটি করপোরেশনে আমি মেয়র প্রার্থী হই। তাই দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে আমি আমার প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি।’ তিনি বলেন, বিএনপির বিজয় ধরে রাখতে প্রার্থী পরিবর্তন করা দরকার। আশা করি কেন্দ্র আমাকে মনোনয়ন দেবে।

এদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে সিসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন।

মেয়র পদে দলীয় প্রার্থিতার ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, গত নির্বাচনে পরাজিত হলেও আমি সব সময় নগরবাসীর পাশে ছিলাম। তাই এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘সবার একটা দাবি আমি যেন প্রার্থী হই। নগরবাসীর দাবি অনুযায়ী মনোনয়ন চাইব।’

সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রসঙ্গে আসাদ বলেন, প্রার্থী হিসেবে কামরান জনসমর্থন হারিয়েছেন এটা তো গত নির্বাচনেই প্রমাণিত। তাই নগর ভবনে আবারো আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে এবার নতুন মুখ প্রয়োজন বলেই আমি মনে করি। মানুষ নতুনত্ব চায় দাবি করে তিনি বলেন, মেয়র পদ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রার্থী পরিবর্তন করা দরকার।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে দেওয়া না দেওয়াও প্রত্যেক দলের কেন্দ্রের ব্যাপার। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যাকে যোগ্য মনে করবেন তিনি তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে জানান তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে ১৮ জুন পর্যন্ত। তা যাচাই-বাছাই হবে ১ ও ২ জুলাই। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জুলাই। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই।

বর্তমানে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ জন ও নারী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৩ জন, যা ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। এ বছর সিলেট সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন এলাকায় নতুন ভোটার বেড়েছে ২৪ হাজার ১৮ জন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads