• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
কাউন্সিলর যার যার মেয়র সবার

গাজীপুর সিটি করপোরেশন ভবন

সংরক্ষিত ছবি

নির্বাচন

জাল ভোটের পর স্লোগান

কাউন্সিলর যার যার মেয়র সবার

  • নাজমুল আহসান রাজু
  • প্রকাশিত ২৭ জুন ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট, বিএনপি সমর্থক এজেন্টদের না থাকা, ভোটার উপস্থিতি কম ও ভোট দিতে এসে আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, এরশাদনগরের টিডিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রের একটিতে নৌকার পক্ষে বেশ জাল ভোট পড়েছে। ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুল হাসানের নেতৃত্বে ৫-৬ জন ১ নম্বর বুথে আগে থেকে ভাঁজ করে রাখা ব্যালট পেপার বক্সে ঢোকান। কাজ শেষে কামরুল প্রকাশ্যে বলেন, ‘কাউন্সিলর যার যার, মেয়র সবার।’ অন্য বুথে ঢুকেও আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ফারুক আহমেদের (রেডিও) পক্ষে তিনি নেতাকর্মীদের নানা নির্দেশনা দেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর মজিবুর রহমানের এজেন্টরা এর প্রতিবাদ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বলতে থাকেন, যখন জাল ভোট পড়েছে তখন বলেননি কেন?

ঘটনার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম কেন্দ্রে ছিলেন না। জাল ভোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। কেন্দ্র ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রে অবস্থান করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নির্বাচনী মালামালের নিরাপত্তার জন্য এখানে আছি, কারণ কেন্দ্রে এগুলো রাখার নিরাপদ জায়গা ছিল না। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান মজিবুর রহমানের সমর্থকরা। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে কিছুক্ষণ।

টিডিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরেকটি কেন্দ্রে দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। এ কেন্দ্রের ৯টি বুথে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. কুদরত আলী বলেন, ৩ হাজার ২২৮টির মধ্যে ১৩০০ ভোট পড়েছে। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি দেখে আমি হতাশ।

শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৬ নম্বর বুথে মেয়র পদে নৌকা ও কাউন্সিলর পদে ঠেলাগাড়ি প্রতীকে জাল ভোট মারা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভোট স্থগিত চেয়ে বিক্ষোভ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা। কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকজন লোক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারতে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানালে তারা তাদেরকে সরিয়ে দেয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আগে আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, সকালের দিকে বিএনপির কিছু এজেন্ট এসেছিল, পরে তারা নিজেরাই চলে গেছে।

একই কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী ঘুড়ি প্রতীকের হান্নান মিয়া ও ঠেলাগাড়ি প্রতীকের আবদুল করিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন বিক্ষোভ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ভরান দক্ষিণ এলাকার লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দেখা যায়, বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্ট নেই। একটি বুথে একজন এজেন্টকে দেখা গেলেও মনির হোসেন নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তাকে ডেকে বুথের বাইরে নিয়ে যান। এরপর আর সেই ব্যক্তিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। মো. উজ্জ্বল নামে একজন কেন্দ্রে এসে দেখেন তার ভোট হয়ে গেছে। তিনি প্রতিবাদ জানালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বুথে নিয়ে যান তাকে। পোলিং এজেন্টরা তালিকা দেখিয়ে বলেন, এই নামের ব্যক্তির ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আশাহত মো. উজ্জ্বল বলেন, আমি এবারই প্রথম ভোটার হয়েছি। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক মনোজ কুমার বলেন, এই কেন্দ্রে এটাই প্রথম ঘটনা।

বেলা ১১টায় টঙ্গীর হাজী সৈয়দ শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে টেবিল সাজিয়ে বসে আছেন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো ভোটারকে সাহায্য নিতে দেখা যায়নি। কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারের দীর্ঘ লাইন। লাইনে কমবয়সী কয়েকজনকেও দেখা যায়।

উত্তর আউচপাড়ার ব্লসম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে পুরুষদের পাঁচটি বুথে কোনো ভোটার ছিল না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বসে চা-নাশতা খাচ্ছিলেন।

আশরাফ টেক্সটাইল মিল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের বাইরে নৌকার সমর্থক অনেক লোকজন দেখা গেলেও ভেতরে ছিল খালি। এর মধ্যে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী আজহার উদ্দিন চার-পাঁচজন লোক নিয়ে বুথে বুথে গিয়ে এজেন্টদের নির্দেশনা দেন। কিছুক্ষণ পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার দুই-তিনজনকে নিয়ে বুথে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ জানায়, প্রার্থী যেতে পারবেন, তবে অন্য কেউ নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads