• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ভোট ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে!

২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কিংবা ২৯ ডিসেম্বর শনিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

ছবি: সংরক্ষিত

নির্বাচন

ভোট ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে!

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে? নভেম্বর না ডিসেম্বরে- এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী লীগ চায় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ভোট করতে। আর সেটা ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কিংবা ২৯ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নির্বাচন যখনই হোক আওয়ামী লীগ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্য দলগুলো তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে। আবার এ প্রশ্নে সমঝোতা না হলে আদৌ নির্বাচন হবে কি না- তা নিয়ে কারো কারো মনে এখনো শঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সংবিধান মোতাবেক তফসিল ঘোষণার ৪৫ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণ করতে হয়। তবে ইসি সচিব বললেও অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা খুবই কম। আর ওই মাসেই যদি তফসিল দিতে হয়, সেটা মাসের শেষ দিন ঘোষণা করতে হবে। কারণ, ৩১ অক্টোবর থেকেই নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে। তফসিল নির্বাচনের অংশ হওয়ায় এর আগে তা ঘোষণার সুযোগ নেই। এ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি। আর সংসদ বহাল থাকা সাপেক্ষে এর মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এ হিসেবে এ বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোট করতে হবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। সে হিসেবে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে ৩১ অক্টোবর থেকে। নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করলে তার ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে ভোট ডিসেম্বর মাসেই পড়ে। আওয়ামী লীগও তা চায়।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তিকে আবারো পরাজিত করতে চায় আওয়ামী লীগ।

সরকারি দলের এমন মনোভাবের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আওয়ামী লীগ বিজয়ের মাসে আরেকটি বিজয় অর্জন করতে চায়। কিন্তু তারা স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতন্ত্রকে বিসর্জনে পাঠিয়েছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার, মানবাধিকারসহ সব অধিকার থেকে বঞ্চিত। সত্য কথা বললে হয়তো খুন, নয়তো গুম হতে হয়। জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি মনে করে না। তাই বিজয়ের মাসে নির্বাচন বিএনপির জন্য বরং ভালো হবে। তারা বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। তিনি বলেন, তার আগে নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা চূড়ান্ত করতে হবে। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটে সেনা মোতায়েন করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসি কর্মকর্তা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ৩১ অক্টোবর যেহেতু তফসিল ঘোষণার উপযোগী হবে, সেই বিবেচনায় কমিশন ওই মাসের কথা বলেছে। তবে তফসিল ঘোষণা নভেম্বরের প্রথম ভাগে হবে বলে কমিশনের কর্মকর্তারাও মনে করেন।

এদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বর্তমান সরকারের আকার ছোট হয়ে ‘নির্বাচনকালীন’ সরকারে রূপ নেবে। এটি হতে পারে ৩১ অক্টোবর বা তার পরপরই। নির্বাচনকালীন ওই সরকারের দায়িত্ব পালন শুরুর আগে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের আসন শূন্য ঘোষণা না করেই ৩০০ আসনের নির্বাচন করতে হবে ইসিকে। আর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘সংসদ সদস্যের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে- মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে।’ এই বিধানের কারণে সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন কমিশনকে ভোট করতে হবে।

সংসদ বিলুপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী সাধারণত রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি তার উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন। বর্তমান সংবিধানে একটি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের ৫৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।’ ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) উপ-অনুচ্ছেদের শর্তাংশে উল্লেখ আছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে তাহার সংখ্যার অন্যূন নয় দশমাংশ সংসদ সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বাইরে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য অলি আহমদ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে এর সবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বাইরে থেকেও অন্তর্বর্তী সরকারে মন্ত্রী নেওয়া হয়েছিল। এবারো তেমনটি করা হতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads