• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বৃহত্তর ঐক্যের খবর নেই

আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে রাজনৈতিক দলগুলো

সংরক্ষিত ছবি

নির্বাচন

বৃহত্তর ঐক্যের খবর নেই

# এখন চলছে কর্মসূচি প্রণয়নের কাজ # সবশেষে চূড়ান্ত হবে আসন বণ্টন

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। রাজনৈতিক দলগুলোর নানা মত একসূত্রে মেলাতে চলছে নানা প্রক্রিয়া। সবশেষে যৌথ ইশতেহার ঘোষণায় যেতে হবে দীর্ঘ পথ। তবে সবশেষ তথ্য, গণতন্ত্র ফেরাতে সব দল সম্মত। এখন চলছে কর্মসূচি নির্ধারণ ও যুক্ত ইশতেহার তৈরির কাজ। এরপর চূড়ান্ত হবে আসন বণ্টন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত দলের নেতারা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। শিগগিরই এর বহিঃপ্রকাশ দেশবাসী দেখতে পাবেন। তিনি বলেন, একটি বিষয়ে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একমত। সেটি হলো বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান, মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা।

এদিকে গতকাল গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন- দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আদায়ের জন্য বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে। কাজ এগোচ্ছে। চূড়ান্ত হলে সবাইকে জানানো হবে।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নিয়ে কাজ করছেন বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ওই নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দেশে যত স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেশের জনগণ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। দেশে এখন মানবাধিকার, আইনের শাসন নেই। ক্ষমতাসীন দলের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র ফেরাতে একমত। এখন গণতন্ত্র ফেরাতে সরকারকে বাধ্য করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে। কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে চলছে জোর প্রস্তুতি। সবকিছু চূড়ান্ত হলে যুক্ত ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কোনো বৃহত্তর ঐক্যে যাবেন না। ইতোমধ্যে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় সেটি এখন দলও নয়।

সম্প্রতি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনভিত্তিহীন-আসনবঞ্চিত নেতা, রাজনৈতিক দালাল ও বিতর্কিত সুশীলদের তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপিকেও অধিকতর কৌশলী এবং বাস্তববাদী হতে হবে। জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে এগোলে কোনো ফল আসবে না।

তার আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরী বলেছেন, বৃহত্তর ঐক্য করতে হলে যুক্তফ্রন্টকে ১৫০ আসনে ছাড় দিতে হবে।

বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বাধা হিসেবে কাজ করবে কি না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোটের শরিক দলের এক প্রধান বলেন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকতেই পারে। তবে এগুলো যার যার ব্যক্তিগত অভিমত। যখন আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে তখন বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এখনই এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছেন শীর্ষ নেতারা। এজন্য কিছুটা ছাড় দিতেও তারা রাজি আছেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে সম্প্রতি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নেগেটিভ বক্তব্য দেন। সে বিষয়ে জানতে গতকাল তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখন তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতের আজমীর শরিফে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে এসে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads