• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
আ.লীগ চায় ধরে রাখতে, বিএনপির চাওয়া পুনরুদ্ধার

পাবনার রাজনীতির হাওয়া

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন

পাবনা-৩ আসন

আ.লীগ চায় ধরে রাখতে, বিএনপির চাওয়া পুনরুদ্ধার

  • কানু স্যানাল, পাবনা
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচার দিন দিন বাড়ছে। বড় দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নেতাকর্মীসহ ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য আসনটি ধরে রাখা, বিএনপির চাওয়া হারানো আসন পুনরুদ্ধার। নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা-অভিনন্দন সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। তাই এ আসনে বড় দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নবীন-প্রবীণ মিলে অন্তত দুই ডজনেরও বেশি প্রার্থী রয়েছেন এ তালিকায়।

নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, চাটমোহরে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭৪, ভাঙ্গুড়ায় ৮৮ হাজার ৩৩৫ ও ফরিদপুরে ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৬৪৯ জন।

পাবনা-৩ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মোজাম্মেল হক সমাজি, ’৭৯-তে বিএনপির কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, ’৯১-এ বিএনপির গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) সাইফুল আজম সুজা, ’৯৬-এ আওয়ামী লীগের ওয়াজিউদ্দিন খান, ২০০১ সালে বিএনপির কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মকবুল হোসেন এমপি নির্বাচিত হন।

বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন ও তার ছেলে ভাঙ্গুড়ার পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইয়েন রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দেশজুড়ে নানা উন্নয়ন হলেও এ আসনটি রয়েছে অবহেলিত। দলীয় নেতাকর্মীরা তাই বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন।

তবে সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন। এলাকায় কেমন উন্নয়ন করেছি তা জনগণ দেখেছে। আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলিম। তিনি শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রচার করছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মাস্টার দলের জন্য নিবেদিত, নির্যাতিত এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।

নৌকার মাঝি হতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আ. রহিম পাকন। নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলীম।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরা হলেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর প্রমুখ।

বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ব্যাপকভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দলীয় কর্মসূচি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের পদচারণা চোখে পড়ার মতো। এ তালিকায় চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, শিল্পপতি ও জিয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি হাসানুর রহমান রাজা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল, রাবির সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার ও জহুরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে।

সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন করেছি। মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এ ধারা অব্যাহত রাখব।

অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করে ৩৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। মনোনয়ন পেলে এক লক্ষাধিক ভোটে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে পারব।

এদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা-এরশাদ) ও জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রভাব নেই। তবে শোনা যাচ্ছে জাপা থেকে মনোনয়ন চাইবেন অ্যাডভোকেট আবদুস ছাত্তার। এ ছাড়া জামায়াতের ফরিদপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাপিনুর রহমান ইতোমধ্যেই নিজেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads