• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই ইসির চ্যালেঞ্জ

নির্বাচন কমিশন (ইসি)

নির্বাচন

ইউএনওদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই ইসির চ্যালেঞ্জ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ নভেম্বর ২০১৮

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চায় না। আবার শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাটা অসম্ভব বলেও অকপটে স্বীকার করেছে ইসি সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় জনগণের কাছে জবাবদিহি যাতে করতে না হয় সেজন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এর সবটাই করতে চায় ইসি। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভোটের অনিয়ম রোধে কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো জাজমেন্ট না করে ‘বিচারকের নিরপেক্ষতায়’ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির সংশয়ের মধ্যেই

গতকাল শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু’ নির্বাচন হয় না মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটা কোনো দেশেই হয় না; আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটা সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে। নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। নির্বাচনের উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়- এই নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ‘বিচারকের নিরপেক্ষতায়’ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এই বিচারক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ‘সদ্ভাব’ বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

কবিতা খানম বলেন, আইনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ইগনোর করার চেষ্টা করেন। নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত না, যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা আচার-আচরণ এবং কথা-বার্তায় ‘নির্বাচনকে অসুস্থ করে’ এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে যেন এতটুকু অবহেলা না হয়। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকাণ্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৎভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে, এটা চূড়ান্ত। নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে। তাই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। দেশের অনেক জায়গায় এখনও ব্যানার-পোস্টার নামানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ১৮ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো নামিয়ে ফেলতে হবে এবং মনোনয়নপ্রাপ্তরা যেন ব্যানার-পোস্টার লাগানোর সুযোগ না পান, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বরে প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads