• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা ঠেকাতে তিন স্তরে জাল

ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা ঠেকাতে তিন স্তরে জাল

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা ঠেকাতে তিন স্তরে জাল

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২০ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা ঠেকাতে তফসিলি ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে, ঋণখেলাপিরা যাতে নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তিনটি স্তরে প্রার্থীদের ঋণের তথ্য যাচাই-বাছাই হবে। চিঠি এরই মধ্যে প্রস্তুত। যেকোনো মুহূর্তে চিঠি পাঠানো হতে পারে। জানা গেছে, শাখা পর্যায়, তফসিলি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে প্রার্থীদের ঋণের তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। এলাকা ভিত্তিক তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের তালিকা নেবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহায়তা দিতে শাখা থেকে একজন কর্মকর্তাকে এ কাজে সমন্বয় করতে বলা হচ্ছে।

তবে অনেক প্রার্থীর নিজের এলাকার বাইরে ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য থাকতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন কমিশনের তালিকা নিয়ে অটোমেডেট সিআইবি থেকে যাচাই-বাছাই করবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশের খরবকে বলেন, আমরা এরই মধ্যে অলিখিত একটি নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছি। শিগগিরই লিখিতভাবে নির্দেশনা পাঠানো হবে। ব্যাংকগুলোতে যাতে এ কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি না হয় সেটিও সতর্ক করা হবে।

জানা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনোনয়ন দাখিলের দিন থেকে বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাছাইকালে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে থাকবেন। তা ছাড়া বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তালিকা ধরেও ব্যাংকগুলোকে কাজ করতে বলা হচ্ছে এবার। শাখা পর্যায় থেকে প্রার্থীদের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে সরবরাহ করার সঙ্গে তা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দফতরে পাঠাতে হবে। খেলাপির হালনাগাদ তালিকার সঙ্গে প্রধান কার্যালয় তালিকা মিলিয়ে দেখে যদি কোনো খেলাপি প্রার্থীর সন্ধান পায়, তবে সেসব তথ্য নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার, শাখা ব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে পাঠাতে হবে।

জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আগ্রহী প্রার্থীদের কর সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিতর্ক ও বাধা সৃষ্টি না করতে এ নীতিগত সিদ্ধান্ত কর প্রশাসনের। তবে যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের যদি কর হালনাগাদ করা থাকে বা যাদের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা দরকার তারা নিজেরা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ভ্যাট ও শুল্ক খেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া সম্প্রতি বলেন, এবারের নির্বাচনটা চলে যাক, তারপর নতুন সরকারের প্রথম দিক থেকেই এ ব্যাপারে একটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্ত বলে মন্ত্রিসভা থেকে এতে সায় আসেনি।

প্রার্থী হতে আগ্রহীরা ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছেন। তারা কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপি কি না সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ ব্যাংকের ঋণ হালনাগাদ করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সে মোতাবেক কোনো ব্যক্তির যদি এক টাকাও খেলাপি ঋণ থাকে, তার রিপোর্ট পাঠাতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ফলে ছোট-বড় আকারের যে ঋণই থাকুক না কেন তা নিয়মিতকরণ করতে হবে। এবারই প্রথম ব্যাংকে যেকোনো পরিমাণের দায়ে আটকে যেতে পারে প্রার্থিতা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads