• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
আজ মধ্যরাতে থামছে প্রচারণা

লোগো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বচন

নির্বাচন

আজ মধ্যরাতে থামছে প্রচারণা

# ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে # কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, হামলা, হতাহত, প্রতিপক্ষের বাধার পাহাড় পেরিয়ে দুদিন পরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত ভোট। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে প্রচারণা। আগামীকাল শুক্রবার থেকে প্রার্থীরা ব্যস্ত থাকবেন কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে।

এদিকে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিটাও শেষ করে এনেছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে সামনের দুই দিন শুধুু ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, প্রার্থীদের কাটবে বিজয় ঘরে তোলার কর্মকৌশল ও হিসাব মেলাতেই। নির্বাচন বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে দেশের ইতিহাসে এবারের নির্বাচনটি হচ্ছে ভিন্নমাত্রার।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশবাসী অতীতের নির্বাচনে ঘরবাড়ি জ্বালানো, পেট্রোলবোমা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তারক্তি, লাশের সারি দেখেছে; তবে এবারের চিত্রটা তেমন নয়। সমালোচনার বিষয় হলো, এবার বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও কারান্তরীণের সংখ্যাটা অনেক বেশি। অনেক প্রার্থীও রক্তাক্ত হয়েছে।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে গঠিত দশম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, সেই সংসদের মেয়াদ আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে।

তফসিল অনুযায়ী দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পরই নির্বাচনী মাঠে নামে প্রার্থীরা। যদিও বিরোধী শিবিরের প্রার্থীদের সময় পার করতে হয়েছে আদালত চত্বরেই। তারপরও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে দল বেঁধে ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে। প্রচারের জন্য নানা আয়োজনও করা হয়। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নেতাদের মাধ্যমে সারা দেশে প্রচারণা চালিয়েছে। কোথাও দলীয় প্রধান, কোথাও সিনিয়র নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে উৎসাবের মাত্রা বাড়াতে ঢাক-ঢোল, হাতিঘোড়া, বাস-ট্রাক এবং মোটরসাইকেল শোডাউনে মেতেছিল প্রার্থীরা। ভোট টানতে দল সমর্থিত বিভিন্ন সেক্টরের তারকাদের মাঠে নামানো হয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে না পেরে ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন অনেকে।

ক্ষতাসীন দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব চাইছেন। আবার বিরোধীরা সরকারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বিপরীত প্রচারণা করছেন। ভোটারদের সামনে হাজির করেছেন তাদের প্রতিশ্রুতি। অন্যবারের চেয়ে এবার বিএনপির নির্বাচনী শোডাউনে দেখা দিয়েছে খালেদা শূন্যতা। তিনি দুর্নীতির মামলায় কারান্তরীণ। 

প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মিত্ররা অনেকটা স্বস্তিতে কাটালেও অভিযোগের পাহাড় গড়েছে বিরোধীরা। তারা বলছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের মাঠে নামতেই দিচ্ছে না। তাদের কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করে মাঠ শূন্য করার মতো অবস্থা করেছে। আইনি জটিলতায় ১৮ প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত করেছে। প্রচারণায় মাঠে নামলেই হামলার শিকার হচ্ছে। পুলিশ, র্যাবসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি তারা পক্ষপাতের অভিযোগ করেছে। তবে স্বস্তির জন্য তারা সেনা মোতায়েনের দাবি করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিরোধীদের দাবিকে মেনে নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করেছে। তবে এতসবের পরও মাঠ সমতল হয়নি বলে দাবি করছে ভোটের মাঠে থাকা বিরোধী সব দল। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাহাড় ঠেলে প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ।

প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী দুই দিন তারা কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি নেবেন। দুই জোটের তরফ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে। কারো ৪০ হাজার কারো তার চেয়েও বেশি এজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে কোনো কোনো দল। এখন শুধু শেষ সময়ের নির্দেশনা দেবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ১ হাজার ৮৪১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১ হাজার ৭৪৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং বাকি ৯৬ জন স্বতন্ত্র। এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য এবার অন্তত ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অন্তত ৫৭৭ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টি। এতে ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৫টি করে ভোটকক্ষ থাকছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads