• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৪
নিরঙ্কুশ জয় চায় আ.লীগ

উপজেলা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় চায় আ.লীগ

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

উপজেলা নির্বাচন

নিরঙ্কুশ জয় চায় আ.লীগ

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০১৯

সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় হলেও এবার হবে রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় প্রতীকে। প্রথমবারের মতো সারা দেশের মোট ৪৯৩টি উপজেলায় দলীয় প্রতীকে ভোট নেওয়ার লক্ষ্যে চলতি জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এদিকে সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই আওয়ামী লীগ জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের। সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলার নির্বাচনেও ভূমিধস বিজয়ের প্রত্যাশায় মাঠে নেমে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েক নেতার দেওয়া তথ্য মতে, ভোটের মাঠের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি বা দলটির সঙ্গে থাকা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে- এমনটা ধরে নিয়েই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়গুলো সামনে রেখে উপজেলা নির্বাচনেও জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা দলীয় মনোনয়ন পাওয়াও নিরঙ্কুশ বিজয়ের আরেকটি কারণ। তৃণমূল কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদেও জনপ্রিয় নেতাদেরকে দলটির মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে ও বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দলের কর্মকৌশলও শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভা আজ শনিবার, ১২ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় ঢাকার গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো এ যৌথসভা হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার আলোচনায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা জানান।

এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে আগামীকাল রোববার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাদের যৌথসভা হবে। এতে ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উল্লিখিত জেলাগুলোর সব উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের উপস্থিত থাকতে দল থেকে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সব উপজেলায় আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কোনো উপজেলায় যোগ্য প্রার্থী থাকলে জোটের শরিকদেরও মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল নিরসনে কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের অনেক এলাকায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে উপজেলা চেয়ারম্যানদের। গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিরোধ ছিল চরমে। অনেক উপজেলা চেয়ারম্যানও সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ মাঠেও গড়ায়। উপজেলা চেয়ারম্যানরা সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। তবু অনেক জেলা ও উপজেলায় বিরোধ থামেনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা স্বপদে থেকে সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আদেশ দেন উচ্চ আদালত। ফলে এ যাত্রায় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চাপা ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে পারেননি অধিকাংশরা। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধের কারণে উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে যেন খেসারত দিতে না হয়, সেজন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে রাজনৈতিক বৈরিতা কাটাতে ভোল পাল্টাতে শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকে। তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে সংসদ সদস্যদের কাছে ঘেঁষতে শুরু করেছেন।

এবার উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। এজন্য দলের মনোনয়ন পেতে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাই সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, তারা অনেক আগে থেকেই উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জাতীয় সংসদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে জোর ভূমিকা পালন করেছেন বিভিন্ন সংসদীয় আসনে। এর মধ্য দিয়ে তারা সক্ষমতার জানান দেন। অবশ্য উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী এরই মধ্যে এ নির্বাচনের সময়ও শুরু হয়ে গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান মাস ও আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক ধাপে সারা দেশের উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারির শেষে না হলে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। মার্চ মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটাভুটি ইসি সম্পন্ন করতে চায় বলে সাংবাদিকদের জানান এর সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads