• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৪
ads
নিরুত্তাপ পরিবেশেও আ.লীগের উদ্বেগ

লোগো উপজেলা নির্বাচন

নির্বাচন

নিরুত্তাপ পরিবেশেও আ.লীগের উদ্বেগ

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দেশের নির্বাচনে জাতীয় সংসদের পর অন্য বড় আয়োজনটির নাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সবশেষ অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যেমনটা জমজমাট পরিবেশ ছিল, তেমনটা ছিল না উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময়। এরপর নির্বাচনের নানা প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও ভোটের মাঠের চিরচেনা আমেজ ফিরে আসছে না। ভোটের মাঠ এখনো শান্ত।

যেসব উপজেলায় আগামী মার্চে ধাপে ধাপে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেগুলোর প্রায় সবখানেই এখনো নিরুত্তাপ পরিবেশ। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে নির্বাচনী পরিবেশ পুরোপুরি জমজমাট হয়ে উঠবে, এমনটা মনে করেন না আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, ভোটের মাঠের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা আগেই দেয়। বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষাণায় ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়ুক, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তা চায় না।

ঐক্যফ্রন্টের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে মহাজোট ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে আলাদা অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেয় আওয়ামী লীগ। তারা আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানালেও যোগ্য প্রার্থী না থাকায় অনেক উপজেলায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে না। যেসব উপজেলায় শরিক দলগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই, সেখানে প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দলগুলোও অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে।

সাধারণত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিএনপি অংশ না নেওয়ায় নতুন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বিষয়টি উন্মুক্তও করে দেওয়া হচ্ছে কৌশলে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৮৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে একক প্রার্থী দেয় দলটি। ৮৬টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ১১৩ জন। উপজেলা নির্বাচনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। যাদের সবাই দল বা সহযোগী সংগঠনের কোনো না কোনো পদে আছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী কুড়িগ্রাম জেলায়।

উপজেলা নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও কোনো ‘মাথাব্যথা’ নেই ক্ষমতাসীন দলটির। আপাতত দৃষ্টিতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় রয়েছে দল। শুধু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার ক্ষেত্র তৈরিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে কিছু উদ্বেগও কাজ করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে। দলের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত মাঠে ছড়িয়ে পড়িয়ে কি না, সেদিকেও দল থেকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

কারণ, অতীতে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দলের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর  মধ্যেই ছিল সেসব সংঘাত ও কোন্দল। অনেকেই নিজ নিজ বলয় সৃষ্টি করে মাঠ পর্যায়ে নিজের শক্তির জানান দেন। সমাবেশ-পাল্টা সমাবেশ করেন। একে-অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। পরস্পরবিরোধী গ্রুপের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ান। মামলাও হয় পাল্টাপাল্টি। নিজ দলের নেতাকর্মীরাই প্রতিপক্ষ গ্রুপকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেন, এমন ঘটনাও কম নয়। ফলে আওয়ামী লীগকে সমালোচনার শিকার হতে হয়।

উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে শুরু থেকেই সরব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব, প্রার্থী বাছাইয়ে নানা প্রক্রিয়া অনুসরণ, জনপ্রিয় প্রার্থীদের প্রাধান্য দিতে কেন্দ্রের জরিপ পরিচালনা, দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা পর্যায়েও ভূমিধস বিজয়ের প্রত্যাশায় কর্মকৌশল নির্ধারণ করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। তবে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে তেমন তৎপরতা নেই। শরিকদের পক্ষ থেকে আলাদা অংশ নেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বলা হলেও নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর উচ্ছ্বাসে যেন ভাটা পড়েছে। মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচনকে ঘিরে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না।

১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের কিছু উপজেলায় সেভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় সেসব এলাকায় নির্বাচনে তাদের আগ্রহও নেই। কোনো কোনো উপজেলায় শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা চাঙ্গা হলেও  নির্বাচন নিয়ে তাদের তেমন উৎসাহ নেই। দলগুলো থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন। মাঠ শান্ত থাকলেও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে, মাঠে নামলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে সংঘাত হবে না, এমন কোনো আশ্বাস তারা পাচ্ছেন না। এ কারণে তারা তৎপর হচ্ছেন না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads