• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত : মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন

একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত : মাহবুব তালুকদার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ ২০১৯

এবারের উপজেলা নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনে জৌলুস নেই বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররাও কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। এহেন নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত‌।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বিগত কয়েক দিন যাবত কয়েকজন সাংবাদিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে প্রশ্ন রাখছেন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই। একাদশ জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছে, প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর আছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে যাদের স্বার্থ জড়িত, তারা কখনো এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না, বা দেবেন না। জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বদল নয়- এতে গণতন্ত্র কতটা সমুন্নত হলো তা-ও বিবেচনাযোগ্য।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনকে আমি অপরূপ নির্বাচন বলতে চাই। আইনে থাকলেও এর মাথাটা নির্বাচিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে এবং দেহটুকু নির্বাচিত হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে। এই নির্বাচনের স্বরূপটি তাহলে কেমন দাঁড়ায়? অন্যদিকে এই নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। এজন্য উপজেলা নির্বাচনের জৌলুস নেই। একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররাও কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। এহেন নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।’

‘আজকাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কথাটা বেশ চালু হয়েছে। আমি এর অর্থ বুঝি না। আমার মতে নির্বাচন মানেই হচ্ছে একাধিকের মধ্যে বাছাই। তাই যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, তা নির্বাচন হয় কী করে? ইংরেজিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনদের ইলেকটেড না বলে সিলেকটেড বলা যেতে পারে কী? এবারের উপজেলা নির্বাচনে চারটি ধাপে শতাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়েছেন। পরবর্তীতে আরো ৫০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে জনপ্রতিনিধিদের পদে আসীন হওয়ার রেওয়াজ গণতন্ত্রের জন্য সুসংবাদ নয়।’

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কিছুদিন পূর্বে একজন মাননীয় সংসদ সদস্য যিনি সদ্য প্রাক্তন একজন মন্ত্রীও বটে, সংসদে বলেছেন, ‘নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তার ভাষ্যমতে প্রশ্ন থেকে যায়, এই নির্বাচন মর্যাদা হারালো কবে? জাতীয় নির্বাচনের সময়? না উপজেলা নির্বাচনের সময়? এ জন্য কে বা কারা দায়ী তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি। তবে তার এই বোধোদয় নিশ্চয়ই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুপ্রাণিত করবে। মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads