• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
যে কারণে আ.লীগের বিদ্রোহীরা এগিয়ে

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন

উপজেলা নির্বাচন

যে কারণে আ.লীগের বিদ্রোহীরা এগিয়ে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৯

গত ১৮ জুন শেষ হয়েছে পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল থেকে জানা গেছে, ৪৭৩ উপজেলার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ৩২০টিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। চেয়ারম্যান পদে জয়ীদের মধ্যে ১৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে এর মধ্যে ১৩ জন বাদে সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকে যে সংখ্যক আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতেছেন, তার প্রায় অর্ধেক প্রার্থী জিতেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভিন্ন প্রতীকে।

বিদ্রোহীদের প্রার্থীদের প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে নমনীয় মনোভাব, মনোনয়ন দেওয়ার সময় ক্ষেত্রবিশেষে তারুণ্যের মতো উপেক্ষা করা, নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাব, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মন্ত্রী-এমপিরা দল মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন-সহায়তা না করা বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এতসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।

এদিকে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির চারজন আছেন। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচন বর্জন করলেও দলের অনেকেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নেন। এমন তিনজন জয়ীও হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ প্রথম দফায় ৭৯টি উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৫৬টিতে জয়লাভ করে। এর মধ্যে দলটির ১৪ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিনা ভোটে। বাকি ২৩টি উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। এই স্বতন্ত্রদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ১২৩টি উপজেলার মধ্যে ২৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৭৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এ দফায় জাতীয় পার্টি (এ) ২টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪৪টিতে জয়ী হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের ভোট হয় গত ২৪ মার্চ। এতে ১২২টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৮৩টিতে জয়ী হয়। এর মধ্যে ৩১টির চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩৮টিতে জয়ী হয়। চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত এ ধাপে ১২১টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৯টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩২টিতে জয়ী হয়। এ ধাপে ১৫টি উপজেলায় সব পদে প্রার্থীরা বিনা ভোটে বিজয়ী হওয়ায় সেগুলোতে ভোটের দরকার হয়নি। সর্বশেষ ১৮ জুন অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ভোটে ২২ উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচটিসহ ১৩টিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। এ ধাপে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে ৯টিতে বিজয়ী হয়েছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলায় আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী হেরেছে। সেটার কারণ খুঁজে বের করতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে। আওয়ামী লীগকে হারিয়ে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের জয়ের কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিদ্রোহী বলে কিছু নাই। উপজেলা নির্বাচন হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় অনেক ফ্যাক্টর সেখানে কাজ করে। আশা করি, সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছ থেকে রিপোর্ট পেলে সব জানতে পারব। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারীদের শাস্তির যে আলোচনা হয়েছিল, আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads