• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ads
ঢাকার ২ সিটিতে নির্বাচন ডিসেম্বরে

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন

ঢাকার ২ সিটিতে নির্বাচন ডিসেম্বরে

চট্টগ্রামে ভোট মার্চে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৯

২০১৯ সালেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থাৎ ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। এছাড়া ২০২০ সালের মার্চে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেরও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যদিও শুরুতে নির্বাচন কমিশন তিন সিটির নির্বাচন একসঙ্গেই করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার জটিলতায় এবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন একই দিনে করতে পারছে না ইসি।

কমিশনের অনুষ্ঠিত ৪৭তম বৈঠকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তিন সিটি করপোরেশনে একই দিন ভোটগ্রহণের বিষয়ে কমিশন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ পালনের সুবিধার্থে আগেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। এ কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করে সরকার।

তবে ওই সময়ের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপযোগী হলেও মেয়াদ শেষ না হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ সময়ে নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় আসছে না।

যে কারণে এ বছর ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটি ও আগামী বছর মার্চে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে এই তিন সিটিতে একই দিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছিরের দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব হয়েছিল। যে কারণে সিটির প্রথম বৈঠকও দেরিতে হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৪ মে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বৈঠক ১৭ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

অন্যদিকে এর প্রায় তিন মাস পর ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম বৈঠক। সেই হিসেবে এ বছর ১৭ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ২০ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ এবং আগামী বছর ৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সময়োপযোগী হবে।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। আর আইন অনুযায়ী করপোরেশনের প্রথম বৈঠক থেকে এর মেয়াদ গণনা শুরু হয়। সব মিলিয়ে কমিশন চাইলে এ বছর ২০ নভেম্বর বা তারপরে তফসিল ঘোষণা করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোট সম্পন্ন করতে পারবে।

অবশ্য ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়ে মার্চে যেতে হবে। কারণ জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা চূড়ান্ত হবে ৩১ জানুয়ারি। ফলে এ সময়ে ভোট করতে গেলে নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়া না-দেওয়ার প্রশ্নে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, আগেরবার একই দিনে ভোট হলেও মেয়াদের পার্থক্য বিবেচনায় এবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন আলাদাভাবেও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরে হতে পারে। আর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন মার্চে কিংবা ঈদের পর জুলাইয়ে হতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো কিছু জানানো হয়নি। সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেব। আইনে বলা আছে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঢাকা বা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি আসেনি। কমিশনেও নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আইনে যে বিধান রয়েছে, সে অনুযায়ী হবে। আশা করছি নির্বাচন উপযোগী হলে চিঠি আসবে। সে অনুযায়ী কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোটগ্রহণ করা যেতে পারে-এমন একটি প্রস্তাব ইসিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে কবে নাগাদ পাঠানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় হলেই সবকিছু জানতে পারবেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীবাসীর সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় চার বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়র আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে অনেকটা ফাঁকা মাঠে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম। গত ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছে শপথ নেন আতিকুল ইসলাম।

এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় এবার দুই সিটিতে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে জনবহুল এই সিটি ভোটে অভিজ্ঞদের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads