• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় সরকার

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় সরকার

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০১৯

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে সরকার। কবে নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে তা চূড়ান্ত করতে পারছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তবে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত হয়তো এপ্রিলের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। আর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাদ পড়তে পারেন। অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আরেকবার সুযোগ পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে একসঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত আনিসুল হক। আর দক্ষিণের মেয়র নির্বাচিত হন সাঈদ খোকন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মারা যান। এরপর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জিতে মেয়র হন আতিকুল ইসলাম।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের খবরকে টেলিফোনে বলেন, এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। 

 একই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে আইনে বলা আছে, প্রথম করপোরেশন সভা থেকে মেয়াদকাল গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে প্রথম সভার দিন থেকে ৫ বছর পূর্তির ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, আমার জানামতে ২০১৫ সালের মে মাসের শুরুতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল। সে হিসেবে বর্তমান মেয়র ও কমিশনাররা ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় পাবেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন হতে পারে এমন আভাসের সত্যতা জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কি ৫ মাস নতুন মেয়র ও কমিশনাররা বসে থাকবেন। আমার ধারণা তা হবে না। ২০২০ সালের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা থাকে। এবার মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান শুরু হবে। তাই মার্চেও নির্বাচন সম্ভব নয়। এরপর হয়তো এপ্রিলের কোনো সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন আয়োজন হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, সরকারের একটি নীতিনির্ধারণী অংশ ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজন করতে চাচ্ছে। তবে তাদের সামনেও সংশ্লিষ্ট যুক্তি তোলা হয়েছে। তাছাড়া চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই সংকট হয়তো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন এখন জনগণের কাঠগড়ায় পড়েছে। তাই এই ক্ষোভের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে সরকারের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তাছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে বেশ কিছু বড় কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী লম্বা সময় দেশের বাইরে থাকতে পারে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। এর জন্যও ব্যাপক দলীয় প্রস্তুতি দরকার। এসব সামাল দিয়ে ডিসেম্বরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। তাই সরকার ও দলের ভেতরে দ্বিমত চলছে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, গত ৫ বছর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চালাতে গিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন সাঈদ খোকন। তাছাড়া নির্বাচনের আগে তিনি বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও তার অনেকগুলো এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। তবে দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি হয়েছে তা সবাই মানছেন। কিন্তু সফলতার থেকে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামে তথ্য রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে বাদ পড়তে পারেন সাঈদ খোকন। সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। তবে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলীয় মনোনয়ন বোর্ডেও বিষয়টি আলোচনা করে প্রার্থী দেওয়া হবে। 

অন্যদিকে দক্ষিণের মেয়র হিসেবে কয়েক মাস পার করেছেন আতিকুল ইসলাম। তিনিও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন। তবে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য এসেছেন আতিকুল ইসলাম। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে আরো একবার সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

২০১৫ সালের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়া হয় দুই সিটির মেয়র নির্বাচনে। তবে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাবিথ আউয়াল শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান নির্বাচন থেকে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৪ মে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বৈঠক হয় ১৭ মে। সেই হিসেবে এ বছর ১৭ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ২০ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দিন গণনা শুরু হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, তারা সরকারের সবুজ সংকেত পেলে যে কোনো সময় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads