• রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
নামমাত্র ভোটে বিএনপি 

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

চট্টগ্রাম সিটি ও পাঁচ শূন্য আসনে উপনির্বাচন

নামমাত্র ভোটে বিএনপি 

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০৩ মার্চ ২০২০

ঢাকার দুই সিটিতে বিপর্যয়ের কারণে আসন্ন নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। তবে আছে নামমাত্র অংশগ্রহণ। উদ্দেশ্য দলের দায়মুক্তি আর নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা। এদিকে নির্বাচনগুলোতে বাছাই করে প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দিয়েছে বিএনপি। বাকি কাজে ভর করেছে পিছুটান। কেন্দ্রের খেয়াল নেই নির্বাচনী এলাকার দিকে। এমনকি দৈনন্দিন সংবাদ সম্মেলনেও আসন্ন নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কোনো মন্তব্য নেই দলের। দল ও নেতাদের দায়মুক্তির ভূমিকায় থাকার কারণে ক্ষুব্ধ খোদ প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রার্থীরা আছেন পেরেশানিতে। নিজস্ব অনুগত কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভরসা করে ভোটের মাঠে আছেন। পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, প্রচার সেল গঠন এবং অর্থনৈতিক কাজকর্ম সম্পাদন করতে হচ্ছে নিজের তহবিল থেকেই। দুই সিটি নির্বাচনে নিপীড়নের ধরন ও মাত্রা দেখে এখন আর কেউ পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে ইচ্ছা প্রকাশ করছেন না। দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না স্থানীয় নেতারাও।

চলতি মাসেই শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসন এবং একটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে ২১ মার্চ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়া-১, যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচন।

পাঁচটি শূন্য আসনের মধ্যে ঢাকা-১০ থেকে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র পদে নির্বাচন করতে গত ২৯ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ইউনূস আলী, ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং গত ২১ জানুয়ারি যশোর-৬ অসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মারা যান। তাদের মৃত্যুতে আসনগুলো শূন্য হয়। আর মেয়দপূর্তির কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের।

ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচারণা শুরু হয়েছে ঢাকা, গাইবান্ধা, বাগেরহাটে। প্রার্থী বাছাই, প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দের বাকি আছে বগুড়া-যশোর ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে। যদিও নিজ নিজ দল তাদের প্রার্থী বাছাই করেছে।

বিএনপির দপ্তর সূত্রের তথ্য, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রেই তারা পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি। বেশির ভাগ কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। 

এদিকে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি এবং পাঁচটি শূন্য আসনের জন্য দলে অর্ধশতাধিক নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়াই করছেন বিএনপির ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বগুড়া-১ আসনে একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, যশোর-৬ আসনে মো. আবুল হোসেন আজাদ, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, গাইবান্ধা-৩ অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক ও বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন।  ঋণখেলাপির দায়ে কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। 

আলাপকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, এই সরকারের অধীনে আর কোনো

নির্বাচনেই বিজয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই বাস্তবতার প্রমাণ মিলেছে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনেই। ফলে উপনির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। তবে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার জন্য মনোনয়ন দেওয়াতেই দায় শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের আগে বিএনপির তরফ থেকে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দুটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। যদিও দলের নেতারাই ভোটের দিন মাঠে ছিলেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে উপনির্বাচন এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এবার বিএনপির তেমন মাথাব্যথা নেই।  কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে কোনো টিম এখন পর্যন্ত গঠন করা হয়নি। কোনো কেন্দ্রীয় নেতাও নির্বাচনী এলাকা সফর করেননি। এমনকি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিদিনের সংবাদ সম্মেলনেরও নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের কোনো বার্তা দিচ্ছেন না সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে আসেননি। আমি আমার মতো করে গুছিয়েছি, কাজ করছি। মাত্র প্রতীক পেলাম। দুদিন নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। সামনের দিনে কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন।’   

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া-১ আসনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে কেন্দ্রীয় নেতারা দেখাশোনা করবেন। তা ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জেলায় তিনি নিজেই নির্দেশনা দেবেন।

যশোর-৬ আসনে মো. আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘উপনির্বাচন তো, তাই কেন্দ্রীয় নেতারা আসেননি। আসবেন। আমি আমার প্রস্তুতি রেখেছি।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাৎ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা আসেননি। তবে আগামীকাল বুধবার স্থানীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। ৯ মার্চের পর কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রয়োজন হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘চট্টগ্রামেই তো কেন্দ্রীয় নেতা অনেক। তবে ঢাকা থেকে এখনো কেউ আসেনি। স্থানীয়ভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামীকাল বৈঠক আছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads