• শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ইসির ‘পর্যাপ্ত’ সুরক্ষা ব্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু

ফাইল ছবি

নির্বাচন

তিনটি আসনে উপনির্বাচন আজ

ইসির ‘পর্যাপ্ত’ সুরক্ষা ব্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ মার্চ ২০২০

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে।  বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ শনিবার ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরগাট-৪ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে ভোটারদের করোনা থেকে সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার

কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। করোনা থেকে ভোটারদের সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ও ব্যানারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে ইসির ‘পর্যাপ্ত’। এ অবস্থায় ভোটাররা বলছেন, ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সরকার বলছে ঘরে থাকতে। ভোট দিতে গিয়ে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে দায় কে নেবে?

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা। গতকাল বিকেলে মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর)  করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই ঝুঁকি। ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করলে অবশ্যই ঝুঁকি আছে। ইভিএম সিস্টেম যদি ব্যবহার করা হয়, অনেক ব্যক্তিকে একটি মেশিন স্পর্শ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি আছে।

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (এভিএম)। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। গতকাল শুক্রবার  রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে এই আসনের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক মালামাল বিতরণ করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য ভোট গ্রহণে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ ভোটারদের করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য দেওয়া হচ্ছে, করোনা প্রটেকশন টিস্যু, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও একটি সচেতনতামূলক ব্যানার। এ ছাড়া ইভিএম মেশিনে যেসব ভোটারের আঙুলের ছাপ মেলানোর জন্য ভ্যাসলিন ও ছোট মখমলের কাপড় দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-১০ উপনির্বাচনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘ভোটারদের বলব, আপনারা ভোট দিতে আসুন। করোনা ভাইরাস থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দিতে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে একটি সচেতনতামূলক ব্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু। ভোট দেওয়ার আগে-পরে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকক্ষে চার-পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবীও থাকবেন।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রায় চার শর মতো ভোটার থাকবেন। এসব ভোটারের জন্য ২০০ গ্রামের দুটি স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি বা কমও হতে পারে। সেই অনুযায়ী টিস্যুও দেওয়া হচ্ছে। কারণ, করোনা ভাইরাসের মধ্যে কত শতাংশ ভোট পড়বে তা নিয়ে সবাই সন্দিহান। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে চাইলেও ভোট স্থগিত করা যায় না। কারণ, এতে ইসির অনেক অর্থ নষ্ট হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি থানার নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি। ফলে ইচ্ছা না থাকলেও নির্বাচনী ডিউটি করতে হবে। ভোটকক্ষে তো অনেক লোক আসবে, এটা কীভাবে নিশ্চিত করব যে, কে সুস্থ আর কে অসুস্থ? শুধু ভোটাররা নয়, আমরা নিজেরাও ভয়ের মধ্যে আছি। একমাত্র ভরসা আল্লাহ।’  

ঢাকা-১০ আসনের ঝিগাতলার একটি কেন্দ্রের ভোটার সাইফুল ইসলাম। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সাইফুল বলেন,  ‘করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সরকারসহ ডাক্তাররা বলছেন, জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য। সেখানে কীভাবে কাল ভোট হচ্ছে সেটি আমার চিন্তায় আসে না। ভোটকেন্দ্রে তো শত শত মানুষ থাকবে। সেখানে কার শরীরে করোনা আছে আমি কীভাবে নিশ্চিত হবো। এমন তো নয় যে, সেখানে করোনা চিহ্নিতকরণ কোনো যন্ত্র আছে? তাহলে কেন মানুষ ভোট দিতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবে।’     

তিনি আরও বলেন, এখন আমি ভোট দিতে গিয়ে যদি আক্রান্ত হই (আল্লাহ না করুক) তার দায় কে নেবে? তখন আমার পরিবারকে কারা দেখবে? সরকার বা নির্বাচন কমিশন কি আমার চিকিৎসা বা পরিবারের দেখভালের ব্যবস্থা করবে? কেউ করবে না। সুতরাং আগে নিজের নিরাপত্তা তারপর ভোট।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে গতকাল আসনটির ১৩২টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন। সাদুল্লাপুরের ১১টি ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭৪৬ জন এবং নারী ২ লাখ ১১ হাজার ১০৮ জন। ভোট নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছেন।

বাগেরহাট-৪ আসনে (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আজ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৯ জন।

রিটার্নিং কর্মকতা মো. ইউনুচ আলী জানান, বাগেরহাট-৪ আসনের এই উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ভোট নির্বিঘ্ন করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন কোস্টগার্ড ও র্যাবের ১০টি টিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছেন। নির্বাচনে ২৩ জন নির্বাহী, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ২১টি ভ্রাম্যমাণ টিম এবং ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো জানান, ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট ব্যাক্স, সিলসহ সব সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন করে পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আনসার সদস্য থাকবেন। নির্বিঘ্নে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করায় ঢাকা-১০, সরকারি দলের ইউনূস আলীর মৃত্যুতে ২৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ ও মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে ৯ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসন শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী এসব আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads