• রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
ভোলার দুটি পৌরসভায় হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় আওয়ামী লীগ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

নির্বাচন

ভোলার দুটি পৌরসভায় হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় আওয়ামী লীগ

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২১

চতুর্থধাপে পৌরসভা নির্বাচনে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় তৃতীয় বারের মত মেয়র নির্বাচিত হতে হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর দীর্ঘদিন পর জয়ের স্বাদ নিতে পিছিয়ে নেই বিএনপি প্রার্থীরাও। আগামী ৩০ জানুয়ারী এই দুই পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে প্রার্থীরা দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা।

গানে গানে প্রার্থীদের পক্ষে চলছে মাইকিং। ব্যানার আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর থেকে পাড়ামহল্লা অলিগলী। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে গণসংযোগ পাশাপাশি মিছিল পথসভা আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আর সেই সুযোগে ভোটাররাও তুলে ধরছেন তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া।

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের চতুর্থধাপে ভোলার ২টি পৌরসভায় ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন ৫ মেয়র প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার পদে ১৩ জন ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। ২টি পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৭১৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৩৯৫ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৩২১ জন। এখানে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম ও বিএনপির মনিরুজ্জামান কবির। এছাড়া ৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলার পদে ৩১ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার পদে ৫ জন ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। কাউন্সিলার পদে ৭নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাজউদ্দিন আহমেদ। এই পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

অপরদিকে দৌলতখান পৌরসভায় মোট ভোটার ১২ হাজার ৬০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭০৮ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৮৯৮ জন। এখানে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন তালুকদার ও বিএনপির আনোয়ার হোসেন কাকন। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলার পদে ২৮ জন, সংরিক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার পদে ৮ জন ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এই পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

সরজমিনে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকা বিভিন্ন প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় গত ১০ বছরে রাস্তা, ব্রীজ, কালভাট, শহরের রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত নির্মান, দৃষ্টিনন্দন খেয়াঘাট নির্মান, সুন্দর্য বর্ধনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সরকার দলীয় সমর্থন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান পৌর সভার মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। দিন-রাত নিজের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পথ সভা আর উঠান বৈঠকের পাশাপাশি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। অপরদিকে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান কবিরকে নিজের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় তেমন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। দলের হাই কমান্ডের চাপে নির্বাচনের মাঠে কিছু নেতা-কর্মী কবিরের পক্ষে আইওয়াশ প্রচারণায় নামেন। তবে ধানের শীষ প্রতিক প্রার্থীর অভিযোগ নেতাকর্মীরা প্রচার প্রচারণায় আসতে পারছেনা। তাদের মধ্যে ভয় ভিতি কাজ করছে। তবে মাঠে দেখা না গেলেও বিএনপির প্রচারণা মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

এদিকে দৌলতখান পৌরসভা নির্বচনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. জাকির হোসেন তালুকদার। আর বিএনপি দলীয় প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাকন। বিএনপি দলীয় প্রার্থীর অভিযোগ তারা প্রচার প্রচারণায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জাকির হোসেন তালুকদার বলছেন এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিএনপি আমলে তাদের নেতা-কর্মীরা যে নির্যাতন-নিপিড়ন চালিয়েছে তার প্রতিউত্তর পাওয়ার আতঙ্ক থেকে তারা এসব কথা বলছে। তবে তারা দুজনেই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন আল মামুন জানান, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য প্রর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্র প্রর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র একজন করে নির্বাহী মেজিস্ট্রেট থাকবে। নির্বাচনী এলাকায় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ৩জন করে নির্বাহী মেজিস্ট্রেটকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী এলাকায় আইশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

আগামী ৩০ জানুয়ারি এই দুই পৌরসভার ২৩ হাজার ৩২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads