• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করুন

রাস্তায় কোনো বাস নামাননি মালিক-শ্রমিকরা, ঢাকার সড়ক ছিল ফাঁকা। ছবিটি শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে তোলা

ছবি : তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকী

সম্পাদকীয়

গণপরিবহন সঙ্কট

নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করুন

  • প্রকাশিত ০৪ আগস্ট ২০১৮

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে পরিবহন সঙ্কট। ছয় দিনব্যাপী চলমান এই বিক্ষোভে এখন ছাত্ররাই সড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে। তারাই পরীক্ষা করছে লাইসেন্স, লেন মেনে গাড়ি চলাচলে বাধ্য করছে, পথচারীদের ফুটপাথ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা, এমনকি তাদের আইন-শৃঙ্খলার কাছে হার মেনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও পথে চলাচল করতে হচ্ছে। যার ফলে সরকারি গাড়িচালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। যে কারণে ছোটদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে বলতে দ্বিধা করেননি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

কিন্তু ছাত্রদের এই রাজপথ দখলের প্রতিবাদে পরিবহন মালিক সমিতি তাদের পরিবহন রাস্তায় না নামানোয় চরম সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে, বিশেষত অফিসগামী মানুষদের। আর এর সুযোগ নিচ্ছে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি, পাঠাও-উবারের মতো বাহনগুলো। দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ায় চলতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ঘরের বাহির হওয়া জনসাধারণকে। অতীতেও আমরা দেখেছি, জাতীয় কোনো সঙ্কট-মুহূর্তে সুযোগসন্ধানী এসব বাহন মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে থাকে। বিশ্বের আর কোনো দেশে এই অপতৎপরতার নজির আছে বলে শোনা যায় না। এর ফলে সব থেকে বিপদে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। সুতরাং এ আন্দোলনের একটা যৌক্তিক সমাধান প্রয়োজন। ছাত্রদের নয় দফা দাবি ইতোমধ্যে সরকার মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদেরও উচিত সরকারের ঘোষণার প্রতি আস্থা রেখে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তারা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং রাস্তায় চলাচলে আইন-শৃঙ্খলা মানার লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণপরিবহন চালক ও যাত্রীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করতে পারে।

পাশাপাশি পরিবহন মালিক সমিতিরও বোধোদয় হওয়া দরকার, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিনিয়ত যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তা তাদের চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফসল। তারা এ অন্যায় কাজকে সমর্থন দিয়ে পরিবহন বন্ধ রাখতে পারে না। বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তাকে পুঁজি করে জনসাধারণকে হয়রানি ও জিম্মি করা সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না।

এ অবস্থায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনগণের স্বার্থেই কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানোর পাশাপাশি পরিবহন মালিক সমিতিকেও রাস্তায় পরিবহন চলাচলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন গাড়ি পরিত্যাগ, প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী গাড়িচালক এবং সড়ক আইন মানার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। ‘সড়কে আর নয় মৃত্যু’—এই আশার বাণী বুকে নিয়ে দেশের মানুষও তাকিয়ে আছে রাষ্ট্রের দিকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংসদে ‘সড়ক আইন’ উত্থাপনের যে নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছি। সবার জন্য একটি কল্যাণকামী আইন মৃত্যুহীন সড়ক আমাদের উপহার দেবে-

এটাই কামনা। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads