• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
যাত্রী ভোগান্তি দূর করুন

রাজধানীতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভীড়

সংগৃহীত ছবি

সম্পাদকীয়

ঈদে ঘরমুখো মানুষ

যাত্রী ভোগান্তি দূর করুন

  • প্রকাশিত ১৮ আগস্ট ২০১৮

প্রতি ঈদেই ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় মহাসড়কে যানজট। কিন্তু এবার আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৩টি সেতু উদ্বোধন করায় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের কাজের অগ্রগতি হওয়ায় উত্তরাঞ্চলগামী মানুষের ঈদযাত্রায় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে ঢাকা থেকে মহাসড়কের চার লেন এলাকা পর্যন্ত এবং এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে উঠতে যানজটের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আবার ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কি.মি. পর্যন্ত যানজট তৈরি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেরি পারাপারের বিষয়টি। প্রতিবারই ঈদ মৌসুমে বর্ষাকালে তীব্র স্রোতে, আবার শীতের সময় ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রা ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে বিপর্যয় থেকেই যায়। এসবের সঙ্গে এবার যদি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, তবে এ দুর্ভোগ বেড়ে যাবে- সন্দেহ নেই। তথাপি ঈদে এই ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ করে যেতে হবে।

এরই মধ্যে আবার অনেক সড়ক-মহাসড়কে মেরামতের কাজ চলছে, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে। মেঘনা সেতু, গোমতী সেতুসহ বিভিন্ন সেতুতে ওজন মাপার সময় অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারির দৈর্ঘ্য বেড়ে ভীষণ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ কোচ সার্ভিস চালু হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ আরো বেড়ে গেছে। তা ছাড়া ঈদুল আজহার সঙ্গে যেহেতু কোরবানির প্রশ্ন জড়িত, সেহেতু সড়কে থাকবে পশু বোঝাই ট্রাক। ফলে স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন তো ঘটবেই। কিন্তু মহাসড়কগুলোর কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্টে এই যানজটের তীব্রতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হতে পারে।

আমরা জানি, সড়ক, রেল ও নৌপথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তারপরও সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের উচিত জনগণের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যাপারে সদা তৎপর থাকা। এক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে গাবতলী, চন্দ্রা, আশুলিয়া, এলেঙ্গা, পাটুরিয়াঘাট, মহাখালী, ময়মনসিংহ সড়ক, সায়েদাবাদ, মেঘনা-গোমতী সেতু, মাওয়াঘাট ইত্যাদি বিশেষ কিছু পয়েন্টে যানজট নিরসনে আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের লোকজন আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ— নিজেদের দুর্ভোগ। সুতরাং মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় যে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ রয়েছে তা দূর করতে এখনই কাজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা দরকার। আমরা বিশ্বাস করি, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন করা সম্ভব হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads