• বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৪
ads

সম্পাদকীয়

নারী ও শিশুর প্রতি পাশবিকতা

মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলুন

  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০১৯

দেশে এখন নারী ও শিশু নির্যাতনের মহোৎসব চলছে। গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। তেমনি একটি খবর ‘আর কত পাশবিকতা’ গতকাল দৈনিক বাংলাদেশের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। খবরে প্রকাশ, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অধিবাসী এক হতদরিদ্র ভ্যানচালকের কন্যা সাথী যৌতুকের কারণে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা ও তার মাথার চুল কেটে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমানে সাধারণ মানুষ থেকে উচ্চ মহল পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন কতখানি অর্জিত হয়েছে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। ২০১৯ সালের শুরুর দিন থেকে প্রতিদিনই এক বা একাধিক ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৮’ শীর্ষক এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩২ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। প্রকৃত চিত্র যে আরো ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা নানা কারণেই নারীবিষয়ক যে কোনো নির্যাতন বা সমস্যাকে আমাদের দেশের পরিবার-সমাজ পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে গোপন করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে গত বছর ধর্ষণ ও অপহরণের পর হত্যা, আত্মহত্যা, যৌন হয়রানি প্রভৃতি কারণে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ১১ জন শিশু।

ক্রমশ বিচারহীনতা, আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষ হরহামেশাই আক্রান্ত হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। আমাদের নীতিবোধ আজ অবক্ষয়ের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি তার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে অনেক। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারী ও শিশু অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে পদে পদে। এখন সময় এসেছে, যারা এই অপকর্ম করে, তাদের শাস্তির বিধান করা। সুতরাং নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধ দমনে বিদ্যমান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর প্রয়োগ কঠোর হাতে করতে হবে। বর্তমানে সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ৯৯৯ জাতীয় হেল্পলাইন নম্বরের সঙ্গে ১০৯ নম্বরও চালু করেছে। দেশের নাগরিকদের এগুলোকে ব্যবহার করে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।

নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে আইনের কোনো অভাব নেই। এমনকি বর্তমানে নারী ও শিশুর জীবনধারাকে কণ্টকমুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের নানা উদ্যোগও প্রশংসনীয়। শুধু প্রয়োজন পারিবারিক ও সামজিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রণীত আইনের কঠোর প্রয়োগ। আর এ কারণেই সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাও প্রয়োজন। আর তার জন্যে জরুরি নৈতিক শিক্ষা। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টিসহ ব্যক্তিপর্যায় থেকেও এগিয়ে আসতে হবে। এখন সময় হয়েছে সম্মিলিতভাবে সমাজঅভ্যন্তরে মানবিকতার বীজ বপন করা। তবেই সমাজ-মানুষের জীবনধারায় পরিবর্তন ঘটবে, তারা সচেতন হবে এবং পারিবারিক-সামাজিকভাবে পারস্পরিক মমতা ও শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads