• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

সম্পাদকীয়

প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে হবে

গড়ে উঠুক বইকেন্দ্রিক আন্দোলন

  • প্রকাশিত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বইমেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইপাঠের গুরুত্ব বলতে গিয়ে যথার্থই বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিসত্তার স্বকীয়তা বিনির্মাণের লক্ষ্যে বইপাঠের ওপরই গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। আমরা জানি, বই মানুষের কল্পনাশক্তিকে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি মনের ভেতর নিজস্ব জগৎ তৈরি করে। বইপাঠের মাধ্যমে মানুষের হূদয়ে দয়া, বিনয় ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। এসব কারণে বই পড়া খুব জরুরি। এ কারণেই প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানদের হাতে বেশি বেশি বই তুলে দেওয়া। কেননা বইপাঠের অভ্যাসকে নতুন প্রজন্মের মাঝে জাগরিত করতে পারলে সব বাজে ও ক্ষতিকর নেশার কবল থেকে রক্ষা পাব আমরা।

অপরপক্ষে সমাজের বাস্তবতায় অনেকটা দুঃখ করেই বলতে হয়, এ সময়ের অভিভাবকরা সন্তানদের সহজে বই কিনে দিতে চান না। অনেকে মনে করেন বই কেনার টাকাটাই বুঝি গচ্চা গেল। প্রশ্ন হলো, এই বাবা-ময়েরাই পরিশীলিত ও মানবীয় সুসন্তান প্রত্যাশা করেন কীভাবে। এই বাবা-মায়েরাই নির্দ্বিধায় চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বা অভিজাত হোটেলে বসে এক-দুই হাজার টাকা অবলীলায় খরচ করতে কার্পণ্য করেন না। আমাদের এই মানসিকতাই দিনকে দিন বই পড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মকে।

বই হচ্ছে মানুষের বিনোদনের অন্যতম বড় উৎস। বইমেলা ঘুরে এমনও দেখা গেছে, শিশু-কিশোররা তাদের ইচ্ছেমতো বা পছন্দমতো বই কিনতে পারছে না। এর পেছনে কারণ দুটি- ১. বাবা-মায়ের অনীহা, ২. বই কেনার বাজেট কম। এমনও দেখা যায়, শিশু-কিশোরদের ইচ্ছা ও আগ্রহকে তুচ্ছ করে, তাদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে মেলা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দেখা গেছে মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে বের হয়েই সন্তানদের নিয়ে ফুচকা, আইসক্রিম, বার্গার বা পিৎজা খাইয়ে বই না কিনতে পারার দুঃখটি ভুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকাশের বিপক্ষে অভিভাবকদের এই অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা প্রত্যাশিত।

প্রজন্মকে বই পড়তে দিতেই হবে। সেটা প্রিন্ট ভার্সন হোক কিংবা নেট ভার্সন বা ই-বুক। তবে প্রিন্ট ভার্সন বা কাগজে মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্ব ও আবেদন সবসময়ই থাকবে। তাই বইয়ের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে শৈশব থেকেই এ বোধ জাগিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শুধু পাঠ্যবই পড়া আর পরীক্ষার চাপ কমাতে হবে। আমরা অনেকভাবেই নিজেদের পরিবারের মাঝে বইপড়া, সংগ্রহ করা এবং বই উপহার দেওয়ার রীতি চালু করতে পারি। প্রথমে ঘর থেকেই শুরু করা যায় বইকেন্দ্রিক সামাজিকতার আন্দোলন। পরিবারের সদস্যদের বিয়ে, জন্মদিন, বিশেষ সাফল্য অর্জন, বিদেশযাত্রা, বিশেষ দিবসে অন্য উপহারের পরিবর্তে বইকে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। আমরা যদি বিয়ে বা জন্মদিনে দাওয়াতে বই উপহারকে বেছে নিই, তাহলে অনেক ধরনের এবং অনেকগুলো বই উপহার দেওয়া সম্ভব। সমাজে এই প্রচলন ছড়িয়ে দিলে দেশব্যাপী বইপড়া আন্দোলন জোরদার হবে। তবে সেই সঙ্গে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণকেও জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads