• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

সম্পাদকীয়

ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস

বিভ্রান্তির অবসান হোক

  • প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি পূরণে সরকার ধানের নতুন জাত ‘গোল্ডেন রাইস’ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মাত্র ১৫০ গ্রাম গোল্ডেন রাইস এক ব্যক্তির এক দিনের ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদার অর্ধেক পূরণ করবে। কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী দুই কী তিন মাসের মধ্যেই গোল্ডেন রাইসের ছাড়পত্র পাওয়ার কথা। উল্লেখ্য, ভিটামিন ‘এ’ ও বিটা-ক্যারোটিন যুক্ত ‘গোল্ডেন রাইস’ আবিষ্কার করেছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই)। সোনালি বর্ণের এই ধান পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বলা হয়েছে, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯-এর মতোই গোল্ডেন রাইসের উৎপাদন পাওয়া যাবে। এই চালের রং হবে  গোল্ডেন। ইরি বলছে গরিব মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য একটি অনন্য আবিষ্কার। এই ধান অন্য জাতের মতোই সহজ ও সুলভ চাষাবাদযোগ্য। খরচ সাধারণ চালের মতোই। আন্তর্জাতিক রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইআরআরআই) তথ্যে জানা যায়, বাজারে পাওয়া অন্যান্য জাতের চালের মতোই নিরাপদ হিসেবে গোল্ডেন রাইসকে অনুমোদন দিয়েছে হেলথ কানাডা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া জৈব প্রযুক্তি প্রকৌশলের মাধ্যমে রূপান্তরিত এই ধানের অনুমোদন দিয়েছে।

আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় জানা যায়, আমাদের দেশে ছয় মাস থেকে ৫ বছর বয়সী কমপক্ষে শতকরা ২০ ভাগ শিশু এবং প্রতি দশজনে একজন গর্ভবতী নারী ও প্রসূতি মাতা ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত অপুষ্টিতে আক্রান্ত। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি রাতকানা রোগের প্রধান কারণ। পৃথিবীর প্রায় ৪৫টি দেশে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব থেকে মুক্তির জন্য শিশুদের বছরে অন্তত দু’বার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। তাহলে উন্নয়নশীল-অন্নুয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম সমস্যা পুষ্টি ঘাটতি পূরণে গোল্ডেন রাইস বিরাট আশীর্বাদ হতে পারে।

গোল্ডেন রাইস জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভুট্টা থেকে এ সংশ্লিষ্ট জিন সন্নিবেশ করে এ ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলার মহৎ উদ্দেশ্যে উদ্ভাবকরা এশিয়ার দরিদ্র ও সম্পদবঞ্চিত কৃষকদের স্বত্ববিহীন উপহার হিসেবে গোল্ডেন রাইস দান করেন। জেনেটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) ধান গোল্ডেন রাইস প্রকল্পের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং মার্কিন সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ এরা করবে এমনটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

দেশের কৃষি খাত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে গোল্ডেন রাইসকে কৃষকের সার্বভৌমত্ব বিনাশী উল্লেখ করে বাংলাদেশের মাটিতে এর চাষ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনসহ কয়েকটি সংগঠন। বাংলাদেশ রাইস রিচার্স ইনস্টিটিউটের (বিরি) বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই ধান শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব পূরণ করবে। শিশুদের রক্ষা করবে রাতকানা রোগ থেকে। বিজ্ঞানীরা না জেনে, না বুঝে এমন কথা বলতে পারেন না। কেননা, তাদের ওপর দেশের মানুষের অনেক আস্থা। আমাদের প্রত্যাশা এ বিষয়ে যারা নেতিবাচক কথা বলছেন তাদেরকে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। একটি ভালো উদ্যোগ নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সুস্পষ্ট জবাব থাকলে সাধারণ জনগণ

বিভ্রান্ত হবে না।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads