• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
এমন মৃত্যুদৃশ্য কাম্য নয়

রাজধানী ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় মৃত লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা

ছবি : সংগৃহীত

সম্পাদকীয়

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি

এমন মৃত্যুদৃশ্য কাম্য নয়

  • প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আজকাল প্রায়ই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে বগুড়ার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ডিপোতে, সেখানে একসঙ্গে ৩০০ সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। বিপিসির এলপি গ্যাস ডিপোতে ট্রাক থেকে নামানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও অগ্নিকাণ্ডে তিন শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডারসহ একটি ট্রাক সম্পূর্ণ ও দুটি ট্রাক আংশিক আগুনে পুড়েছে। আর এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, বিপিসির বেশিরভাগ সিলিন্ডারই মেয়াদোত্তীর্ণ।

এবার তারই প্রমাণ মিলল পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় শতাধিক নিহত ও আহত হওয়ার খবরে। ২০১৬ সালের ওই ঘটনার মতো ঠিক একইভাবে পিকআপ ভ্যানে রক্ষিত একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরপরই সঙ্কীর্ণ পরিসরের লোকে লোকারণ্য পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টার একটি হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। সেখান থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার এবং গুদামজাত বডি স্প্রের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এর আগে এই পুরান ঢাকার নিমতলী ট্র্যাজেডি এখনো মানুষকে ভাবায়। তার রেশ কাটতে না কাটতে চকবাজারের এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দিল রাষ্ট্রীয়ভাবেও আমাদের ব্যর্থতা। বহু আগেই এখানকার বাসাবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। অথচ সরকারি বা ব্যক্তিপর্যায়ে আমাদের দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতা সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হলো। এরপরও কি আমরা শুধরাব না? এ দায় একা শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদেরও।

বর্তমানে দেশের সর্বত্রই মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের খবর। ২০১৬ সালে বগুড়ায় বিপিসির ওই দুর্ঘটনার পর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার সিলিন্ডার বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যবর্তী ১০ বছরেরও অধিক সময়ে অনেক সিলিন্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফিলিং স্টেশন, স্টোর কিংবা ডিলার পর্যায়ে অনেক সময় এগুলো এড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ত্রুটিপূর্ণ, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার চলে যায়। আর এই অসচেতনভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার থাকা বাসা অথবা গাড়িগুলো বয়ে বেড়াচ্ছে ‘মৃত্যুবোমা’।

বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান বলছেন, সিলিন্ডার নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি অধিদফতরের পক্ষে সম্ভব নয়। কোম্পানিগুলোর স্টোর পর্যন্ত এর মান নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডিলার কিংবা গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডারগুলো যখন রিফিল করা হয়, তখন কোম্পানিগুলো নিজস্ব তদারকিতে এগুলোর পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে। আমরা জানি, বেসরকারি পর্যায়ে বেশিরভাগ এলপি গ্যাস উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে বসুন্ধরা, ওমেরা এবং বিএম এনার্জি। এমতাবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের সুপারিশ থাকবে, দেশে রি-টেস্ট সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হোক। তাছাড়া ডিলার কিংবা গ্রাহকপর্যায়ে কোনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ওই সিলিন্ডার যে কোম্পানির হবে, সেই কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার বাজারজাত করার কারণে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে। সর্বোপরি, ডিলার ও গ্রাহকপর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করা জরুরি।

একই সঙ্গে নিমতলী ও চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির ভেতর দিয়ে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে। পুরান ঢাকার বসবাসের ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। ঢাকার উন্নয়নে যেভাবে সরকার নতুন নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেখানে পুরান ঢাকার সংস্কার কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেখানকার সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবন-জীবিকার কথা ভেবে এখনই নিতে হবে নতুন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত। নতুবা ভবিষ্যতেও দেখতে হবে এমন নারকীয় মৃত্যুদৃশ্য, যা মোটেই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads