• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ বিমান ছিনতাই নাটকের অবসান

প্রয়োজন যুগোপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা

  • প্রকাশিত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

একটি ভাড়া করা বিমান দিয়ে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ। এরপর ওই বছরের ৭ মার্চ সিলেট ও চট্টগ্রামে যাত্রার ভেতর দিয়ে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা। কিন্তু বাংলাদেশের ৪৭ বছরের জীবনে এবারই প্রথম দেশের কোনো বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা পরিলক্ষিত হলো। আশার কথা, পুলিশ-র্যাবসহ সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে শিহরিত বিমান ছিনতাই নাটকের অবসানে রুদ্ধশ্বাস অভিযান সফলভাবে শেষ হয়। এর মাধ্যমে বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন যাত্রী, পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৪৭ জন।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের বিজি-১৪৭ ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাচ্ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বেড়াজাল ডিঙিয়ে কীভাবে অস্ত্রসহ দুবাইগামী এই ফ্লাইটে উঠে পড়ল ছিনতাইকারী? এমনকি চট্টগ্রাম থেকে বিমান ছাড়ার পরে মাহাদি নামক এই ছিনতাইকারী অস্ত্র ও শরীরে বোমা বাঁধা অবস্থায় এক কেবিন ক্রুকে জিম্মি করে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সৌভাগ্যই বলতে হবে, অন্যান্য কেবিন ক্রুদের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তায় সংবাদটি দ্রুত ককপিটে পাইলট ও সহকারী পাইলটের কাছে পৌঁছে যায়। পরে পাইলট মো. শফি ও সহকারী পাইলট মো. জাহাঙ্গীর দ্রুত ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগের মাধ্যমে অবতরণ করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমানের নেতৃত্বে মাত্র আট মিনিটে বিমান ছিনতাইয়ের তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকের অবসান ঘটে। কিন্তু দ্রুত এই নাটকের অবসানে ছিনতাইকারী মাহাদিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পরে সে মারা যায়।

যদিও বলা হচ্ছে, মাহাদি অপ্রকৃতিস্থ ছিল; কিন্তু আমরা মনে করি জীবিত মাহাদিকে ধরা গেলে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বিমান ছিনতাই নাটকের অনেক গূঢ় তথ্য হয়তো বেরিয়ে আসত। এর আগে ১৯৭৭ সালে জাপানি এক বিমান ছিনতাই হয়ে ঢাকার আকাশে আসে। বিমানটি জিম্মি হয়েছিল মুম্বাইয়ের আকাশে এবং উদ্ধার হয় আলজেরিয়ায়। তবে আমাদের ভাবতে হবে, বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ বিমানের চাকার সঙ্গে ঝুলে নিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছাড়তে চেয়েছিল মাহবুব নামের এক যুবক। তদুপরি প্রায়ই স্বর্ণচোরাচালানসহ মাদকের মতো বস্তুও এই বিমানবন্দর থেকেই আনা-নেওয়া হচ্ছে, যা কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েও থাকে। কিন্তু উন্নত কারিগরি ব্যবস্থার ভেতরে চোরাচালান মাঝে-মধ্যে ধরা গেলেও জ্বলজ্যান্ত একটি মানুষ ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই বিমানের চাকায় পিষ্ট হয় কীভাবে? কিংবা সশরীরে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমাসদৃশ বস্তু সহকারে বিমানের অভ্যন্তরে উঠে পড়ে কোন ফাঁকফোকরে? এ বিষয়গুলো মূলত বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এখানে কর্মরত কর্তাব্যক্তিদের অসচেতনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়ের আভাস দেয়।

যদিও এই ছিনতাই নাটকের অবসানের পর রুটিন অনুযায়ী বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হবে এবং ইতোমধ্যে হয়েছেও। কমিটি যথারীতি একটি প্রতিবেদনও দাখিল করবে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন কতটুকু হবে তা নিয়ে থেকে যায় সংশয়। কেননা অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এরকম অনেক তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের সামনে আসেনি, এমনকি আলোর মুখও দেখেনি। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিদেশি বিমান মধ্য আকাশ থেকেই লাপাত্তা হয়ে গেছে। যার হদিস আজো মেলেনি। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবেই বাংলাদেশ বিমানের নিরাপত্তায় যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণে কালবিলম্বের অবকাশ নেই। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত মনোনিবেশ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।        

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads