• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

সম্পাদকীয়

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

দেশপ্রেমের জাগরণ ঘটাতে হবে

  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০১৯

অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। আর এখন অনেক বাধা পেরিয়ে, অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় দেশটি। যদিও অতীতের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা, অনাদর্শিক দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণে অফুরন্ত সম্ভাবনাময় দেশটিকে আমরা সঠিক সময়ে জাগিয়ে তুলতে পারিনি। তবুও হতাশার মধ্যে আশার আলো খুঁজতে হবে। কারণ রাজনীতিতে ত্যাগী, ইতিবাচক, দূরদর্শী মানুষও আছে। সঠিক লোককে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করতে জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানতম জাতীয় ইস্যুগুলোতে একমত হতে পারছে না আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক, মুক্তিযোদ্ধাদের যার যা ভূমিকার মূল্যায়ন, আমাদের বাঙালিত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শে সবার একমত হওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা রাখার সময় এসেছে এখন।

আমাদের জাতীয় জীবনের আদর্শিক পরিবর্তনে জাতির জনকের একটি ভাষণ স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘এই শিক্ষিত লোকদের মধ্যেই রয়েছে ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ। আমাদের চরিত্রের সংশোধন করতে হবে। আত্মশুদ্ধি করতে হবে। গরিব কৃষক শ্রমিক আপনাদের মাইনে দেয়। আমরা গাড়ি চড়ি এই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন। ইজ্জত করে কথা বলুন; ওরাই মালিক। ওদের দ্বারাই আপনার সংসার চলে।’ আজ ৪৮ বছর পর বঙ্গবন্ধুর এই বক্তৃতার মাজেজা বুঝতে আর অসুবিধা হয় না।

স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষিত মানুষ, দুর্নীতির প্রবণতা ও দুর্নীতিবাজের সংখ্যাও। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি নামক ভয়ানক ক্যানসার। এদেশের রাজনীতি থেকে আদর্শ দূরীভূত, ব্যবসায়ীর নেই নৈতিকতা, শিক্ষকতায় আদর্শের চর্চা নেই, চিকিৎসকের নেই সেবার মনোভাব, অন্যসব পেশাগুলোও বিচ্যুত হয়ে পড়েছে আদর্শ আর সততার ছায়াতল থেকে। তাই এসব অভ্যাসের পরিবর্তন আনতে হলে উদ্যোগটিও আসতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই। উন্নত দেশগুলোতে ছোট ছোট অপরাধের তাৎক্ষণিক বড় শাস্তি কার্যকর হয়। অভ্যাস পরিবর্তনে এটি টনিক ট্রিটমেন্ট। রোড সিগন্যাল মেনে চলা, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলা, প্রচলিত আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রকে আয়কর দেওয়া, সঠিক নিয়মে ভ্যাট প্রদান, ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি-ছিনতাই, ধর্ষণ-অপহরণ, শিশু ও নারী নির্যাতন, খাদ্যে ভেজাল, চিকিৎসায় বিড়ম্বনা, জাল-জালিয়াতি, পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা প্রভৃতি অপরাধের তালিকা প্রণয়ন করে বিশেষ আদালতে তাৎক্ষণিক  জেল-জরিমানা করতে হবে। ছোট অপরাধে দ্রুত শাস্তি প্রয়োগ হলে বড় অপরাধের প্রবণতাও কমে আসবে। আইনের শাসন মেনে চলবে। রাষ্ট্র ও সরকারকে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছোট অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দেশের শিল্প সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তাদের বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী করতে হবে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ অবারিত করতে হবে। তরুণ সমাজকে শিক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে শিগগির কিছু পরিবর্তন ঘটবে।

সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদীরা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে অপসংস্কৃতির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো বিদেশি সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নিজস্ব সংস্কৃতি হারাতে বসেছে। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে তাদের অপসংস্কৃতিগুলো গরিব ও মুসলিম দেশগুলোর ওপর চালিয়ে দিচ্ছে। পরিণতির প্রতিফলন আমরা দেখছি। বলতে গেলে বাংলাদেশের মতো শান্তিপ্রিয় ধর্মনিরপেক্ষ দেশ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এদেশে পূজা-পার্বণ, ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালিত হয় সম্মিলিতভাবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। সংখ্যালঘু বা ভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকারি ছুটি হয় সম্ভবত কেবল বাংলাদেশেই। তাই নানান অজুহাতে বাংলাদেশের মুক্ত সাংস্কৃতিক আভিজাত্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুদৃঢ় অবস্থানকে ভণ্ডুল করার পাঁয়তারা করছে বিশ্বচক্র। সুতরাং এসব বিষয়ে আমাদের আরো সচেতন, সোচ্চার, কৌশলী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads