• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

সম্পাদকীয়

লাইলাতুল বরাত পালিত

ইহ ও পারলৌকিক জীবন শুদ্ধির রাত

  • প্রকাশিত ২৩ এপ্রিল ২০১৯

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান পালন করল পবিত্র শবেবরাত। গত ২১ তারিখ রোববার দিবাগত রাতে সারা দেশের মসজিদ-মাদরাসায় রাতভর আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও ক্ষমাপ্রার্থনার আশায় মুসলমান সম্প্রদায় জিকির-আসকার আর নামাজ ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার গুণকীর্তনে মশগুল ছিল।

শবেবরাত লাইলাতুল বরাত নামেও পরিচিত। এ রাতকে ভাগ্য রজনীর রাত হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। আরবি শব্দ ‘লাইলা’ অর্থ রাত, আবার ফার্সি শব্দ ‘শব’ মানেও রাত। আর ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য। আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত নাজাতের রাত হিসেবে গণ্য করে থাকেন বিশ্বের সব ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এ রাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, সালাতুল তাসবিহ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়সহ বাবা-মার কবর জিয়ারতও করেন। মূলত এসবের মাধ্যমে ধর্মভীরু মুসলমান পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার দিদার লাভের আশায় ক্ষমাপ্রার্থনায় মশগুল থাকেন।

যেসব শ্রেষ্ঠ রাত মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে দান করেছেন, তার মধ্যে লাইলাতুল বরাত বা শবেবরাত অন্যতম। এই রাত এতই তাৎপর্যপূর্ণ যে, উক্ত রজনীতে মানবজাতির জন্ম-মৃত্যুসহ জীবনের সবকিছুই মহান রাব্বুল আলামিন কর্তৃক নির্ধারিত হয়। হজরত নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, লাইলাতুল বরাতের রাতে তোমরা জাগ্রত থাক এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। কারণ এ রাতে আল্লাহপাকের রহমতের দৃষ্টি বান্দার প্রতি বর্ষিত হয়। এ বরকতপূর্ণ রজনীতে মহান আল্লাহতায়ালা বলতে থাকেন, তোমাদের যার যা প্রয়োজন আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি আজ তোমাদের সব কামনা পূর্ণ করে দেব।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রসুল (সা.) এ মাসের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান হলো উম্মতের মাস। রসুল (সা.) রজব ও শাবান মাসের অত্যধিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যের প্রতি লক্ষ রেখে “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান”- এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন এবং উম্মতকে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। যার অর্থ হচ্ছে- ‘হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবানের সব বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ এ মাসে রয়েছে বিশেষ ফজিলতময় শবেবরাত। তাফসিরবিদদের মতে, আল-কোরআনে সুরায়ে দোখানের প্রথম আয়াতগুলোতে শবেবরাতের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এ রাতকে ‘লাইলাতুসসফ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর বরকতময় হওয়া ও রহমত নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর তিনটি স্বর্ণোজ্জ্বল যুগ তথা সাহাবা, তাবেঈন ও তবয়ে তাবেঈনের যুগেও এ রাতের ফজিলত থেকে উপকৃত হওয়ার বিশেষ গতি ও গুরুত্ব ছিল। সেই যুগের মানুষেরাও এই রাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করেছেন। তাই এ রাতে দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা ও ইবাদত করা সওয়াবের অসিলা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে নিঃসন্দেহে।

এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেকে অজ্ঞতাবশত পাপিষ্ঠ শয়তানের প্ররোচনায় বিদআতসহ বিভিন্ন ধরনের গুনাহর কাজে লিপ্ত হন। যেমন— পটকাবাজি, আতশবাজি, আলোকসজ্জা, স্বজনদের বাড়িতে পিঠা বিতরণ, কবরস্থানে পুষ্প অর্পণ, কবরে বাতি জ্বালানো, কবরে গিলাফ বা চাদর টাঙানো, মাজারে ভক্তি করা, কবরে সেজদা দেওয়া ইত্যাদি। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কোনো ফজিলত, বরকত তো নয়ই; বরং কুসংস্কার ও গর্হিত গুনাহর কাজ। এসব কুসংস্কার পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তবে আশার কথা হচ্ছে, এবার পটকা বা আতশবাজি ফোটানো থেকে নগরবাসী অনেকটাই রক্ষা পেয়েছে। এজন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাতে হয়। পবিত্র লাইলাতুল বরাত আমাদের ইহ ও পারলৌকিক জীবনের পূর্ণতাপ্রাপ্তিতে সহায়ক হোক- এই প্রার্থনা করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads