• রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সম্পাদকীয়

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা

বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

  • প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল ২০১৯

এখন বলতে হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমেই জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিরিজ বোমা হামলা তারই ফল। এ হামলায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ও পাঁচ শতাধিক আহত মানুষের আহাজারি আমাদের বেদনার্তই করেনি শুধু; বরং মানবসভ্যতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলেছে। বিশ্ব কি ভুলতে পেরেছে মাত্র কিছুদিন আগে সংঘটিত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার কথা? এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা প্রমাণ করে, একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়েই এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ন্যক্কারজনক হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি আট বছরের শিশু জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। ইতোমধ্যে ইসলামিক স্টেট তথা আইএস হামলার দায় স্বীকার করেছে।

দৃশ্যত ইরাক ও সিরিয়ায় এখন কথিত আইএস পর্যুদস্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে তারা পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ, বিশেষ করে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল দেশগুলোতে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দরিদ্র, অনুন্নত এবং উন্নয়নকামী দেশগুলোকেই তারা বেছে নেবে, এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, শ্রীলঙ্কান পুলিশের কাছে এ ধরনের হামলা হতে পারে বলে খবর থাকা সত্ত্বেও তারা কেন কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি! আগামীতে তদন্তে সব খবর বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস করি। কিন্তু যেসব প্রাণের বাতি নিভে গেল, তার ক্ষতিপূরণ হবে কীভাবে? অস্বীকারের উপায় নেই যে, এই দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ তার নতুন চেহারায় আবির্ভূত হচ্ছে। সুতরাং বিশ্বনেতাদের নতুন করে ভাবতে হবে; নিজ দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং জঙ্গিদের সব নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।  

আমরা মনে করি, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তাদের দ্বারাই সম্ভব যারা বিপথগামী; তাদের কোনো দেশ থাকতে পারে না কিংবা ধর্ম। পৃথিবীতে বিরাজমান সব ধর্মের সারবত্তাই হলো শান্তি। হত্যা, সহিংসতা, অরাজকতা সৃষ্টি কোনো ধর্মই বরদাশত করে না। অথচ খেয়াল করলে দেখা যাবে, যখনই আইএস, জইশ-ই-মহম্মদ অথবা লাদেন কিংবা মোল্লা ওমর— এ ধরনের সন্ত্রাসী দৃশ্যাবলি সামনে এসে গেছে, তখনই ইসলাম কিংবা মুসলমান জাতির ওপর ‘সন্ত্রাসী’ কালিমা লেপন করা হয়েছে। ফলে দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টিসহ অবিশ্বাস আর হিংসা-দ্বেষ প্রকট হয়ে উঠেছে। তারই ফল সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড। ফলে দেশে দেশ জাতি ও বর্ণ ঘৃণার শিকার মানুষ হিসেবে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধ— সবারই অসহায়ত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জঙ্গিবাদের এই সর্বনাশা অপতৎপরতা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। সুতরাং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় কারণকে বিবেচনায় নিয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চিরতরে নস্যাৎ করা জরুরি। এক্ষেত্রে দেশীয় ও বিদেশি অর্থ, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম যাতে তারা না পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। প্র্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক কোনো উপায়েই যেন জঙ্গিবাদের প্রচার না চলে তা নিশ্চিত করতে হবে। সুতরাং বিশ্বনেতাদের অনুধাবন করতে হবে মানবসভ্যতাকে রক্ষায় নিজ স্বার্থ পরিহার করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের কাছে আমরা পরাজিত হতে পারি না। প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে সামাজিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই সভ্যতাবিনাশী জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। আর সে লক্ষ্যে কালক্ষেপণ না করেই প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এই বর্বরতম জঙ্গি হামলায় নিহত সব বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads