• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫
ads
জনদুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে

ছবি : সংগ‍ৃহীত

সম্পাদকীয়

হকারদের পুনর্বাসন

জনদুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে

  • প্রকাশিত ১০ মে ২০১৯

ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেওয়ার দাবিতে গুলিস্তানে সড়ক অবরোধ করে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন ভাসমান হকাররা। ফলে রোজার প্রথম দিনেই অফিস শেষে গন্তব্য অভিমুখে যাত্রা করা সাধারণ মানুষ অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হন। ফুটপাতে ব্যবসা করার দাবি নিয়ে তাদের এই প্রতিবাদ। হকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার মাস ধরে তারা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারছেন না। ফলে তারা একধরনের বেকার হয়ে পড়েছেন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন তারা ফুটপাতে বসতে পারবেন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত এখনো না আসায় হকাররা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে পল্টন থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দিন শেষে ঘরমুখো রোজাদারসহ সাধারণ মানুষ পড়েন দুর্ভোগে।

 

রাজধানী ঢাকার জনদুর্ভোগের বড় দুটি সমস্যা হচ্ছে যানজট এবং হকারদের অবৈধভাবে ফুটপাত দখল। অথচ যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হলিডে মার্কেট চালু করা হয়। এছাড়া সরাসরি দোকান ভেঙে দিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল বেশ কয়েক দফা। কিন্তু কোনো কিছুই দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করতে দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসৎ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ঢাকার ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এরও পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ। সবশেষে দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কঠোর মনোভাবের কারণে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, পল্টন, মগবাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর ও গুলশানসহ রাজধানীর অধিকাংশ স্থানের ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়। কিন্তু রমজান উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি মেয়র এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেয় যে, ঢাকার এগারোটি স্থানে বসবে হলিডে মার্কেট। রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হকাররা যাতে ব্যবসা করতে পারেন, সেজন্য সরকারি ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকাররা তাদের দ্রব্যাদি বিক্রি করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ঈদুল ফিতরের পর এই মার্কেট পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান কখনোই আসবে না। 

 

বরং অতীতে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) হকারদের পরিচয়পত্র প্রদান ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনাটি আমরা অনুসরণ করতে পারি। চসিক বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ১২টি স্পটে জরিপ চালিয়ে ৮ হাজার ৫৯৯ হকারের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে এই সাড়ে আট হাজার হকারকে পরিচয়পত্র প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছিল, প্লাস্টিক বোর্ডে টেকসই ছবিসহ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। যেখানে নিজের নামসহ বাবা-মার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, সমিতির নাম, বসার স্থান, চসিকের সিরিয়াল নম্বর ইত্যাদি থাকবে। হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ক্ষেত্রে তাদের একটি করে একই রঙের ছাতা দেওয়া হবে এবং হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও জানায় চসিক।

 

এর ফলে এক স্থানের হকারের অন্য স্থানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। আবার তার কর্মস্থলের পাশেই থাকছে তার আবাসন। চসিকের এই পরিকল্পনাটিকে ঢাকার হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে চসিকের পরিকল্পনাটি আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রাজধানীর উপযোগী করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করছি। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে হকারদের সমস্যাগুলোর সমাধান যেমন সম্ভব হবে, তেমনি হকারমুক্ত পথচারীবান্ধব ফুটপাত নগরবাসীকে উপহার দিতে সক্ষম হবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads