• রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে

সংগৃহীত ছবি

সম্পাদকীয়

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে

  • প্রকাশিত ১১ জুলাই ২০১৯

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। বাংলাদেশেও প্রতিবারের মতো নানা আয়োজনে পালিত হয়ে থাকে দিবসটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিই এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্রায়তন কিন্তু জনবহুল দেশে এ দিবসটি পালন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার। আর ২০১৩ সাল থেকে একই হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এই প্রতিবেদনে বলা হয়। বিবিএসের তথ্যমতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশেই স্থির রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে এ দেশের জনসংখ্যা ২২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ বিশাল জনসংখ্যা আমাদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে যে চাপ সৃষ্টি করবে তা বিবেচনায় নিয়েই আমাদের করণীয় ঠিক করতে হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশ শতাব্দীর শেষ পাদে পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে সংকটবহুল প্রতিকূল অবস্থার জন্ম দিতে চলেছে বিপুল জনসংখ্যার উদ্বেগজনক বিস্ফোরণ। কেননা পৃথিবীর বুকে এই শতাব্দীতেই হিউম্যান পপুলেশনের সর্ববৃহৎ আকার লাভ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ভয়াল রূপ এরই মধ্যে পরিদৃশ্যমান হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্ন ভিন্ন বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের ফলে আমাদের নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে। মানুষ এবং প্রাণীকুলের খাদ্যাভাব ও ব্যবহারযোগ্য জলের সংকটও দেখা দিয়েছে। সামাজিক মানুষের সব রকম নৈতিক আদর্শের অবমূল্যায়নে এবং তাদের মানসিক আচরণেরও বিকৃতিরূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আরো কারণ হচ্ছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের মতো সীমিত আয়তন ও সীমিত সম্পদের দেশে যে সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে তা বলাবাহুল্য। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য একসময় বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগ ও হতাশার কথা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কার্যক্রমে এখন চরম ভাটা পড়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম চালু থাকলেও, তা কেবল নিয়মরক্ষায় সীমিত। মাঠকর্মীসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হচ্ছে না দীর্ঘদিন। যারা কর্মরত আছেন তাদের দায়িত্ব পালনেও রয়েছে ঢিলেমি। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্বারোপের বিকল্প নেই।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বে প্রতি মিনিটে জন্মগ্রহণ করে ২৫০টি শিশু। আর বাংলাদেশে প্রতি মিনিটে জন্ম নিচ্ছে ৯টি শিশু। অন্যদিকে দেশে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতে শিশু মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। এক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৬.৫%-এর মধ্যে ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৩৬.৩ মিলিয়ন। এদের মধ্যে ১৮.৮ মিলিয়ন কিশোর এবং ১৭.৫ মিলিয়ন কিশোরী রয়েছে। অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করে, যাদের ৭৬% গ্রামে এবং ২৪% শহর এলাকায় থাকে। এই কিশার-কিশোরীদের রয়েছে প্রজনন স্বাস্থ্যসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা বিষয়ে বিশেষ কিছু উন্নয়ন চাহিদা। তা ছাড়া এরা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও সেবার অপ্রতুলতা, অনিরাপদ পরিবেশসহ বিবিধ কারণে নানা ঝুঁকির মধ্যে বেড়ে উঠছে। যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব প্রতিবন্ধকতা তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক চাহিদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাদের জীবনকে রক্ষা করাসহ বয়ঃসন্ধিক্ষণের সময়ে যথাযথ দিকনির্দেশনা দিতে পারে না। ফলে তারা তাদের নিজেদের শারীরিক ও মানসিক তথা সার্বিক উন্নয়নে সঠিকভাবে সাহায্যও করতে পারে না। সুতরাং আজকের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি। কেননা আজকের প্রজন্ম ভবিষ্যতের কর্ণধার। সুতরাং আজকের দিনে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সরকার মনোনিবেশ করবেন, এমনটাই আশা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads