• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
ads
চাই সময়োপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

সদা জাগ্রত তরুণ সমাজ

চাই সময়োপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি

  • প্রকাশিত ২০ জুলাই ২০১৯

হাজারো অনিয়ম-দুর্নীতির বেড়াজালের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের মানুষ ক্রমেই সোচ্চার ও সচেতন হয়ে উঠছে। থেমে নেই বাংলাদেশের মানুষ। নিজেরা নিজেদের মতো করে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে। নিজস্ব গতিতেই দেশের উন্নয়নপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। দেশের মানুষের চোখে-মুখে এখন দিনবদলের স্বপ্ন। বাংলাদেশে বইছে পরিবর্তনের স্রোতধারা। কারণ এ দেশের মানুষ পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তাই যখনি নেতৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে তখনি এ দেশের মানুষ ভোটের জোয়ারে পরিবর্তন এনেছে। তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে মানুষ এবং এই প্রজন্ম যথেষ্ট সচেতন। হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নাশকতা ও সহিংস ঘটনার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করাকে জনগণ সমর্থন করবে না। সরকারের দমন-পীড়ন নীতিকে জনগণ প্রশ্রয় দেবে না। তরুণ সমাজ চায় রাজনৈতিক নেতারা এবং দলগুলো আগে নিজেদের ভাবমূর্তি পাল্টে দিক।

বঙ্গবন্ধু যথার্থই বলেছিলেন—‘আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না’। তাঁর আহ্বানে সাড়ে সাত কোটি মানুষ নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। যেখানে কৃষক, শ্রমিকই ছিল বেশি। আজকের বাংলাদেশ অনেক মেধা, বুদ্ধি, প্রযুক্তিশক্তি এবং তারুণ্যের উন্মাদনায় অনেক সমৃদ্ধিশালী। তাই পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের থামাতে পারবে না। প্রয়োজন শুধু যোগ্য ও ভিশনারি নেতৃত্বের। পুরো জাতি একটি উন্নয়ন-রেনেসাঁর প্রতীক্ষায়। আমরা জানি, বাংলাদেশ নামের এ দেশটির জন্ম এবং এগিয়ে চলা শুরু হয়েছিল হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে। তবে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে আজকের বাংলাদেশ অনেক বেশি শক্তিশালী। মুক্তিযোদ্ধাদের পর তরুণরা দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হচ্ছে। বাংলার তরুণ সমাজ এখন সদা জাগ্রত। তারা সাহসী, মেধাবী, মুক্তচিন্তার অধিকারী ও কর্মঠ।

আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ ভোট তরুণদের। অতএব তরুণরাই ঠিক করবে দেশ চালাবে কারা। আর রাজনৈতিক দলগুলোকে সে বিচার করেই তৈরি হতে হবে। তরুণরা নেতৃত্বের দূরদর্শিতা দেখতে চায়, বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি চায়। ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি বিনির্মাণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি, জননিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ-সর্বোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার ছাড়া কোনো দল বা জোটের বেশি দিন ক্ষমতায় থাকায় বা আসার সুযোগ কমে আসছে।

নেতাদের সজাগ থাকতে হবে, কারণ বিশ্ব ক্ষমতাসীন দেশগুলোর নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। তারা আমাদের মাঝে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি কৌশলের ফাঁদ পাতার চেষ্টায় আছে। যেকোনো মূল্যে জাতীয় ও সমৃদ্ধির বিষয়ে কোনো উসকানিকে প্রশ্রয় বা অপচিন্তার সঙ্গে আপস করাকে দেশের জনগণ এবং তরুণ সমাজ ক্ষমা করবে না। বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি আয় আমাদের। বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত তো থাকবেই। এসবকে রাজনৈতিক ভিশনের মাধ্যমে কৌশলে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে।

এজন্য রাজনীতিবিদদের সুনির্দিষ্ট ভিশনারি পরিকল্পনা দরকার। বাংলাদেশ যখন উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছে তখন রাজনৈতিক উগ্রপন্থা আর প্রতিহতের মনোভাব যেন এই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এখন প্রয়োজন ভিশনারি নেতৃত্বের। মালয়েশিয়াকে ড. মাহাথির মোহাম্মদ গড়ে তুলেছেন ভিশনারি নেতৃত্বের গুণে। তিনি দেশের সম্পদ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছেন। দেশের মানুষ ও তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়েছেন। দুর্নীতি অনিয়ম মালয়েশিয়াতেও আছে, তাই বলে সে দেশের উন্নয়ন থেমে থাকেনি। আমাদের দেশের সম্পদ-সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। জাগিয়ে তুলতে হবে শিল্প-সম্ভাবনাকে। দেশের উদ্যোক্তাদের অধিক সুবিধা আর কাজের অনুকূল সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজ মেধার লড়াইয়ে বিশ্বের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতে এবং জয় ছিনিয়ে আনতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। শুধু শক্তি নয়, বুদ্ধির লড়াইয়ে লড়তে চায় তরুণরা। গড়তে চায় সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ। পুরো জাতি এখন সে প্রতীক্ষায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads