• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা নিন

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল

মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা নিন

  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০১৯

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ গতবারের তুলনায় বাড়লেও তা আশানুরূপ নয়। দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬৬.৬২। এই পরিসংখ্যান বলছে, গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে মাত্র ৭.২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে এবার জিপিএ ৫-এর সংখ্যা ৪৭ হাজার ২৮৬। আর গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৪। পাসের হারে এবারো এগিয়ে আছে মেয়েরা। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছেলেরাই বেশি। এ বছর ৯ হাজার ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯ জন ছাত্রী। শুধু ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন। 

কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের এই ফল জাতির প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এইচএসসি পরীক্ষায় কেন তার আশানুরূপ ফল খুঁজে পাচ্ছে না, তা ভাবার বিষয়। লক্ষ করার বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার গত কয়েক বছরে কমলেও এবারই তা বেড়েছে। শুধু এইচএসসি নয়, এবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার পাসের হারও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়নি। নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কারণেই কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসিতে ফল ওঠানামা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ইংরেজিতে পাসের হার কমে যাওয়া, এমসিকিউ অংশে অনেক শিক্ষার্থীর আশানুরূপ উত্তর করতে না পারা ইত্যাদি কারণেও পাসের হার কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরপর কয়েক বছরের ফল বিশ্লেষণ করে এ ক্ষেত্রে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের শুরুতে জিপিএ ৫-এর আধিক্য সমালোচিত হয়। কিন্তু জিপিএ ৫-এর রাশ টানতে গিয়ে নেতিবাচক ফলাফলও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমাদের কাজ হবে, উপযুক্ত শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রকৃত মূল্যায়ন করা। এখন সেদিকে নজর দেওয়ার সময় বলে মনে করছি।

পরীক্ষার ফল ভালো হওয়াটাই বড় বিষয় নয়, পরীক্ষার্থীরা কতটা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বোধ জাগ্রত করার ওপর নয়। এজন্য সরকার ও অভিভাবক উভয়েই দায়ী। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে হলে আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতির আমূল সংস্কার করতে হবে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ১২ বছর পড়ার পরও একটি বিষয়ে কেন ফেল করবে? কেন গোটা শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদেশি ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলা ও লেখার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখে পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের সময় এসেছে।

আশার কথা, গত বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও এবার সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। ভবিষ্যতে সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের সবার প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। তারা যাতে আগামীতে সফলকাম হতে পারেন, এখন থেকেই সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads