• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
ads
মাছে-ভাতে বাঙালির সুদিন আসুক

সংগৃহীত ছবি

সম্পাদকীয়

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ

মাছে-ভাতে বাঙালির সুদিন আসুক

  • প্রকাশিত ২২ জুলাই ২০১৯

পুষ্টি বিবেচনায় মাছের চেয়ে নিরাপদ আমিষ আর নেই। প্রাণিজ আমিষের চাহিদার শতকরা ৬০ ভাগ জোগান দিচ্ছে মৎস্য খাত। আমরা জানি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে আমিষের (প্রোটিন) গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য  সেক্টরের অবদান অসামান্য। বাংলাদেশে প্রতিবেশ ব্যবস্থা মিঠাপানির মাছ চাষের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদনে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ আহরণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রে মাছ আহরণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৫তম। বঙ্গোপসাগরে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি ছাড়াও প্রায় ৫০০ প্রজাতির অর্থকরী মাছ রয়েছে। এই মাছের অতি সামান্যই আহরিত হয়। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রজয়ে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার আইনগত অধিকার পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে মৎস্য আহরণ পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

‘মাছ চাষে গড়ব দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’—স্লোগানে চলছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। দেশ মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে এখন ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে উন্মুক্ত জলাশয় (নদী, বিল, হাওর) থেকে শতকরা ২৫ ভাগ, বদ্ধ জলাশয় (পুকুর, ডোবা) থেকে ৫৭ ভাগ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের সমতল ভূমির আট লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ের বাইরে আর কোনো ফসলি জমি নষ্ট করে মাছ চাষ করা ঠিক হবে না। বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। মৎস্য উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে চতুর্থ এবং অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম স্থান লাভ করেছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবছর অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় উৎপাদিত মাছের একটা বড় অংশ, প্রায় ১০ লাখ টন নষ্ট বা অপচয় হয়ে যায়। এটা রোধ করতে পারলে মাছ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার ভিশন ২০২১-এ দেশে মাছের উৎপাদন ৪৫.০ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে চারটি দেশ মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করবে, তার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। মাছের উৎপাদন সাফল্য উৎসাহজনক হলেও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এর চেয়ে বহুগুণ। 

মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদপ্তরের পৃথক গবেষণার তথ্যানুযায়ী, দেশি প্রজাতির ৯১টি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। এসব গবেষণায় প্রাকৃতিক উৎসের মাছের বেশ কিছু ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। মাছের বিচরণ এলাকা নদী, হাওর-বাঁওড় ও বিল দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর চারপাশের নদী বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী প্রায় মাছশূন্য হতে চলেছে। এ ছাড়া দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি আগ্রাসী প্রজাতির বিদেশি মাছ ঢুকে পড়েছে, যা দেশি ছোট মাছগুলো খেয়ে সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। তা ছাড়া দেশের কৃষি কাজে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ টন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহূত হয়, যা মাটি চুইয়ে জলাভূমিতে যায়। এ কারণে মাছের উৎপাদন কমছে। এ ছাড়া ধারাবাহিক দূষণ ও পলি পড়ে নদী ভরাট হওয়ায় মাছের বিচরণ কমে আসছে।

বিভিন্ন উপাত্ত থেকে জানা যায়, দেশে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ বা ১১ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে প্রায় ৬ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে এই সেক্টরে। নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরসহ জলাধারের সংখ্যা হ্রাস পেলেও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য উৎপাদন বিস্ময়করভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। সুতরাং নদীমাতৃক বাংলাদেশে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, জাতীয় উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় মৎস্য খাতের সাফল্যকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads