• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা সময়ের দাবি

ছবি : সংগৃহীত

সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা সময়ের দাবি

  • প্রকাশিত ০১ আগস্ট ২০১৯

বাংলাদেশে এ বছর আগের তুলনায় ভয়াবহ এবং মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। প্রথমদিকে শহরের অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হলেও তা এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যা কেবল আতঙ্কের বিষয়ই নয়, কেড়ে নিচ্ছে অনেক জীবন। ইতোমধ্যে ডাক্তার, শিক্ষার্থী, শিশুসহ সাধারণ মানুষ এই প্রাণঘাতী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন। এর ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখনই ডেঙ্গু ঠেকানো না গেলে তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বর। ‘স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী হেমোরেজিক ফিভারে পর্যবসিত হয়’। এই মরণব্যাধি ডেঙ্গু আবারো আতঙ্ক এবং মৃত্যুভয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ডেঙ্গু জ্বরের এই প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে অজানা শঙ্কা ভাবিয়ে তুলেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। যোগাযোগ মাধ্যমে জানা গেছে এবার ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা না দিয়েও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অসচেতনতা আর নিজেদের এ বিষয়ে না জানার কারণে সহজেই অনেক মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আক্রান্ত হয়ে গেলে সচেতন-অসচেতন কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না ডেঙ্গু রোগটি। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ২৮ জনের মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাস কোমলমতি, বিশেষ করে শিশুদের বেশি পরিমাণে আক্রমণ করার ফলে এর তীব্র প্রকোপে শিশুরা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এবারের ভয়াবহতায় অনেকের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এই ডেঙ্গু জ্বর। তবে আতঙ্কিত হয়ে ডেঙ্গুকে ভয়ের কারণ হিসেবে না নিয়ে আমাদের প্রতিরোধের উপায় ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর সচেতনতার সঙ্গেই দ্রুত সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ এ ভয়ানক জ্বর থেকে আমাদের সন্তান ও স্বজনদের রক্ষা করতে পারে। দ্রুত এই ডেঙ্গু আক্রান্তকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে।

ভাইরাসজনিত অন্য রোগের মতো সরাসরি ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নেই এবং এখনো কোনো টিকা আবিষ্কারের খবর পাওয়া যায়নি। আর এ কারণেই আতঙ্কের আরেক নাম ডেঙ্গু। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর সঙ্গে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রকোপও দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ এই ডেঙ্গুতে ক’দিনের মধ্যে শিশু-নারীসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পত্রিকায় এসেছে। মৃত্যু থেকে বাঁচতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরো তৎপর হতে হবে, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোকে। ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা প্রতিরোধ করতে হবে, বাঁচতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও ভয়াবহতা থেকে জনগণের সুরক্ষার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে।

‘সাধারণত মশকনিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য প্রধানত দায়ী বলে বিজ্ঞমহলের ধারণা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা বাড়িয়ে এর পরিমাণ বৃদ্ধি করছে। জানা গেছে, এডিস মশার পরিমাণ যত বৃদ্ধি পাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকের হারও বাড়বে। খুঁজে খুঁজে মশার উৎস বন্ধ করতে পারলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।’ মূল কথা হলো, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্লাসিক্যাল ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু নামে দুই প্রকারের ডেঙ্গু জ্বর রয়েছে। এ জ্বরের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজধানীসহ দেশের সবখানে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে, তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী এসব স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরিষ্কার রাখতে হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র কর্তৃক এডিস মশা নিধন এবং এডিসের বংশ বিস্তার রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গুর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। ডেঙ্গু হলে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে, রাজধানী ও জেলা-উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এডিস মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই সম্ভব ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা ও প্রতিরোধ করা। ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কাউকে কামড়াতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ মুহূর্তে আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে।

নগরবাসীসহ সারা দেশের মানুষের দাবি এবং প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এডিস মশার বিস্তার রোধ ও মশা ধ্বংস করে, আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সবার সচেতনতা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন করে ডেঙ্গু যেন বৃদ্ধি পেতে না পারে সেদিকে লক্ষ রেখে আমাদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা এগিয়ে নিতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বাঁচান, এমন আকুতি আজ সব মানুষের। ডেঙ্গু যেন আর একটা মানুষের জীবনও কেড়ে না নেয় তার জন্য যা করা দরকার তাই করতে হবে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ও বাঁচাতে সচেতনতা, প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা এখন সময়ের দাবি।

 

সফিউল্লাহ আনসারী

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী

Shofiullahansari@gmail.com

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads