• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads
 মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা জরুরি

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা জরুরি

  • প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে’— মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য আমাদের আশান্বিত করেছে। এর প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে অবৈতনিক ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সংস্কার শুরু করেছেন, এটি তারই অংশ বলে বিবেচিত হচ্ছে; অন্যদিকে এই বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকাকেন্দ্রিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা চাপ কমবে বলে আশা রাখি। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং কলেজের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

কিন্তু কথা হচ্ছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে। কেননা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির কারণে যত্রতত্র সাধারণ এবং মেডিকেল কলেজের মতো বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে বিগত বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মানের অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত বণিকশ্রেণির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবর্তে এখানে সুযোগ ঘটছে মেধাক্রমে ছিটকে পড়া উচ্চবিত্তের সন্তানদের। টাকার কাছে বিক্রি হচ্ছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সুতরাং ঢাকার বাইরে গড়ে ওঠা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করি।

দুই বছর আগে ২০১৭ সালে আইন কমিশনের অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভাষা জ্ঞান মারাত্মক দুর্বল হওয়ায় শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, নার্স, শয্যা ও রোগীর অভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ারও সুযোগ কম। ফলে এসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মানের খুবই দুরবস্থা। উপরন্তু রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো ক্লাস না করলেও চলে। তারা সময়মতো পাস করে যাবে অথবা করিয়ে দেওয়া হবে। সে সময় এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত এক উন্নয়নকর্মী ডাক্তার তার নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সংস্রব শিক্ষার্থীদের পক্ষে ডাক্তার হিসেবে বের হয়ে আসা তুলনামূলকভাবে সহজ, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক্ষেত্রে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্দশার কথা চিন্তা করে তিনি হতাশ।

উক্ত আইন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মানোন্নয়নে বেশকিছু সুপারিশ করেছেন। যার মধ্যে প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের জন্য উন্নত দেশগুলোর ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিরীক্ষা করে আরো কার্যকর কৌশল অবলম্বন ও পরীক্ষার পাস নম্বরকে সহজলভ্য করার প্রবণতা পরিহার করা এবং সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে শিক্ষা-ব্যয়ের বিরাজমান অস্বাভাবিক ব্যবধান কমিয়ে অযোগ্য শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সংকুচিত করা উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে রাজনৈতিক কার্যক্রমে লাগাম টানা জরুরি বলে মনে করছি। একই সঙ্গে দেশে বিদ্যমান বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ন্যূনতম শিক্ষার মান ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বর্জিত মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্যোগ নেমে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই পরিস্থিতিতে এ কথা বলা চলে যে, ঢাকার বাইরে অবস্থিত বিদ্যমান সব মেডিকেল কলেজগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান কতটুকু হচ্ছে, তাও আজ প্রশ্নসাপেক্ষ। সুতরাং বর্তমান সব মেডিকেল কলেজসহ প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজগুলোতে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং এর অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো বিবেচনা করেই ঢাকার বাইরে সরকারি বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করি। আশা করি, বর্তমান সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads