• শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়

হোটেল-রেস্তোরাঁর অনিরাপদ খাবার

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

  • প্রকাশিত ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

মাঝেমধ্যেই রাজধানী ঢাকায় ভেজালবিরোধী অভিযান দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁসহ নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে এ অভিযান পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিচালনা করে থাকে। মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম প্রশংসিত হলেও দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁর অধিকাংশ খাবার যে অনিরাপদ তা হরহামেশাই দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে।

এসব প্রতিবেদন বলছে, খাবারের উপাদান তৈরি থেকে বিপণন এবং গ্রহণ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়াতেই চলছে ভেজালের মিশ্রণ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৭১.৫ ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার মানহীন এবং অস্বাস্থ্যকর। অন্যদিকে পথখাবারের ৫৫ ভাগেই পাওয়া গেছে জীবাণু। এ কথা সত্য, আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে অধিকাংশ নগর-মানুষ হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার ও হালকা খাবারের জন্য পথখাবারের ওপর নির্ভর করে থাকে। রাজধানী ঢাকার এমন কোনো অলিগলি নেই যেখানে ফুটপাতে খাবার বিক্রি হয় না। এসব খোলা হোটেলে কাচ্চি, চিকেন ও বিফ বিরিয়ানির নামে মরা গরু ও মুরগির মাংস মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। খোলা হোটেলে দাম কিছুটা কম হওয়ায় জনসাধারণ এগুলোর খাবার খেয়ে থাকে। আর এই ব্যবসা করে খোলা হোটেলওয়ালারা হাজার হাজার টাকা আয় করছে। তারা মানুষদের পচা-বাসি খাবার খাইয়ে প্রতারণা করছে। হোটেলের খোলা খাবার কখনো জীবাণুমুক্ত নয়। রাস্তার ধুলো, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও মশা-মাছি এসব খাবারে বসে। আবার খাবার যেখানে তৈরি করা হয় সেই জায়গাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ কারণে শুরু থেকেই খাবারগুলো দূষিত হয়ে থাকে। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার বিক্রেতার ৮৮ শতাংশের হাতে থাকে জীবাণু। উপরন্তু অনিরাপদ পানির ব্যবহার খাবার জীবাণুযুক্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। খাবার বিক্রেতার হাতে, গামছায়, খাবার সরবরাহের প্লেটে ও কাগজেও জীবাণু থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে খাবারের জন্য মানুষ বেশি নির্ভর করে, সেখানে এসব খাবারের গুণগত মান আগে নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ভোক্তা উভয়পক্ষেরই সচেতনতা আগে প্রয়োজন। আর তাই বিক্রেতার খাবার খোলা না রাখা, সরু মুখওয়ালা পানির পাত্র ব্যবহার, কাঁচা খাবার বা সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখা, হাত ধোয়া, গ্লাভস ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আবার পথখাবার বিক্রেতারা যাতে এসব নিয়ম মেনে চলেন, সে বিষয়েও ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার আইনে আমাদের দেশে নকল ও ভেজাল দ্রব্য প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকর মনে হলেও এর শাস্তি বিধানে প্রদত্ত নীতিমালায় সংশোধনী আনার প্রয়োজনীয়তা ভেবে দেখতে হবে। আর্থিক দণ্ড, জেল এবং জামিনের বিষয়টি সহজ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে অসাধু চক্রের কাছে। ফলে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এই কাজেই জড়িয়ে পড়ছে। সুতরাং হোটেল-রেস্তোরাঁয় অনিরাপদ খাবার সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি বিধান এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে রাজধানীর ফুটপাত, রাস্তার মোড়, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন খোলা জায়গায় অবস্থানরত খোলা হোটেলগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় বাঞ্ছনীয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, এসব অনিরাপদ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালিতে প্রদাহ, হূদরোগ, কিডনি রোগসহ শরীরে বাসা বাঁধছে মরণব্যাধি ক্যানসার। মূলত সরকারের তদারকির ঘাটতি ও জনসচেতনতার অভাবেই এসব ক্ষতিকর খাবারের দোকান শহরের সর্বত্র হরহামেশাই গড়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের উচিত হবে দ্রুত এসব হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পথখাবারের দোকান চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা। পাশাপাশি ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীর কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা। দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads