• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭
ads
আপনার সুরক্ষা আপনার হাতেই

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

কোভিড ১৯

আপনার সুরক্ষা আপনার হাতেই

  • সাঈদ চৌধুরী
  • প্রকাশিত ৩০ মার্চ ২০২০

পৃথিবীতে করোনাই প্রথম দুর্যোগ নয়। শতাব্দীকাল ধরে অনেকবার অনেক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে এই পৃথিবীর মানুষ। তারপরও মানুষ বেঁচে আছে, বেঁচে থাকার ক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যেই চলি। যদি আপনার খুব কাছ দিয়ে কোনো মৃত্যু চলে যায় কিংবা বেঁচে ওঠে; তবু আপনি তা ভুলে গিয়ে আবার বাঁচতে চান। এটা এই ধরণির মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি।

বাংলাদেশের ইতিহাস দেখতে গেলেও এ রকম রোগজনিত দুর্যোগ আগে কম হয়নি। আমাদের পূর্বসূরিরা বলে থাকেন, আগে কলেরা হলে গ্রামকে গ্রাম লোক শূন্য হয়ে যেত, জলবসন্ত হলে কান্নার শব্দ শোনা যেত শুধু! দুর্ভিক্ষে মানুষ একসময় আবর্জনা খেয়েও জীবনধারণ করেছে! দিন চলে গেছে। আমরা এখন আমাদের অনেক দুর্যোগকে ডেকে নিয়ে আসি। বলা হয়ে থাকে, পারিপার্শ্বিক দূষণের কারণে আমাদের একদিন বাঁচা কঠিন হয়ে যাবে। কিছুদিন আগেই বলা হচ্ছিল অ্যান্টিবায়োটিক রেসিট্যান্স হয়ে গেলে সর্দি-জ্বরে মানুষ মারা যাবে।

তবে কি এখন সে সময়টিই এসে গেল! হ্যাঁ, যদি ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, সে রকমই ব্যাকটেরিয়াও একসময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। হয়তো আরও ভয়ানক দিন আসবে! তবু মানুষ তার বেঁচে থাকার পন্থা বের করার জন্য মরিয়া হবে এবং সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে তারা বেঁচেও যাবে।

অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য। একেবারে যে সফল হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন মানবদেহে কোন কোষ করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, করোনা থেকে মানুষকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়। একটি ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগও করেছেন। আবার সম্প্রতি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গবেষক করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কথা বলছেন। এখন তারা এটি প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করে দেখবেন। সবকিছু মিলিয়ে একটি ভালো ফলাফলও আসবে নিকট ভবিষ্যতে, আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু যা আমরা ঠেকাতে পারি না বা চেষ্টা করি না, তা হলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।

করোনা নিয়ে অনেক ধরনের কথা হচ্ছে। কেউ খুব ভয় পাচ্ছে, আবার কেউ তোয়াক্কাই করছে না। যারা ভয় পাচ্ছেন, তাদের বলি ভয়টা কিসের? আপনি আক্রান্ত হবেন, চিকিৎসা পাবেন না অথবা মরে যাবেন—এ রকম? খুব স্বাভাবিক আপনার ভয়টি। কিন্তু আপনি জেনে রাখুন, করোনা থেকে অনেক মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন। করোনা অনেকের দেহে সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতোই আচরণ করেছে। আপনি যখন রাস্তায় দ্রুত বেগের গাড়িতে যাচ্ছেন তখন কি দুর্ঘটনায় আপনি মারা যেতে পারেন না; আপনি যখন লিফটে উঠছেন তখন তার ছিঁড়ে পড়ে মারা যেতে পারেন না; আপনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন এবং যেখানে পড়লেন সেখানে ধারালো কিছু রয়েছে, তবে কি আপনি মারা যেতে পারেন না; অথবা আপনার ডায়রিয়া হলো, আপনি কোনো কারণে স্যালাইন পাচ্ছেন না তখনো কিন্তু আপনি মারা যেতে পারেন।

মনে যদি ভয় আসে তবে সব রোগই আপনাকে গ্রাস করবে। কারণ, তখন রক্তের অনুচক্রিকাগুলো খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। মনে সাহস রাখুন, আর ভাবুন যতক্ষণ নিজের মস্তিষ্ক কাজ করবে ততক্ষণ সুরক্ষিত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে এবং অন্যকে সহায়তা করতে হবে। সব মানুষের জন্য চিন্তা করুন। আমরা সবাই মিলে কীভাবে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকতে পারি। আমাদের জন্য যেন করোনা মৃত্যু-ভয়ের কারণ না হয়।

মহামারী অনেক সময় নবীদের আমলেও আঘাত হেনেছে, এসেছে বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যখন হজরত নুহ (আঃ)-কে বলা হলো দেশে প্লাবন হবে, আপনি সব মানুষকে নৌকায় তুলে নিন, তখন সব মানুষকে নৌকায় তুলে নেওয়ার পর প্লাবন শুরু হলো এবং একজন বৃদ্ধার কথা নবী ভুলে গেলেও প্লাবনের পর গিয়ে দেখলেন বৃদ্ধা আল্লাহ তাআলাকেই ডাকছেন। তিনি এ প্লাবনের কোনো আঁচড় সম্পর্কেই জানেন না! হজরত নুহ (আঃ) অবাক হলেন এবং আল্লাহর অশেষ রহমতের কথা চিন্তা করলেন!

সুতরাং আমাদের সাবধান থাকতে হবে। নিয়মবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যের কথা শুনে ভয় পাওয়া যাবে না। অসতর্ক চলাচল বাদ দিতে হবে এবং মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজেদের ইবাদতের জায়গাকে প্রসারিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন বেড়ে গেছে, কেউ কেউ নিজেদের সুরক্ষিত না রেখে সব ধরনের কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন তারা নিজেরা বুঝতে চেষ্টা করছেন না যে বিপদ কতটা হতে পারে, এ বিষয়গুলো অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমাদের সচেতন হওয়াটা জরুরি। নিজের শরীরকে করোনা প্রতিরোধী করে তুলতে ভয় না পাওয়াটা বাঞ্ছনীয়। মাস্ক পরুন, হাতমুখ ভালোভাবে ধুয়ে চলুন, মানুষের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং নির্দেশনা মেনে কাজ করুন, এতেই আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে একটা কথা মনে রাখতেই হবে, হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। ভেবে রাখতে হবে, লকডাউন হলে আমাদের কার্যপরিচালনা কেমন হবে, অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে আমাদের কাজ কীভাবে সম্পাদিত হবে—এ বিষয়গুলো। সরকারের ব্যবস্থাপনা, আমাদের সবার সচেতনতা এবং সার্বিক সহযোগিতায়ই আমরা এগিয়ে যাব করোনার মতো দুর্যোগের প্রতিরোধে। মহান আল্লাহ একসময় আমাদের রক্ষা করবেন ইনশা আল্লাহ, এটাই প্রত্যাশা।

 

লেখক : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শ্রীপুর, গাজীপুর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads