• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
করোনা : চিকিৎসকদের সুরক্ষা প্রয়োজন

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

করোনা : চিকিৎসকদের সুরক্ষা প্রয়োজন

  • প্রকাশিত ০২ এপ্রিল ২০২০

রিফাত মাহদী

 

 

চিকিৎসা সেবাদান একটি মহৎ পেশা। মানুষ যখন অসুস্থতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে আর চিকিৎসকের ওপর আস্থা রাখে। অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে চিকিৎসকের মুখের দিকে। আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় চরমভাবে আহত, লিভার পেইন, হার্ট অ্যাটাক, আগুনে পোড়া কিংবা প্রচণ্ড প্রসববেদনায় কাতর রোগীকে নিয়ে রাত-বিরাতে যখন আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই; তখন ওই রোগীদের জন্য ডাক্তার হয়ে ওঠেন সৃষ্টিকর্তার সাক্ষাৎ প্রতিনিধি। রোগীর জীবনের সেই ক্রান্তিলগ্নে একজন ডাক্তার কী মহৎ ভূমিকা পালন করতে পারেন, তা বর্ণনাতীত। বিপদের সময়ের সেই বন্ধুর সঙ্গে আমাদের অনেকের আচরণই আশাব্যঞ্জক নয়। দু-চারজন অসৎ ও অসাধু চিকিৎসকের জন্য আমরা তাদের কসাই বলতেও দ্বিধা করি না।

বাংলাদেশের এমন কোনো পেশা আছে যেখানে এমন দু-চারজন খারাপ লোক নেই? রোগীর সুস্থতাই যেন ডাক্তারের সফলতা, এই বাক্যটিকে টনিক হিসেবে আঁকড়ে ধরে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নত দেশের তুলনায় রোগীর আনুপাতিক হারে আমাদের দেশে ডাক্তারের সংখ্যা অপ্রতুল। চিকিৎসাব্যবস্থাও তেমন মানসম্পন্ন নয়। গড়ে আড়াই হাজার রোগীর জন্য ১ জন ডাক্তার। একজন নার্স কাজ করে প্রায় হাজার আটেক রোগীর জন্য। তারপরও আমাদের দেশের ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে এসব রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। যেখানে ২০০০ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ছিল ৫০ হাজার। অথচ ১৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে গত বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। দিনরাত একাকার করে দিয়ে আমাদের ডাক্তাররা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কোরবানির ঈদে আমরা সবাই যখন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মহা আয়োজনে ঈদ উদ্যাপনে ব্যস্ত; তখনো পরিবার-পরিজনের মায়া ত্যাগ করে এসব ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন রোগীদের সঙ্গে। শুধু নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বই নয়, ডিউটি করেছেন তিন গুণ। নিজের ছয় মাসের বাচ্চাকে ঘরে রেখে হাসপাতালে ৩০ ঘণ্টা ডিউটি করেছেন এমন একজন নার্সের খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। এমনকি ডেঙ্গু রোগীর সেবায় নিয়োজিত ৫৪ ডাক্তারসহ ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আমাদের ডাক্তারদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার কথা।

আজ যখন করোনা ভাইরাসে কাঁপছে সারা বিশ্ব, সেই তখনো আমাদের ডাক্তাররাও প্রস্তুত। কিন্তু এই মহামারী প্রতিরোধে তো রাষ্ট্রকে আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। শিগগিরই নিশ্চিত করতে হবে তাদের নিরাপত্তার সামগ্রী। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য চিকিৎসাকর্মীদের সবার আগে দরকার পিপিই (পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট)। পিপিই ছাড়া চিকিৎসা করতে যাওয়া মানে সুসজ্জিত সৈন্যের সঙ্গে নিরস্ত্র হয়ে যুদ্ধে নামা। যাতে মৃত্যু সুনিশ্চিত। আমাদের প্রয়োজনেই ডাক্তারদের বাঁচাতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশের সব হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিই  সরবরাহ করতে হবে। পিপিইর অভাবে একজন ডাক্তারও যদি আক্রান্ত হন, তার থেকে অন্যান্য ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, সর্বোপরি তার পরিবারের লোকজনও সংক্রমিত হবে। এই ঝুঁকির মধ্যে আমরা দেশকে ফেলে দিতে পারি না। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাই যদি সংক্রমিত হয়ে যান, তাহলে আশাহীন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়বে দেশের মানুষ। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে কোনো ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। আশা করি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে করোনা নামক অজানা শত্রুকে প্রতিহত করতে দ্রুত কাজ করবে আমাদের জনবান্ধব বর্তমান সরকার।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads