• রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
বাইরে বিপদ, ভেতরে যাও

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

বাইরে বিপদ, ভেতরে যাও

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল ২০২০

যুদ্ধ শুরু হলে অস্ত্র হাতে লড়াই করার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসার জন্য যেমন আহ্বান জানানো হয়, আজ ঠিক তার বিপরীত কাজটি করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিজেকে এবং দেশকে রক্ষার জন্য ভেতরে যেতে হবে। সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া এখন আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর অবস্থা দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত। যেখানে তারা প্রযুক্তি আর প্রাচুর্যতার মধ্যেও কূলকিনারা পাচ্ছে না। সেখানে আমাদের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল একটি দেশ এমন পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারবে না। আবার আমরাই পারব যদি সবাই সচেতন নাগরিক দায়িত্ব পালন করি। আর এজন্য ঘরের ভেতরে স্বেচ্ছা বন্দিত্বই এখন শ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক। নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, আর অন্যের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার এটাই একমাত্র উপায়। এই নিয়ম মেনে চলা ছাড়া আমাদের কাছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার আর কোনো অস্ত্র নেই।

নেগেটিভ ভাবার মতো অনেক ভাবনাই হয়তো বা আছে। কিন্তু আমাদেরকে বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হবে। আমাদের দেশের বাস্তবতা, সক্ষমতার দিকেও তাকাতে হবে। সরকারের দায়িত্বের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক দায়িত্বও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন ভুল ধরার সময় নয়। লড়াই করার সময়। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটলে তবেই আমাদের ভুলগুলো, সীমাবদ্ধতাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তখন সেগুলোকে শোধরাতে হবে। ভবিষ্যতের উপযোগী প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ  উন্নত দেশ নয়। উন্নত দেশের দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন হোঁচট খেলে এই গতি মন্থর হতে বাধ্য। আমরা নিশ্চয়ই সেই ভুলটি করব না।

ভেবে দেখুন, পৃৃথিবীতে এখন কোনো যুদ্ধাবস্থা নেই। তবু বিরাজ করছে এক নির্মম মৃত্যুপুরীর হাহাকার। কোনো অস্ত্রের লড়াই নেই। নেই রক্তপাত, তবু অকাতরে দিতে হচ্ছে জীবন। তামাম পৃথিবীজুড়ে যেন চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই। বোধ করি, মানবসভ্যতা নিকট অতীতে এমন ভয়াবহ অস্তীত্বের সংকটে পড়েনি। গবেষকরা অবশ্য বলছেন, এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে লড়াই চালানোর উপায় একটাই, সেটা হলো ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’। একমাত্র বাড়িতে থাকাটাই সব থেকে নিরাপদ। কোনোভাবেই সংস্পর্শে আসা যাবে না। আহারে মানব জীবন, কত না দম্ভোক্তি ছিল তোমার। আজ কত অসহায়।

ক্ষমতার মোহ, লোভ, ভোগ-দখল, অপরাজনীতির হুলিখেলা, দুর্নীতি, লুটতরাজ, ঘুষ, অনিয়ম, ধর্ষণসহ হাজারো পাপরাজির ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে ‘জীবন বাঁচানোর লড়াই’।  এ মুহূর্তে জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। অথচ কদিন আগেও ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিল বিশ্ব নেতারা। আজ সবাই ঘরের কোণে। না রাজা, না প্রজা, না ধনী না গরিব, না কোনো ধর্ম পরিচয়। কোনো কিছুই মানছে না একটি অদৃশ্য শক্তি ‘করোনা ভাইরাস’। এখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে ‘হে মানব জাতি, তোমরা নাকি মঙ্গলে বসতি গড়বে। চাঁদেও অভিযান করো। এখন ভেবে দেখো, কোথায় তোমার আশ্রয়। এত দম্ভ, অহমিকা, হিংসা-বিদ্বেষ, অর্থ আর প্রযুক্তির ক্ষমতার দাপট আজ কোথায় গেল। কেন থামাতে পারছ না একটা ভাইরাসকে। কেন ঘরের কোণে অসহায় অকর্মণ্য দিন কাটাচ্ছ কর্মপাগল হে মানুষ। সৃষ্টিকর্তা বুঝিয়ে দিয়েছেন, সামান্য একটা ভাইরাসের ভয়ে তোমরা সবাই এক হয়েও কিছু করতে পারবে না। উল্টো জীবন বাঁচাতে তোমরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য- মহান প্রতিপালকের কাছে। এই করোনাতঙ্ক পৃথিবীব্যাপী পাপাচারের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা মাত্র। যার তাণ্ডবে বিশ্বে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। এর চেয়ে বেশি হলে কী হতে পারে বুঝে নেওয়া দরকার। এগুলো হয়তো বা তাত্ত্বিক কথা। মূল কথা হচ্ছে এই করোনা পরিস্থিতি থেকে আমরা কী শিক্ষা নেব-সেটাই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লোভ-লালসা, ঠকবাজি, প্রতারণা-প্রবঞ্চনা, মিথ্যাচার কি থামবে! একাকী ভোগ বিলাসের মানসিকতা কী থামবে! তার পরেও খুলবে কি মানবতা বোধের বন্ধ দরজা! এটাই এখন দেখার বিষয়। আল্লাহ ক্ষমা করুন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব জাতিকে। কিন্তু তার শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় কি জাগ্রত হবে মানবসভ্যতা।

আমাদের বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। মানুষের আয়-রোজগার বেড়েছে। জীবন উপভোগের আধুনিক অনেক সুবিধাই পাওয়া যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে। বেড়েছে শিক্ষার হার। বিদ্যুৎসহ প্রযুক্তির সুবিধায় আলোকিত জীবন উপভোগ করছি আমরা। তার পরও গভীর অন্ধকারের অতলে হাবুডুবু খাচ্ছে সমাজ। আলো ছড়াবার মানুষের বড় অভাব। যারা আছেন তারা বিচ্ছিন্ন। হিংস্র অসভ্যতার কাছে তারা কোণঠাসা হয়ে আছেন। এখন তাদের জেগে ওঠার সময় হয়েছে। আলো ঝলকানো এ সমাজের কলুষিত অন্ধকার কাটাতে জেগে ওঠো হে বাতিঘর। ছড়াও তোমার আলোর বিচ্ছুরণ......করোনা ভাইরাস  মোকাবিলায় যেখানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল স্বল্প আয়ের দেশগুলোর অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন হবে। হতাশার বিষয়, এই কঠিন অবস্থার কারণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, শিক্ষা ও গবেষণায় অনগ্রসরতাই বেশি দায়ী। চিকিৎসার  ক্ষেত্রে আমরা ভীষণভাবে বিদেশনির্ভর। চিকিৎসা সামগ্রী ও প্রযুক্তির জন্যও আমাদের নির্ভর করতে হয় বহিঃবিশ্বের ওপর। এর কারণ হলো আমরা গবেষণায় ও উদ্ভাবনে পিছিয়ে আছি। তাই আজ এ কথা প্রমাণিত সত্য যে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, স্বাস্থ্যসেবায় অনেক সাফল্য থাকার পরও আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবা এখনো যুগোপযোগী নয়। তাই স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে ফিদেল কাস্ত্রোর উদাহরণটি অনুসরণীয় হতে পারে আমাদের জন্য। কথিত আছে, অনেক দিন আগে এক দরিদ্র  দেশে মহামারী দেখা দিয়েছিল। সেই  দেশটি বহু বছর লুটেরাদের দখলে ছিল, মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছিল দেশটি। তাদের না ছিল ডাক্তার, না ওষুধ, না হাসপাতাল, কিছুই ছিল না। প্রতিদিন মানুষ মরছে, বুড়ো, তরুণ, শিশু। সেই দেশের নেতা ইউরোপ আর আমেরিকার সব দেশের কাছে ডাক্তার নার্স ওষুধ সাহায্য চাইলেন। ইউরোপীয়রা কোনো সাড়াই  দেয়নি। লাতিন আমেরিকার দুয়েকটা দেশ সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল। সেই মহা দুর্যোগের কালে সেই দরিদ্র দেশটির তরুণ নেতা সিদ্ধান্ত নিলেন, দেশের প্রতি ২৫ জনের বিপরীতে ১ জন ডাক্তার থাকতে হবে নইলে স্বাস্থ্যসেবা উপযুক্ত হবে না।  দেশটাও বিপদে থাকবে। তারপর মহা পরাক্রমশালী প্রতিবেশী দেশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেই দেশ এগিয়ে চলল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে।  দেশটা খুবই দ্রুত নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হলো। শত শত ডাক্তার-নার্স দেশসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারপর সেই দেশটার নেতা ঠিক করলেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তে আনতে হবে। মানুষ বাঁচানোর প্রযুক্তি। এর ফলে সব বাধা উপেক্ষা করে দেশটা বায়োটেকনোলজি আর জেনেটিকসে দুর্দান্ত অগ্রগতি অর্জন করল।  মেনিনজাইটিসের টিকা উদ্ভাবন করল। তারা লাং ক্যানসারের চিকিৎসাতেও দারুণভাবে সফল হলো। ভাইরোলজিতে ও ইন্টারফেরন আল্ফা ২বি উদ্ভাবন করল। তারপর একদিন সেই দেশের সেই তরুণ নেতা যিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, তিনি দেহ রাখলেন।

তারপর নতুন নেতারা দেশের হাল ধরেছেন কিন্তু নীতির পরিবর্তন হয়নি। তারপর বিশ্বজুড়ে কোরোনা ভাইরাসের মহামারী। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আর ধনী দেশগুলো যখন বাঁচার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে তখন সেই ছোট্ট দেশটি এগিয়ে এসেছে ডাক্তার নার্স ওষুধ নিয়ে। যে ইউরোপ একদিন তাদের মহাবিপদে ফিরেও তাকায়নি, সেই ইউরোপ আজ এই ছোট্ট দেশটির ডাক্তার ওষুধের আশায় আশায় দিন গুনছে। এই ছোট্ট দেশটা ওষুধের পেটেন্ট করলেই বিশাল ব্যবসা করতে পারত। কিন্তু তা করেনি। কেননা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবসার ক্ষেত্র নয়- এটাই তাদের নীতি। এই দেশের নাম কিউবা, সেই নেতা ফিদেল কাস্ত্রো।

আমাদের দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য আছে। বলার মতো, গর্ব করার মতো অনেক উদ্ভাবন আছে আমাদের। গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। আরো আধুনিক হাসপাতাল, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা, আরো ডাক্তার, আরো নার্স আরো আরো স্বাস্থ্যকর্মী দরকার। ডাক্তারদের সেবার মান ও মানসিকতা বাড়ানো দরকার। চিকিৎসা বাণিজ্যও নামে নৈরাজ্য বন্ধ করা দরকার। ওষুধে ভেজাল বন্ধ করা দরকার। ওষুধ কোম্পানিগুলোর অতি বাণিজ্যিক মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। চিকিৎসা গবেষণায় বিনিয়োগ খুব বেশি দরকার। সামগ্রিকভাবে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য সরকারের মনোযোগ দিতে হবে এখন থেকেই।

তবে সবার আগে দরকার করোনার সংক্রমণ ঠেকানো। আর এজন্য সরকারকে যত কঠোর ভূমিকা নিতে হয়, তাই নেওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, করোনা  মোকাবিলায় আমাদের সামর্থ্য সীমিত। চিকিৎসক, চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা, মান সবকিছুতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার ওপর এটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ঢাকা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ নগরী। সরকারের পদক্ষেপ সময়োপযোগী হয় না অনেক ক্ষেত্রে। আবার জনগণের মাঝে নাগরিক দায়িত্বশীলতারও অভাব রয়েছে।  ফেসবুকে দৃষ্টি দিলে মনে হয় সবাই দার্শনিক, বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার, গবেষক...। আমরা ভীষণ রকম প্রতিক্রিয়াশীল জাতি। খুব দ্রুত মতামত দিতে পছন্দ করি। পক্ষ-বিপক্ষ আর প্রতিপক্ষের  শেষ নেই। সমালোচকের অভাব নেই। দায়িত্বশীল ভূমিকায় কজন আছেন? আপনি প্রবাসী, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন বলেই আপনার স্বেচ্ছাচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি দেশের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারেন না অথবা আপনার কারণে দেশের জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা থাকলে আপনাকে অবশ্যই নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ম চলতে হবে। কারণ এই ঝুঁকি আপনার একার নয়। তাই আমাদের সবাইকে নাগরিক দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ অবস্থায় নিজের এবং অপরের সুরক্ষায়  যেকোনো নিয়ম  মেনে নিতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক আরো আগেই করা উচিত ছিল। সরকার এ পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে, ভুল করেছে। তাই বলে আমরা সচেতন হব না কেন। প্রবাসীর সংখ্যা বেশি এমন এলাকায় বিশেষ ও কঠোর ব্যবস্থা চাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে তবে শ্রমঘন প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও ভাবা দরকার। প্রত্যেক সিটি করপোরেশন ও  পৌরসভার উদ্যোগে জনগণের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। গণপরিবহনে মালিকদের উদ্যোগে স্যানিটাইজার ব্যবস্থা নিতে পারে। মালিকরা পুঁজিপতি তারা কেন এটা করবে না। ওষুধ কোম্পানিগুলো জনসচেতনতা এবং চিকিৎসাসেবায় কেন এগিয়ে আসছে না। সবাই নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আরেক মাফিয়া শ্রেণির বণিকরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনগণের পকেট কাটার ধান্ধা করছে। এ দেশে সবচেয়ে বড় অভাবটি হচ্ছে নাগরিক দায়িত্বশীলতা আর দেশপ্রেমের। যদিও এজন্য আমাদের রাজনীতি অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু আমাদের দায়-দায়িত্বের বিষটিকেও হাল্কা করে  দেখার সুযোগ নেই। একজন বুজুর্গ মুরুব্বির বয়ান শুনে অবাক হলাম। সাধারণত ওয়াজ মাহফিলে এ ধরনের কথা আগে কারো মুখে শুনিনি। তিনি বললেন, ‘এই বাঙালিরা এমন একটা জাতি, এরা পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ আর আন্ডারপাস থাকার পরও রাস্তার মাঝখান দিয়া দৌড় দিয়া রাস্তা পার হয়। এদেরকে নিয়ম মানাইতে হইলে আরো ১০০ বছর লাগব।’ হুজুরের মুখে এ কথা শুনে বিস্ময়ে ভাবলাম সত্যিই তো তাই। আমরা নিয়ম মানতে চাই না। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে উন্নত বিশ্বের মতো লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড বিধান কার্যকর করার বিকল্প নেই। যাই হোক করোনা আমাদের জন্য কেবল জাতীয় দুর্যোগ নয়, এটি আন্তর্জাতিক বড় মহামারী। তাই করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় নিজে সচেতন থাকা এবং অপরকে সচেতন করা এমনকি সচেতনতায় ভূমিকা নেওয়া এখন আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। এর ব্যতিক্রম কিছু হলে কেবল নিজের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে তা নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র চরম বিপদে পড়বে।

 

লেখক : বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads