• শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
মানচিত্র থেকে মুছে দেয়া হয়েছে এক ডজন গ্রাম

সংগৃহীত ছবি

সম্পাদকীয়

মানচিত্র থেকে মুছে দেয়া হয়েছে এক ডজন গ্রাম

  • মোহাম্মদ আবু নোমান
  • প্রকাশিত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

সৈনিকদের প্রতি নির্দেশ ছিল, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দেখামাত্র গুলি চালাবে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ এসব বাছবিচার করার দরকার নেই। যুবতীদের মাথার স্কার্ফ খুলে বেঁধে রেখে ধর্ষণ করা হয়। সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছিল, ‘ছেলে-বুড়ো যাকে দেখবে, তাকেই হত্যা করবে, কালারদের (রোহিঙ্গা বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়) সব নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে।’ এই নির্দেশনা সেনারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল। এভাবেই মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ আর নির্যাতনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে মিও উইন তুন (৩৩) এবং জাও নাইং তুন (৩০) নামের দুই সৈনিক। কীভাবে তারা একে একে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়, গণকবর, হত্যা ও ধর্ষণ করেছে তার বর্ণনা দিয়েছেন। জাও নাইং তুন বলেন, আমরা প্রায় ২০টি গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। পরে শিশু ও বয়স্কদের মৃতদেহ একটি গণকবরে ফেলেছি। মিও উইন তুন বলেন, হত্যা করার আগে তারা নারীদের ধর্ষণ করত। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই দুই সদস্যই অন্তত ১৫০ রোহিঙ্গাকে হত্যা এবং কয়েক ডজন গ্রাম ধ্বংসে অংশ নিয়েছিলেন। তাহলে গড় হিসেবে মিয়ানমারের লাখ লাখ সেনাবাহিনী কত মুসলমানকে হত্যা করেছে? হতাহতের সংখ্যা হয়তো কোনোদিন জানা যাবেও না; তবে ওই দুই সেনাসদস্যের উল্লিখিত সংখ্যা রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনার ক্ষুদ্র একটি চিত্র মাত্র। জাও নাইং তুন একসময় ছিলেন বৌদ্ধভিক্ষু। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ও তার ব্যাটালিয়নের অন্য সদস্যরা মংডুতে দোয় তান, এনগান চং, কিয়েত ইয়ো পাইন, জিন পাইং নায়ের, ইউ শে কিয়াসহ ২০টি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি আগুনে নিশ্চিহ্ন করা হয়।

 

গণহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দুই সেনার

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সুরে দুই সেনাসদস্য তাদের অপরাধের স্বীকারোক্তি দেয়। এ সময় তাদের চোখের পাতা পড়েছিল কয়েকবার। তাদের চোখেমুখে আবেগের সঙ্গে ছিল ভয় ও বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্নও। তাতে ফুটে ওঠে হত্যাযজ্ঞ, গণকবর, গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দেয়া আর ধর্ষণের বর্ণনা। ৩০ বছরের জাও নাইং তুন এবং ৩৩ বছরের মিও উইন তুনকে প্রথম দেখা যায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ইউটিউব চ্যানেলে। এ বছরের ২২ মে এই দুজনসহ মোট চারজনকে দেখা যায় মিয়ানমার আর্মির পোশাক পরিহিত অবস্থায়। চারজনই দাবি করেন, নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী থেকে পালিয়েছেন। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বর্ণনার আমরা মিল দেখতে পাই। ২০১৮ সালে মিয়ানমার সেনাকর্তৃক ধর্ষণ, শিশু, পুরুষদের হত্যা ও গণকবর দেয়ার পর্বতসম প্রমাণ প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস। পার্থক্য শুধু আগের বর্ণনাগুলো ছিল ভুক্তভোগীদের আর এবারের কথাগুলো বেরিয়েছে সরাসরি অপরাধীদের মুখ থেকেই।

সাবেক বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া নাইং তুন বলেন, সে ও তার ব্যাটালিয়ন কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৮০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। মিয়ানমার সরকার অব্যাহতভাবে তার দেশে গণকবরের অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়ে এসেছে। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস বিভিন্ন সময়ে বহু গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাতে গণকবর বা হত্যাযজ্ঞ নিয়ে তারা যে তথ্য ও স্থানের সন্ধান দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলে যায় সেনাদের দেয়া তথ্য। ওই সেনারা বলেছেন, তাদের ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ও অন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে অপরাশেন পরিচালনা করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল।

 

সু চির মিথ্যাচার

শান্তির মুখোশে নোবেল জয়ী, ভয়ংকর ক্ষমতালোভী, অহিংস নেত্রীখ্যাত, বহুরূপী, ধাপ্পাবাজ, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের প্রতীক তকমাধারী অং সান সু চি শত চেষ্টা করেও তার সহিংসতার মুখ ঢাকতে পারেননি। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সিদ্ধান্তদাতা সংস্থা বা আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে দাঁড়িয়েও সু চি মিথ্যা কথা বলে গণহত্যাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। আজ তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো। হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো বীভৎস ঘটনা ঘটিয়েও মিয়ানমার পার পেয়ে গেলে সেটা হতো গোটা বিশ্বের জন্যই লজ্জাকর। রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের আচরণ সবসময়ই শুধু শঠতা, অমানবিকতাই নয়, ছিল শতভাগ ন্যায়নীতির বিরোধীও। হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়াসহ তাদের জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার নীতি। হিটলারের নাৎসি সরকার যেমন ইহুদি জনগোষ্ঠীকে গ্যাস চেম্বারে পুরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, সু চির সরকারও হত্যার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সব রকমভাবে সন্ত্রস্ত করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, এসব মানুষের রাজনৈতিক ও আবাসিক অস্তিত্ব অস্বীকার করতে চেয়েছে। রাখাইনে তাদের ভিটেমাটি বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বসতভিটা এখন অচেনা জনপদে পরিণত হয়েছে। সেখানে কোনো একসময় রোহিঙ্গা জনবসতি ছিল এমনটা অনুমান করাও এখন দুঃসাধ্য। দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোর সীমাহীন গাফিলতি ও স্বার্থের হিসাব-নিকাশের কারণে মিয়ানমার এমন দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে।

বহুদিন ধরে রাখাইনে গণহত্যা, গণধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সু চি বলেছিলেন, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। বয়োবৃদ্ধ পুরুষ, মহিলা, শিশুরাও কি সন্ত্রাসী? বাকপটুতার সঙ্গে সু চি বলেছিলেন, ‘তিনি কিছুই শোনেননি, কিছুই জানেন না...। রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে খুঁজে দেখবেন।’ সারা পৃথিবী দেখছে কেন রাখাইন থেকে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, আর সু চি জানেন না? রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার ডাক দিয়ে মিয়ানমার সেনাপ্রধান বলেছিলেন, ‘মুসলমানরা পালাও, নইলে সবাইকে মেরে ফেলব।’ আর সু চি বলেন, ‘রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে...?’ এভাবে বারবার সত্যের অপলাপ করে আসছেন মিয়ানমার নেত্রী সু চি।

 

দুই মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুঃস্বপ্নের কথা

যে গ্রামে মায়ো উইং তুনের দল অভিযান চালিয়েছিল, ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট দুই সন্তানসহ সেই কিয়েত ইয়ো পাইন গ্রাম থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আসেন ৩০ বছর বয়সী রেহানা। ফোর্টিফাই রাইটসকে এক সাক্ষাৎকারে গ্রামবাসীর ওপর সেনাবাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিয়ে রেহানা বলেন, ‘সেনারা ঝড়ের মতো আমাদের গ্রামে আসে। সামনে যাকেই পায় তাকেই মাথা কেটে হত্যা করে। কাউকে কাউকে কেটে টুকরো টুকরো করে। সেদিন আমার স্বামী আর আমার বাবাকেও এভাবেই হত্যা করা হয়। গুলির শব্দে চারদিক ঝনঝন করছিল। আমরা দেখলাম, গ্রামে ঢুকে গুলি ছুড়ছে সেনারা। গ্রাম ছেড়ে পালানোর সময় দেখলাম, এখানে সেখানে মাংসের টুকরো পড়ে আছে।’ কিয়েত ইয়ো পাইনে সেনারা কীভাবে ছোট ছোট শিশুদের মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আগুনে ফেলে হত্যা করেছিল, তার বর্ণনাও উঠে আসে ফোর্টিফাই রাইটসের রিপোর্টে। ৩৫ বছর বয়সী মা ওয়াই নি বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই দুঃস্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা তার দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ের কোল থেকে কেড়ে নেয় আর সঙ্গে সঙ্গে আগুনে নিক্ষেপ করে। সেদিনের কথা স্মরণ করে ওয়াই নি বলেন, ‘আমরা কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আগুন থেকে আমার মেয়েকে সরাতে দেয়নি সেনারা। ছোট্ট মেয়ের পুড়ে যাওয়া দেখে আমরা চিৎকার করছিলাম...।’

 

দ্য হেগ থেকে আদালত বাংলাদেশে স্থানান্তরের অনুরোধ

রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে শুনানি হবে, সেটি যেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আদালত বসিয়ে করা হয়, সেরকম একটি আবেদন পেশ করা হয়েছে। যেহেতু নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশেই আছেন, তাই এটি বাংলাদেশে হলে শুনানিতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দেওয়া সহজ হবে বলে আমরা মনে করি। দ্য হেগ থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব আনুমানিক ৮ হাজার কিলোমিটার। সেখানকার শরণার্থী শিবিরে নির্যাতনের শিকার যে রোহিঙ্গারা থাকেন, তাদের জন্য এই দূরত্ব একেবারেই অনতিক্রম্য‍। আইসিসির রুল অনুযায়ী, স্বাগতিক দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশেও এই আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ আছে। রোম স্ট্যাটিউটের একটি ধারা ও আন্তর্জাতিক আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো মামলার পুরো বা আংশিক শুনানির জন্য অন্য কোনো স্থানেও বসতে পারে বলে আমরা জানি। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির তিন নম্বর ‘প্রি ট্রায়াল চেম্বার‌’ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগকে আদেশ দিয়েছে, দ্য হেগ থেকে অন্য কোনো দেশ, যেমন বাংলাদেশে আদালতের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের আগেই এই সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

 

মিয়ানমারের জন্য বড় ধাক্কা

সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া দুটি ঘটনার ফলে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের দুজন পক্ষত্যাগকারী সৈন্য রোহিঙ্গা গণহত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তাদের দ্য হেগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুই সৈনিকের যে ভিডিও টেস্টিমোনি বা স্বীকারোক্তিমূলক ভাষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। কারণ এতদিন যে অভিযোগগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হচ্ছিল, তাদেরই দুজন সদস্য সেই অপরাধের কথা স্বীকার করলেন। এটা একদিক থেকে খুবই ভালো খবর। আমরা বলতে পারি, এতদিন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছিল, এটা তার প্রমাণ। সম্প্রতি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচারে আইনগত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও কানাডা। তারা ওই অপরাধকে সব মানবতার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছে।

 

রোহিঙ্গাদের গ্রাম এবার মানচিত্র থেকেও নিশ্চিহ্ন

তিন বছর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্র থেকেও গ্রামটিকে মুছে ফেলা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই গ্রামটিতে আগে থেকেই বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। জাতিসংঘ জানায়, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে কান কিয়া গ্রামের অস্তিত্ব নেই। নাফ নদী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ পরিবারের বাস ছিল। ২০১৭ সালের অভিযানের সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনী কান কিয়ার মতো অন্তত চারশ গ্রাম ধ্বংস করেছে বলে জানায় নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’। তারা ভূ-উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছেন। ধ্বংস করা গ্রামগুলোর মধ্যে অন্তত এক ডজন গ্রামের নাম এখন মানচিত্র থেকেও মুছে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক দূত ইয়াংহি লি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার ইচ্ছা করেই শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফেরা কঠিন করে দিচ্ছে। তারা কীভাবে সেই জায়গায় ফিরবে, যার কোনো নাম নেই বা যেখানে তাদের বসবাসের কোনো চিহ্ন নেই?’ ‘এভাবে সেখান থেকে তাদের শেকড় নির্মূল করে দেওয়া হচ্ছে’ বলেন তিনি।

আমরা জানি, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন অনুযায়ী আইসিসি ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক অপরাধ। যারা এই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads