• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ভাইরাস আক্রান্ত রাজনীতি

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

ভাইরাস আক্রান্ত রাজনীতি

  • মহিউদ্দিন খান মোহন
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সর্বত্র এখন আলোচনার শীর্ষে ভাইরাস। এক করোনা ভাইরাস গোটা পৃথিবীর দৈনন্দিন জীবনাচার ওলটপালট করে দিয়েছে। এক ধরনের অস্বস্তিকর অস্বাভাবিকতা গ্রাস করেছে সবকিছু। পৃথিবীর কোথাও মানুষ এখন ভালো নেই। প্রতি মুহূর্তে শংকা। কে, কখন, কীভাবে করোনার শিকার হবে কেউ জানে না। সতর্ক থাকতে হচ্ছে সবসময়। স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে আমাদের ঘুণেধরা স্বাস্থ্য বিভাগও দিয়ে যাচ্ছে। সে তাগিদ কেউ আমলে নিচ্ছে, কেউ নিচ্ছে না। সংক্রমণও থেমে নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশেও সংক্রমণ থামেনি। তবে, ইদানীং পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্ত কম হচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা হ্রাস পায়নি খুব একটা। তারপরও আমরা ‘সাহসী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নেমে পড়েছি রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, মাঠে-ময়দানে, সবখানে। ভাবটা এমন— ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়...।’ তা করোনার বিরুদ্ধে আমরা জয়লাভ করি এটা সবাই চাই। তবে যেভাবে আমরা উদাসীনতার রোগে আক্রান্ত, তাতে জয় করায়ত্ত করা সহজ হবে কি-না বলা কঠিন।

যাক সে কথা। আজ আলোচনা করতে চাই অন্যরকম একটি ভাইরাস নিয়ে। এ ভাইরাসের বিশেষ কোনো নাম নেই। কোনো গবেষণাগারে এটাকে নিয়ে গবেষণাও হয়নি। তবে, যত্রতত্র আলোচনা হচ্ছে অহর্নিশি। আর এ ভাইরাস আক্রমণ করেছে আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে। ফলে অনেকেই শঙ্কিত এই ভেবে যে, ওই ভাইরাস আমাদের গোটা জাতীয় জীবনকে বিপর্যস্ত করে না দেয়। ভাইরাসটি আক্রমণ করেছে আমাদের রাজনীতিকে। প্রাণীর দেহে আক্রমণকারী ভাইরাস অনুবীক্ষণযন্ত্র ছাড়া দেখা না গেলেও, রাজনীতিকে আক্রমণকারী ভাইরাসকে খালি চোখেই দেখা যায়। আর রাজনীতির দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে কি-না তা বোঝার জন্য কোনো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষারও প্রয়োজন পড়ে না। রাজনীতির হাল-হকিকত ও ছবি-সুরত দেখলেই অনুমান করা যায় ভাইরাস তাকে কতটা কাবু করেছে। রাজনীতির দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করে হয়নি। ধীরে ধীরে তা প্রবেশ করেছে, এখন তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

সহূদয় পাঠকের মনে নিশ্চয়ই এতক্ষণে রাজনীতির দেহে সংক্রমিত ভাইরাসটির নাম জানার কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। আগেই বলেছি, এর বিশেষ কোনো নাম নেই। তবে, সামগ্রিকভাবে এ ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘অবক্ষয়’ হিসেবে। হ্যাঁ, অবক্ষয় নামক ভাইরাস আমাদের রাজনীতিকে এমনভাবে আক্রান্ত করেছে যে, তাকে এখন চিনতে কষ্ট হয়। যে রাজনীতি এক সময় মানুষের মনে আশার আলো জ্বালাতো, উজ্জীবিত করত, সত্য-ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করত, সে রাজনীতি এখন হয়ে পড়েছে দিক-নির্দেশনাহীন। এক সময় আমাদের দেশের রাজনীতি ছিল বাতিঘরের ন্যায়। সমুদ্রে চলাচলকারী জলযান যেমন রাতের অন্ধকারে পথের দিশা পায় বাতিঘর দেখে, তেমনি আমরা যখন সমস্যা-সংকটে পথ হারাতাম, তখন রাজনীতি আমদেরকে পথের দিশা দিত। এ দিশা আমরা পেয়েছি বায়ান্নতে, বাষট্টিতে,  উনসত্তরে এবং একাত্তরে। কিন্তু সে রাজনীতি আজ নিজেই যেন পথ হারিয়েছে। কবি রফিক আজাদের একটি বিখ্যাত কবিতা— ‘গদ্যের গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া আমি এক দিকভ্রান্ত পথিক’। আমাদের রাজনীতিও যেন তেমনি অবক্ষয়ের গহিন অরণ্যে পথ হারিয়ে কিছুতেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।

এক সময় রাজনীতিকে অত্যন্ত সম্মানীয় কাজ মনে করা হতো। সমাজে রাজনৈতিক নেতাদের মর্যাদা ছিল আলাদা। তারা ছিলেন সম্মানের পাত্র। সাধারণ মানুষ মনে করত, রাজনীতির সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা সবার চেয়ে আলাদা। তাদের নিজস্ব কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, নেই কোনো স্বার্থপরতা। ফলে নেতাদের তারা আন্তরিকভাবেই সম্মান-শ্রদ্ধা করত। রাজনীতি করতে এসে পৈতৃক সম্পত্তি খুইয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, এমন নজিরের অভাব নেই আমাদের দেশে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়, বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলায় শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের শিকার হয়েছেন তারা। বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জীবনের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করেছেন। তারপরও তারা রাজনীতির পথ থেকে সরে যাননি। রাজনীতিকে তারা ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আর সেজন্যই জেল, জুলুম, কারাবাস তাদেরকে সে পথ থেকে হটাতে পারেনি।

কিন্তু আজ সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। গত এক শতাব্দীতে পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, মানুষের জীবনাচারেও এসেছে পরিবর্তন। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই আছে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনটি গত অর্ধশতাব্দীতে এসেছে, তার প্রায় পুরোটাই নেতিবাচক। রাজনীতি এখন আর মানবসেবার ব্রতের জায়গায় নেই। তদস্থলে তা হয়ে উঠেছে কতিপয় স্বার্থলোভীর স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার। না, এ কথা হলফ করে বলা যাবে না যে, রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ একেবারেই নেই। আছেন এখনো কিছু মানুষ, যারা রাজনীতিকে দেশ ও মানুষের কল্যাণের বাহন বলেই মনে করেন। তারা মানুষকে, দেশকে কিছু দেওয়ার জন্যই সম্পৃক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। কিন্তু তারা এখন কোণঠাসা। অসৎ, অসাধু আর চরিত্রহীনদের প্রাবল্যে তারা নাক-কান গুঁজে রাজনীতির মাঠের এক কোনায় পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে রাজনীতির মাঠে তারাই ছড়ি ঘোরায়, যারা শুধুই নিতে এসেছে, দিতে নয়।  সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে আশা করি। প্রথমেই আসা যাক সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনায় অপূর্ব সাজুয্য রয়েছে। দল দুটিতে প্রার্থী হিসেবে এখন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকের চাইতে পয়সাওয়ালা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের কদর বেশি। যার ফলে আজ জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের অংশ তিয়াত্তর শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ এ ভূখণ্ডের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে (১৯৫৪) এর সংখ্যা ছিল মাত্র চার শতাংশ। ছেষট্টি বছরে জাতীয় সংসদের মতো জাতীয় ফোরামে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের এই প্রাধান্য কি রাজনীতির জন্য অশনি সংকত নয়? আর দুই দশক পরে যদি এ সংখ্যা ১০০ শতাংশে দাঁড়ায়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে বলে মনে হয় না। অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম দখলের জন্য শীর্ষ রাজনীতিকদের মানসিকতার অবদান অস্বীকার করা যাবে না। এরকম একটি ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী আমি নিজেই। বাতিল হয়ে যাওয়া ২০০৭ সালের নির্বাচনের পূর্বের ঘটনা। আমি তখন সদ্য ক্ষমতাত্যাগী দলটির নির্বাচনী কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর আসনে মনোনয়ন চাইলেন একজন সাবেক ছাত্রনেতা। আমরাও চাচ্ছিলাম ওই ছাত্রনেতাই মনোনয়ন পাক। সবকিছু যিনি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তাকে বললাম কথাটি। কিন্তু তিনি যা বললেন, তাতে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। ভ্রুকুঞ্চিত করে তিনি বললেন, ওকে নমিনেশন দিয়ে কী হবে? ওর কি নির্বাচন করার টাকা আছে? পরে দেখা গেল, ওই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি, যিনি অতি ধনাঢ্য, তাকে এনে মনোনয়ন দেওয়া হলো। কপাল পুড়ল সাবেক ছাত্রনেতার। এভাবে টাকার কাছে দলের সিদ্ধান্ত বিকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রকারান্তরে কি বিরাজনীতিকরণকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না? শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, হালে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু হওয়ায় এসব ক্ষেত্রেও চলছে মনোনয়ন বিকিকিনি। মনোনয়নের এই বেচা-বিক্রি যে রাজনীতিতে মারাত্মক অবক্ষয়কে প্রকটতর করে তুলছে তা বোধ করি অস্বীকার করা যাবে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে গেল সপ্তাহে। একজন ব্যবসায়ী হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে স্থান পেয়েছেন। ঘটনাটি চমকে দিয়েছে প্রায় সবাইকে-ই। এ অরাজনৈতিক ব্যক্তির আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের কেন্দ্রীয় সম্পদকমণ্ডলীর সদস্যপদ লাভ নানা ফোরামে সমালোচিত হচ্ছে।

বড় দুটি রাজনৈতিক দলে এখন পদ বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগটি আগে  বিএনপির বিরুদ্ধে শোনা যেত। এখন আওয়ামী লীগও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। বিএনপিতে দলের পদ-পদবি, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বা জেলা-উপজেলা কমিটি টাকার বিনিময়ে অনুমোদন দেওয়া একরকম ওপেন-সিক্রেট। এ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাঙ্গামা এবং চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংঘর্ষের খবর গণমাধ্যমেও এসেছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ শোনা গেছে। এমনকি ওই পন্থায় যারা সংগঠনে ঢুকে পড়েছিল তাদেরকে ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মূল দলটির সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার দিতে শোনা গেছে। শোনা যায়, ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এ পন্থা অবলম্বন করেই ফ্রিডম পার্টির কর্মী থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকে রূপান্তরিত হয়েছিল। একই পদ্ধতিতে যুবদল নেতা জি কে শামীম বনে গিয়েছিল যুবলীগ নেতা। আর হাওয়া ভবনে যাতায়াতকারী মো. সাহেদের হালে প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ নেতায় পরিণত হওয়ার পেছনেও রয়েছে মালকড়ির কেরামতি। ঠিক একইভাবে রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে পেরেছিল বিতর্কিত মহিলা বর্তমানে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এবং লুপা তালুকদার।

প্রশ্ন হলো, এই বিতর্কিত মানুষগুলো রাজনীতির আসরে কল্কে পেল কীভাবে? এরা তো হঠাৎ করে আসমান থেকে নাজিল হয়নি! দলে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এরা কারো না কারো আশীর্বাদ-পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। কারা দিয়েছিল সে পৃষ্ঠপোষকতা? দেখা যায় যখনই এই বিতর্কিত মানুষগুলোর অপকর্মের খবর চাউড় হয়, তখন আর কেউ তাদের দায়িত্ব নেয় না। সবাই নীরব হয়ে যায়। অনেকে আবার এমন ভাব দেখান যে, ওই নামের কাউকে তিনি কস্মিনকালেও দেখেননি বা চিনতেন না। এমন কী তার নামও শোনেননি! অথচ স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে তারই সাথে দেখা যায় সাহেদ, শামীমা, পাপিয়া, লুপাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ।

রাজনীতিতে নতুনরা আসবে এটাই স্বাভাবিক। প্রাকৃতিক নিয়মেই পুরনোদের একদিন বিদায় নিতে হয়। তদস্থলে নতুনরা এসে সে শূন্যস্থান পূরণ করবে এটাই চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু যেসব নতুন কেতন আমরা রাজনীতির মাঠে উড়তে দেখছি, তারা কি আমাদের জন্য আশা জাগানিয়া? যোগ্যতার বলে নয়, দক্ষতার বলে নয়, কিংবা নয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বলেও, শুধুমাত্র টাকার বলে যারা দলে নেতার আসনে উপবেশন করার সুযোগ পায়, জাতীয় সংসদের ফ্লোরে পা ফেলার সুযোগ পায়, জাতি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারে? একটি বিষয় অবশ্যই স্বীকার্য যে, আমাদের দেশে যে দল যখন সরকারে থাকে, সে দলেই এ ধরনের হাইব্রিড নেতাদের সমাগম বেশি হয়। এর কারণ মধু। মধু যেখানে মধুপোকাও সেখানে। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের আখের গোছানোর সুযোগ পাওয়া যায় বলেই তারা সেখানে এসে ভিড় জমায়। আর কিছু নেতা তাদেরকে ব্যবহার করে নানারকম ফায়দা লোটার ফিকিরের মানসে এদেরকে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। মূলত রাজনীতির মাঠে বিচরণকারী কিছু নেতার অনৈতিকতার ফলেই আজ রাজনীতি কলুষিত। কথাটি আমার নয়, রাজনৈতিক বোদ্ধাদের। এদের কারণেই রাজনীতি আজ সাধারণ মানুষের কাছে বিরক্তির বিষয়, অনেকের কাছে পরিত্যাজ্য বলে অনুভূত।

নিবন্ধের গোড়ার দিকে রাজনীতিতে যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কথা বলেছি, এটাই সে ভাইরাস। অনৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়েছে অবক্ষয়। আর অবক্ষয় রাজনীতিকে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশের খাদের কিনারায়। শংকার বিষয় হলো, ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এর কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে, প্রতিরোধের ব্যবস্থা আছে। আর তা জনগণের ঐক্যের মধ্যেই নিহিত। জনগণ যদি ওই ভাইরাসবাহী নেতাগুলোকে পরিত্যাগ করে, তাহলেই এর মারাত্মক সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। অন্যথায় সামনে নিকষ কালো অমানিশা।

 

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক     

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads