• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা

এক সফল রাষ্ট্রনায়কের প্রতিকৃতি

  • প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি

 

 

বর্তমান বিশ্বে যে কয়জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও প্রশংসিত তাদের অন্যতম হচ্ছেন বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বড় পরিচয় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। একদিকে তিনি যেমন মমতাময়ী মা অন্যদিকে একজন দক্ষ প্রশাসক। তিনি সংস্কৃতি অনুরাগী একজন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছেন তিনি তার সফল নির্মাতা। সাধারণ মানুষের সুখ-দুু:খের সঙ্গে পরিচিত একজন মমতাময়ী,  মানবতাবাদী এবং দেশপ্রেমিক সরকারপ্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশেরও রূপকার।

যে দেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মার্কিনীরা তলাবিহীন ঝুড়ি বলতেন, সেই দেশকে সমৃদ্ধির অনন্য উচ্চতায় নিয়ে এসেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। খাদ্যঘাটতির একটি দেশ, ভূমিধস, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের কাছে তাক লাগানো একটি দেশ। ইউরোপ যেখানে মানবতায় সোচ্চার, অথচ সারা দুনিয়ার লোক লক্ষ করেছে সেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অন্যদেশ থেকে আশ্রয় নিতে আসা লোকগুলোকে আশ্রয় দেয়নি। বৃদ্ধ-শিশু-মহিলাসহ হাজার উদ্বাস্তুদের সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করেছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের কারণে সারা দুনিয়ার মানুষ ইউরোপের এই ধরনের দ্বিমুখী কাজ প্রত্যক্ষ করেছে। আর সেই জায়গায় মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দুনিয়ায় একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আমার দেশের মানুষ এক বেলা না খেয়েও তাদের খাওয়াবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবনচরিত অনন্য; তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব দেশে-বিদেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধু এই দেশকে নিয়ে যে ধরনের চিন্তাভাবনা করতেন, সেই স্বপ্নগুলোর প্রত্যেকটি সফল বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর কর্মী আমাদের কাছে এবং জনগণের কাছে তিনি সবসময় শ্রদ্ধার উঁচু জায়গায় অবস্থান করছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ ছিল, লোডশেডিং যেখানে নিত্যদিনের ব্যাপার ছিল, পূর্বেকার বিএনপি সরকারের আমলে যেখানে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল, তারা বিদ্যুৎ না দিয়ে সারাদেশে বিদ্যুতের খুঁটি বিলি করেছে। সেই বাংলাদেশ আজ বিদ্যুৎ-এ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। বিদ্যুতের জন্য আর এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না, ফেরি করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। এই দেশকে বিশ্বে জামাত-বিএনপি সরকার ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই জাতি দুর্নীতির দুর্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে। দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে বলা যাবে না, কারণ বিগত স্বৈরশাসকগুলোর কারণে এর শিকড় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে। বর্তমান সরকার জাতিকে এই সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। ভারতের সঙ্গে সংকট সমাধান করে করিডোর নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বিজয়ী হয়ে দেশের আয়তনের চেয়েও বেশি সামুদ্রিক এলাকাকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এ সাফল্যের কারণে সমুদ্রের গভীরে যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, সেটি আহরণ করা গেলে আমার বিশ্বাস এই দেশের মানুষকে আর প্রবাসে চাকরি করতে হবে না। দেশেই ব্যাপক আকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই দেশে খাদ্য সমস্যা নিত্যদিনের সমস্যা ছিল, খাদ্যের জন্য বিদেশের উপর নির্ভর ছিলাম আমরা। আজকে আর সেই অবস্থা নেই। গ্রামে প্রতি বছরেই ফসলি জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মিত হচ্ছে, কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জমির পরিমাণ কমলেও কৃষিবিদদের প্রচেষ্টা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে দেশের ঘাটতি মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এই সবকিছুর দাবিদার জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারের আমলে এত ব্যাপক উন্নতি হয়নি। প্রাক ইসলামিক যুগেও হত্যাকাণ্ড হয়েছে, বর্তমানে শতভাগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে আমি দাবি করব না; কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে যে উন্নতি হয়েছে তা আগেকার কোনো সরকারের আমলে হয়নি। আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতিরাতে ৫-১০টা ডাকাতি হতো, সাতকানিয়ায় প্রতি সপ্তাহে আট দশটি ডাকাতি হতো, পটিয়া-বোয়ালখালীতেও প্রতি মাসে ৫-১০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটত; আজ সেই জায়গায় এই ডাকাতির ঘটনা নির্মূল হয়ে গেছে। স্বৈরশাসকদের আমলে হাইজ্যাক-ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। হাইজ্যাক-ছিনতাই ও অন্যান্য দুর্ঘটানায় তৎকালীন বিএনপি সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এই জায়গায়ও পরিবর্তন এসেছে। আমাদের দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে জামাত-বিএনপি সরকারের আমলে সরকারের সহযোগিতায় ৫০০ জায়গায় একই দিন বোমা হামলা হয়েছে। বিএনপি-জামাত সরকারের কারণে একটি ঘটনার হোতাদেরও গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। বর্তমান সরকারের আমলে এই ধরনের কোনো ঘটনা জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি। সরকার যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো বেশি উন্নতি হবে। অথচ জামাত-বিএনপি সরকার অন্যদেশের দুস্কৃতকারীদের এদেশের মাটি ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে লালন করেছে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বক্ষেত্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।

পঁচাত্তরের সেই ঘোর অমানিশা কাটিয়ে স্বজনহারা মৃত্যুর ঝুঁকিকে পরোয়া না করে বাংলার নিপীড়িত মানুষকে আপন হূদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮০ সালের ১৭ মে এক বৃষ্টিস্নাত দিনে স্বদেশের মাটিতে ফিরে এসেছেন। যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন পিতা-মাতা-স্বজন প্রতিভূ রক্তস্নাত দেশটির মৃতদেহ। ‘সহসা সেদিন/বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে/ভিজে ভিজে হেঁটেছিলো সারাদেশ/অজস্র চোখে মিশে গিয়েছিল এই চোখ/অশ্রু ফোঁটারা লুকিয়ে ঝরেছে মনে/বৃষ্টি ও অশ্রুতে একাকার চারিদিক/হূদয়ে কান্না/মুখে-মর্মর বেদনার মহাদেশ/প্রতিরোধে ক্রোধে ঘৃণার বারুদে/অতীত ফিরেছে আগামীতে মিশে যেতে/লক্ষ নদীর স্রোতে জেগে উঠেছিল বাতিঘর/আশার আলোর রেখা...’।

সেই থেকে দুর্গমগিরি, কান্তার-মরু-পারাবার হলো শুরু। কত দুস্তর, কত কণ্টকাকীর্ণ ছিলো এই পথ! অসংখ্যবার তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় ও দেশবাসীর দোয়ায় প্রতিবারই তিনি বিপদমুক্ত হয়েছেন। বাধার পাহাড় অতিক্রম করে সম্মুখবর্তী হয়েছেন-সেই কঠিন যাত্রায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী আলোকোজ্জ্বল মধ্যাহ্নে দাঁড়িয়ে। অনন্ত বিস্ময় হয়ে গোটাবিশ্বকে আলোকিত করেছেন। মানবতার জননী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সবার হূদয় করেছেন জয়। তিনি আমাদের অযুত সাহস, অনন্ত বিস্ময়-উন্নয়নে অর্জনে তিনি আজ গোটা বিশ্বের রোল মডেল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপপ্রাপ্ত একের পর এক সম্মাননা, ডক্টরেট পদক হাতে তুলে নিয়ে তা তিনি প্রাণপ্রিয় দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। শেখ হাসিনার কারণে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মান একটি বিশেষ জায়গায় পৌঁছেছে। ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেনস এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ অর্জনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদত্ত আন্তর্জাতিক পদকের সংখ্যা ৩৭টিতে উন্নীত হলো।

চলতি মেয়াদসহ চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মায়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। শান্তি, শিক্ষা, সম্প্রীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। যা সম্ভব হয়েছে তার দূরদর্শিতা ও দেশের প্রতি নি:স্বার্থ ভালোবাসার কারণে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ঝুলিতে জমেছে অনেকগুলো অর্জন। তিনি আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা পদক পেয়েছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৪১টি পুরস্কার, পদক, ডক্টরেট ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের বেশকটি পুরস্কার রয়েছে। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারপ্রাপ্তি জাতিকে গর্বিত করে। তিনি যে একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন সেই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। তার পরিকল্পনা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া অর্জনগুলোর একটি খন্ডচিত্র এরকম :

২০১৮ : নারী নেতৃত্বের সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জমকালো অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল সামিট অব উইমেন শেখ হাসিনাকে এই মর্যাদাবান সম্মাননা প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে এক নারী নেতৃত্ব সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় ১৫শ’ নারী নেতাদের মুহূর্মুহূ করতালির মাঝে গ্লোবাল সামিট অব উইমেনের প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদের কাছ থেকে এ পুরস্কার প্রহণ করেন।

২০১৬: লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের দুটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কারগুলো হলো— ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’। ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারটি দেওয়া হয় ইউএন উইমেনের পক্ষ থেকে। আর ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ দেয় গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম।

২০১৫: চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

২০১৫: ITU (International Telecom Union) Award. ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

২০১৫: WIP (Women in Parliament) Global Award. রাজনীতিতে নারী পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনে ২৫ মার্চ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

২০১৪: শান্তিবৃক্ষ পদক (Peace Tree Award)। নারী ও শিশুশিক্ষা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেন। এছাড়াও খাদ্য উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভারসিটি প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করে।

২০১৩: South South Award খাদ্য নিরাপত্তা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

২০১৩: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নপ্রসূত ‘একটি বাড়ি ও একটি খামার প্রকল্প’ ‘ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য তথ্য-প্রযুক্তি মেলায় ২৩ সেপ্টেম্বর সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক’ 'Manthan Award' ২০১৩ পদকে ভূষিত হন।

২০১৩: জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় ১৬ জুন বাংলাদেশকে Diploma Award পদকে ভূষিত করে।

২০১২: শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা করে।

২০১২: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্য UNESCO ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীকে Cultarul Diversity পদকে ভূষিত করে।

২০১১: ২৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের হাউজ অব কমনসের স্পিকার Jhon Bercwo MP প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার অনবদ্য অবদানের জন্য Global Diversity Award প্রদান করেন।

২০১১: South South Award স্বাস্থ্য খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য International Telecommunication union (ITU) South South News এবং জাতিসংঘের আফ্রিকাসংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে South South Award 2011 : Digital Devolopment Health পুরস্কারে ভূষিত করে।

২০১১: স্বর্ণপদক (গণতন্ত্র সুসংহতকরণে প্রচেষ্টা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখার জন্য), ডফিন বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্রান্স।

২০১১: বাংলা অ্যাকাডেমির সম্মাননাসূচক ফেলোশিপ পেয়েছেন।

২০১০: MDG (Millenium Devolopment Goal) Award : শিশু মৃত্যু হ্রাসসংক্রান্ত MDG-4  অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এ পুরস্কার প্রদান করে।

২০১০: ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অসমান্য অবদানের জন্য St.Petrsburg University প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করেন।

২০১০: ১২ জানুয়ারি বিশ্বখ্যাত ‘ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক ২০০৯’-এ ভূষিত হন।

২০০৫: জুন মাসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির পক্ষে অবদান রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া।

২০০০: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য ম্যাকন ওমেনস কলেজ যুক্তরাষ্ট্র ‘পার্ল এস বাক পদক’ প্রদান করে।

২০০০: ৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় Doctor Honorius Causa প্রদান করে।

২০০০: ৫ সেপ্টেম্বর University of Bridgeport কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে Doctor of Humane letters প্রদান করে বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে অবদানের জন্য।

১৯৯৯: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৯৯: ২০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অবদানের জন্য।

১৯৯৯: ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ FAO কর্তৃক ‘সেরেস পদক’ লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৮: নরওয়ের রাজধানী অসলোয় মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এম কে গান্ধী’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

১৯৯৯: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লজ পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৮: এপ্রিলে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে ‘মাদার তেরেসা পদক’ প্রদান করে নিখিল ভারত শান্তি পরিষদ।

১৯৯৮: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখার জন্য ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ‘ফেলিক্স হুফে বইনি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

১৯৯৮: ২৮ জানুয়ারি শান্তি নিকেতন বিশ্বভারতীর এক আড়ম্বরপূর্ণ বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানমূচক ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭: লায়ন্স ক্লাবসমূহের আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ‘রাষ্ট্রপ্রধান পদক’-এ ভূষিত হন।

১৯৯৭: রোটারি ইন্টারন্যাশনালের রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ‘পল হ্যারিস ফেলো’ নির্বাচিত করে এবং ১৯৯৬-১৯৯৭ সালের সম্মাননা মেডেল প্রদান করে।

১৯৯৭: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি শান্তি, গণতন্ত্র ও উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে ‘নেতাজি মেমোরিয়াল পদক ১৯৯৭ প্রদান করে।

১৯৯৭: ২৫ অক্টোবর গ্রেট বৃটেনের ডান্ডি অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডক্টর অব লিবারেল আর্টস’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭: ১৫ জুলাই জাপানের বিখ্যাত ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭: ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ উপাধি প্রদান করে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নবাহু। কেবল জল-স্থল নয় আন্তরীক্ষেও আজ আমাদের গৌরবময় বিচরণ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশেও জননেত্রী শেখ হাসিনা এক টুকরো বাংলাদেশ স্থাপন করে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সাহসকে গগনচুম্বী করেছে। এক্ষেত্রে শেখ হাসািনর সুযোগ্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বিচক্ষণ ভূমিকাও প্রশংসার দাবি রাখে। পিতা-কন্যার এই পরম্পরা, এই শুভক্রম আমাদের বিস্ময়।

জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাজীবন চরম হুমকির মধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশ্যে জনসভায় তাঁকে হত্যা করার জন্য বিএনপি-জামাত জোট পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করেছে। এই নির্মম বর্বরতা দেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সমস্ত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সেদিন মৃত্যুবরণ করতে পারত। মহান আল্লাহপাকের রহমতে তিনি বেঁচে যান। কিন্তু আমরা হারিয়েছি দেশের প্রখ্যাত নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ প্রায় ২৪ জন নেতা-কর্মীকে। এখনো বোমার স্প্রীনটারের যন্ত্রণা সহ্য করছে ৫ শতাধিক কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতা-কর্মী। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং দেখতে গেছেন। অথচ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ন্যূনতম সৌজন্যবোধবশতও আহত শেখ হাসিনাকে দেখতে যাননি। খালেদা জিয়া সরকার গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত একজন আসামিকেও গ্রেফতার না করে বরঞ্চ জঙ্গিদেরকে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। দেশবাসী এবং আমরা শেখ হাসিনার কর্মীরা লক্ষ করেছি বেগম খালেদা জিয়া সংসদে সমবেদনা জ্ঞাপন করেননি, বরঞ্চ হাস্যরস করে বলেছেন— ‘শেখ হাসিনা ভেনিটি বেগে করে বোমা নিয়ে গেছেন’। অথচ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে ডেকেছেন, চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না বলেই এই দাওয়াতে তিনি আসেনি। খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর তার লাশ দেখতে গেলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গেটে আটকে দিয়ে লাশটা পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। এদেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকার আন্দোলনের নাম করে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। খালেদা জিয়া এবং তার সন্তান কখনো গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না, সবসময় তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

আজকে দেশের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ব্যাপক সফল। পৃথিবীর যে জায়গায় শান্তি ছিল না, সেখানে শান্তি মিশনে গিয়ে প্রশংসার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ সেই স্বৈরশাসকদের আমলে সেনাবাহিনীকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিছু বিপথগামী সদস্যের কারণে বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছে, আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছেন। আজকে প্রত্যেকটি বাহিনী শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করছে। আজকে পুলিশ বাহিনী দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সব কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। আজ সব বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সারাবিশ্বে প্রশংসিত। এর একমাত্র কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কঠোর অবস্থান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবনব্যবস্থা বিশ্বের অন্য সরকার প্রধান থেকে ব্যতিক্রমী। তিনি সরকার প্রধান, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণ মানুষের ন্যায় তার অনুভূতি ও আচরণ। একবার তিনি আমাদের নিজেই বলেছেন, ‘আমি হাই থিংকিং ও লো লিভিং-এ বিশ্বাসী’। আমার ব্যক্তিগত সুযোগ হয়েছিল দুইবার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার। একবার ইতালির মিলানে এশিয়া-ইউরোপ সম্মেলন এবং গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তার মানবিক গুণাবলি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বিমানে আমরা ইতালির পথে রওনা দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর পেছনে ৫ নম্বর সারিতে আমার সিট নির্ধারিত ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা বিমান চলার পর প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যান। আমি ধারণা করেছিলাম, হয়তো তিনি ওয়াশ রুমে যাবেন, কিন্তু তিনি পেছনে সাধারণ লোকজনের কেবিনের দিকে রওনা দেন। তিনি প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মহিলারা তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুরুষেরা সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। এত কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে তারা যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছে— এরকম অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি যখন পেছনের কেবিনে সবার সঙ্গে দেখা করছিলেন, আমি তখন আমার পাশে দাঁড়ানো এয়ার হোস্টেসদের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম— আপনারা বিমানে চাকরি করছেন, ইতোপূর্বে নিশ্চয় রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময়ে সরকারপ্রধান সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশত? বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেক সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সময়ে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তারা কখনো এরকম দেখেনি। তখন আমার গর্বে বুকটা ভরে যায়। আমার এমন অনুভূতি হয় যেন তিনি শুধু সরকার প্রধানই নন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তিনি যখন নিজের সিটে এসে বসলেন, আমি বললাম— আপনি যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন, এদের অনুভূতি এমন হয়েছে যেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে।

জবাবে নেত্রী আমাকে বলেছেন, যখন আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম না, তখন আকাশ ভ্রমণের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতাম, তাদের সুখ-দু:খের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেছি সবসময়। তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। একটি অনুষ্ঠানে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি। মঞ্চ পর্যন্ত প্রধান অতিথির জন্য লাল গালিচায় মোড়ানো ছিল। সেই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ মরহুম ড. আনিসুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে রিসিভ করে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে লালগালিচায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজে লালগালিচার বাইরে হেঁটে মঞ্চ পর্যন্ত গেলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষককে তাঁর মর্যাদা দিলেন। তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে এই গুণাবলিগুলো অর্জন করেছেন।

আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পিজি হাসপাতাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের। বঙ্গবন্ধুও পিজি হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করতে এসেছেন। তিনি এসেই মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, মঞ্চের প্রথম সারিতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, পরের সারিতে সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা, তারপর অন্য অতিথিরা। আমি যে জায়গায় বসেছিলাম তার দুলাইন আগের সিটে বসেছেন স্যুট পরা, মাথায় লিয়াকত টুপি পরা প্রবীণ একব্যক্তি। বঙ্গবন্ধু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ করে ওই ব্যক্তিটি তাঁর নজরে আসে। তিনি প্রটোকল ভেঙে লোকজনের ভেতর ঢুকে ওই ব্যক্তির কাছে চলে যান। কিছু না বলেই ওই লোকটিকে হাতে ধরে তাঁর সঙ্গে মঞ্চে নিয়ে যান। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে ওই লোকটিকে বসান। তখন আমরা জানতে পারি যে, ওই ভদ্র লোকটির নাম ‘খাজা হাসান আসকারী’, যিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী। পিজি হাসপাতাল শাহবাগ হোটেলের যে জায়গায় স্থাপিত, সেটির মূল মালিক তাঁরা। বঙ্গবন্ধু একজন সম্মানী লোককে সর্বদা সম্মান দিতেন। একজন সাবেক মন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে থাকবেন—এটা তাঁর পছন্দ হয়নি।

আমরা একবার যদি চেষ্টা করি বিদ্যুতের সাশ্রয় করতে পারি। তিনি টেলিভিশন দেখা থেকে উঠে যাবার সময় শুধু রিমোট চেপে টেলিভিশন বন্ধ করেন না, সুইচ টিপে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন। কয়েকদিন আগে তিনি জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি চালকদের ড্রাইভার বলেন না, ড্রাইভার সাহেব বলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন। নিজের চা নিজেই বানিয়ে খান, কাজের লোকদের এই ছোট কাজটি করার জন্য কষ্ট দেন না।

অনেক অনন্য গুণাবলির অধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের দেশের খ্যাতিমান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী এক চ্যানেলে রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা লাইভ সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। অন্য দর্শকদের ন্যায় তিনিও শিল্পীকে ফোন করলেন, চ্যানেলের কর্মকর্তা ও শিল্পী নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা কল্পনাও করেননি দেশের প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে ফোন করবেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে একবার সাংবাদিকরা বলছিলেন তিনি আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। জবাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে জনপ্রিয় বলে আমি জনপ্রিয় হয়েছি’। তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস। প্রায় নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর রাখেন এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। সারাবিশ্বে এরূপ মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন আরেকজন সরকারপ্রধান পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।  একজন অনন্য গুণাবলির অধিকারী, আমাদের গর্বের ধন, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় অচিরেই পৌঁছবে।

আসুন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে জঙ্গিবাদ ও কুসংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উজ্জ্বল, উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

 

লেখক : রাজনীতিবিদ

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads