• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
প্রাথমিকে ব্যয় হবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা

প্রাথমিকে ব্যয় হবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা

সংরক্ষিত ছবি

শিক্ষা

প্রাথমিকে ব্যয় হবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ মে ২০১৮

প্রাথমিক শিক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির চতুর্থ পর্যায় (পিইডিপি-৪) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, ১ লাখ ৩৯ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ, ৭১ হাজার ৮০৫টি ল্যাপটপ ক্রয়, ৪০ হাজার শ্রেণিকক্ষ, প্রধান শিক্ষকদের জন্য সাড়ে ১০ হাজার কক্ষ, ৭৮ হাজার ওয়াশ ব্লক, ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা সরঞ্জাম সরবরাহ ও বঞ্চিত ১০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। বাকি ১২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বিদেশি সহায়তা হিসেবে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প ও কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৬ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৫২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। বিদেশি উৎস থেকে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে সংগ্রহ করা হবে ৪৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে বাকি ৩২৯ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যসূচিতে নির্ধারিত শ্রেণিভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক শিখন যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়নের পাশাপাশি সর্বজনীনভাবে বিস্তৃত একটি সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পিইডিপি-৪ কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে কাজ করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। এতে আর্থিক সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (ডিএফআইডি), ইউনিসেফ এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সহায়তা সংস্থা।

মন্ত্রী জানান, রাজধানীর ১৩ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পৃথক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, শঙ্কর, জিগাতলা, রায়েরবাজার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, শেরেবাংলা নগর, দারুসসালাম, মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও খাল উন্নয়ন করা হবে। ৫৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে ঢাকা ওয়াসা।

চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি হওয়ার পর পুরোদমে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংশোধন করা হয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অনুমোদনের সময় এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

পরিবেশ রক্ষায় ১৪ চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তরল জ্বালানি বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রেখে খুলনায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে অনুমোদন দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৫ হাজার ৯৮৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও জাপান ফান্ড পর পোভার্টি রিডাকশন (জেএফপিআর)। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত ৫০ একর জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকো)।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১৩২/৩৩ কেভি ও ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৩ সাল থেকে চলা প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

যশোর, কক্সবাজার ও পাবনায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ এবং জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতাল উন্নয়নে পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এতে লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ঋণ দেবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক।

এর বাইরে ৮০৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প, ৭৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্র্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রকল্প, ৩৯৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়ককে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ৪৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটির কাজ চলছে ২০১১ সাল থেকে। ৩০৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে চলমান ৫টি র্যাব কমপ্লেক্স ও ১টি র্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads