• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা শিক্ষকদের

রাস্তায় বসে চোখের জলে ঈদ পালন করলেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা

রাজপথেই ঈদের নামাজ আদায়

লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা শিক্ষকদের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৯ জুন ২০১৮

পরিবার ছেড়ে রাস্তায় বসে চোখের জলে এবারের ঈদুল ফিতর পালন করেছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত শনিবার সকাল ১০টায় রাস্তায়ই ঈদের জামাত শেষে তারা একে অপরকে বুকে জড়িয়ে কান্না করতে থাকেন। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকের সড়কে এমপিওভুক্তির দাবিতে তারা ভুখামিছিল ও পরে বিক্ষোভ করেন। এর আগে এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষকরা সব মিলিয়ে ২৭ বার আন্দোলন করেছেন। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু আর বাস্তবায়ন হয় না।

এখন আর শিক্ষকরা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চান। এজন্য নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় গতকাল সোমবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ সময়  শিক্ষকরা সরকারকে সময় বেঁধে দিয়ে আগামী ২৩ জুনের মধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা অনশনসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে অর্ধদিবস করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা।

লাগাতার আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য গতকাল সোমবার সকালে অন্তত কয়েক শ শিক্ষক প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থান নেন। এ সময় তারা দাবি আদায়ে ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না- তা হবে না, তা হবে না’, ‘এমপিও না দিলে বাড়ি ফিরে যাব না’, ‘এক দফা এক দাবি-এমপিওভুক্তিকরণ চাই’ এসব স্লোগান দেন।

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ২৩ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ। এর মধ্যে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্তে না আসে, তাহলে আমরা বাধ্য হব অনশনসহ কঠিন কোনো কর্মসূচিতে যেতে। রোজা ও ঈদের সময়টায় তারা আধাবেলা কর্মসূচি দিলেও গতকাল থেকে লাগাতার অবস্থান শুরু করেছেন।

তবে প্রতিশ্রুতির পরও শিক্ষক আন্দোলন রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, শর্ত সাপেক্ষে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে নীতিমালা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির পরও আন্দোলন রহস্যজনক। তিনি গতকাল সোমবার তার দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয় বলেই নীতিমালা তৈরি হয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করা হবে জানিয়ে সচিব বলেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করতে কিছু নিয়ম রয়েছে। কেউ জোর করলেই তো হবে না। সব পদ্ধতি অনুসরণ করে এমপিওভুক্তির আওতায় আসতে হবে। শিক্ষকদের রাস্তায় ঈদ করায় দুঃখ প্রকাশ করে সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সচিব বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকারপ্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী, সচিবও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তারা কারো ওপর আস্থা রাখছে না। উল্টো গালাগালি করছেন। গালাগালি আর অসভ্য আচরণ করে কিছু পাওয়া যায় না। আন্দোলনকারীদের শৃঙ্খলার মধ্যে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

নতুন এমপিও নীতিমালা মানতে রাজি নয় আন্দোলনকারীরা। প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ১৫-২০ বছর হওয়ায় তারা এর আওতায় আসতে রাজি নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাব হোসাইন বলেন, তারা এমপিওভুক্তি না চাওয়ার অঙ্গীকার করে অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু সরকারের দায়ভার থেকে এমপিওভুক্তি করা হয়ে থাকে। আইন দেখাতে গেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কখনোই এমপিও চাইতে পারে না।

এর আগে গত শনিবার সড়কের পাশে ঈদজামাত শেষে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, এমপিও না হলে ঘরে ফিরে যাব না’ এমন স্লোগানে একটি মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড় ঘুরে আবারো প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এ রকম পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার নন-এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীদের লাগাতার অবস্থান আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে এ কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা ১৮ থেকে ২০ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছি। বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বার বার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ভেবেছিলাম ঈদের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো আশ্বাস পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়ি ফিরে যাবেন। কিন্তু সেটি না হওয়ায় আমাদের এ আন্দোলন তীব্রতর করে তোলা হবে। তিনি বলেন, রমজান ও ঈদের কারণে আমাদের আন্দোলন-কর্মসূচি অর্ধদিবস পালিত হলেও এখন সকাল থেকে লাগাতর অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads