• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
বেতন নিয়ে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ‘আহাজারি’

গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষকেরা

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা

বেতন নিয়ে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ‘আহাজারি’

  • অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
  • প্রকাশিত ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকারের শেষ সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ফের সরব। গত শুক্রবার শিক্ষকদের দু’দল আলাদা জায়গায় বৈঠক করে সরকারকে রীতিমতো হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের তিন ধাপ বেতন বৈষম্য দ্রুত নিরসন না হলে শুরু হবে কঠোর আন্দোলন। তবে ঠিক কী ধরনের আন্দোলন হবে তা এখন না জানিয়ে শিক্ষকরা বলেছেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ‘আদ্যোপান্ত’ জানানো হবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শিক্ষকরা মনে করছেন, এই সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে হবে। 

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচের গ্রেডে বেতনের দাবিতে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকরা অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের চেয়ে তিন ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষকদের অনশন ভাঙিয়ে বলেছিলেন, দাবি যৌক্তিক হলে সরকার দ্রুত মেনে নেবে। শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মন্ত্রীকে এক দফা দাবি বাস্তবায়নে এক মাসের সময় দিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ আট মাসেও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হয়নি। এই না হওয়াটা শিক্ষকদের ‘অমর্যাদা’। এ কারণে শিক্ষকরা ফের আন্দোলন শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন।  

শিক্ষকদের আন্দোলনের হুমকিতে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের মতে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এবার নতুন কাঠামো অনুযায়ী যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার আগে শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকলে ক্ষতি হবে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার। অন্যদিকে শিক্ষকরা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ক্ষতি হলেও শিক্ষকরা নিরুপায় হয়েই আন্দোলনে যাচ্ছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে প্রধান শিক্ষকদের বেতনের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের স্তর নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা এসেছে। সেই প্রস্তাবনা নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘নথি’র কাজ এখনো শুরু হয়নি। শুধু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মৌখিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। বলা যায়, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কমানোর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘নথি’র কাজ চলছে ঢিমেতালে। তবে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ‘নলেজে’ আছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল গতকাল শনিবার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বেতন বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর একটি প্রস্তাবনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমার জানা মতে, সেই প্রস্তাবনা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করছি শিক্ষকদের একটা কিছু সুখবর দেওয়া যাবে। তবে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি শুধু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখে না, এক্ষেত্রে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়েরও সম্মতি নিতে হয়। এতে হয়তো একটু সময় লাগছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কমাতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। এই কমিটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পাঠানো প্রস্তাবনা নিয়ে ‘নীরবে বসে’ আছে। কবে নাগাদ এর কাজ ‘সরব’ হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

জানতে চাইলে কমিটিপ্রধান অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বাংলাদেশের খবরকে বলেন, শিক্ষকদের বেতনের বৈষম্য নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান মৌখিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বেতন বৈষম্য নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে এখনো নথি নিয়ে কাজই শুরু হয়নি বলে তিনি জানান। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে প্রাথমিকের শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। তাদের আর কত দেওয়া লাগবে? দেওয়ারও তো একটা সীমা থাকা উচিত। তবু শিক্ষকদের বেতন বৈষ্যমের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ‘নলেজে’ আছে বলে তিনি জানান।

এদিকে গত ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। মন্ত্রী শিক্ষক নেতাদের বলেন, প্রস্তাবনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে আমাদের কাছে এসেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের নিশ্চয়তা আমি দিতে পারছি না। তবে আমরা বিষয়টি দেখব। মন্ত্রীর এমন বক্তব্য পেয়ে শিক্ষকরা হতাশ হয়ে পড়েন। এরপরই শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সভা করে পরবর্তী কর্মসূচির কৌশল নির্ধারণে নেমে পড়েন।

শিক্ষকরা বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের চরম বেতন বৈষম্য দেখা দেওয়ায় সহকারী শিক্ষকরা গত ৪ বছর ধরে আন্দোলন করছেন। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১৪ সালে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয় সরকার।

এতে তাদের বেতন-ভাতাও বেড়ে যায়। এতে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের বেতনের ফারাক তিন ধাপ নিচে চলে আসে। প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাওয়ার আগ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বেতনের এই ফারাক ছিল মাত্র এক ধাপ। এখন তিন ধাপ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads