• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

রোববার শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩১ লাখ শিক্ষার্থী

আগামী রোববার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা

প্রাথমিক সমাপনীতে থাকছে না এমসিকিউ

রোববার শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩১ লাখ শিক্ষার্থী

কোচিং সেন্টার বন্ধ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর ২০১৮

চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রোববার। এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ২৬ নভেম্বর। এ বছর এই পরীক্ষায় ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ শিশু শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ এবং ইবতেদায়িতে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চমের সমাপনী পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, ছয় বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বর করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাভিত্তিক ১০০ নম্বরের লিখিত উত্তর দিতে হবে। গত দশ বছর এমসিকিউ পদ্ধতি রেখে পরীক্ষা পরিচালনা করে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে পারে। আগে ভালো ছিল এখন হয়তো আরো ভালো হবে। তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনের কারণে ফল প্রকাশ এবং বই বিতরণে কোনো সমস্যা হবে না। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে ফল প্রকাশ হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিটি জেলার পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি। ৭ হাজার ৪১০ কেন্দ্রে এই পরীক্ষা শুরু হবে জানিয়ে ফিজার বলেন, ৩ হাজার ২৯৪ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে এই শিক্ষার্থীরা। বিদেশের ১২ কেন্দ্রে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে। দুর্গম এলাকার ২০৪ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম অবহেলা বা অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছর ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ ক্ষুদে শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী এবং দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন ইবতেদায়ি পরীক্ষায় বসেছিল। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার ছাত্রদের চেয়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৬ বেশি ছাত্রী সমাপনীতে অংশ নেবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়িতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গত বছর থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী নিচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক সমাপনীর সূচি-১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা। ইবতেদায়ী সমাপনীর সূচি-১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২২ নভেম্বর আরবি, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর কোরআন ও তাজবিদ এবং আকাইদ ও ফিকাহ।

সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মঞ্জুর কাদির, অতিরিক্ত সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads