• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

জাবিতে তীব্র বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শিক্ষা

জাবিতে তীব্র বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

  • শাহিনুর রহমান শাহিন, জাবি
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম বাস সংকটে ভোগান্তির কবলে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির হাজারো শিক্ষার্থী। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদুরঝোলা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে যাতায়াত করছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বাস সংকট থাকলেও তা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয় নি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস আছে মোট ১৪ টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১২টি বাস রাজধানী ঢাকা-মিরপুর-উত্তরা-এয়ারপোর্ট-বঙ্গবাজার-মানিকগঞ্জ-কাকরাইলসহ অন্যান্য রুটে চলাচল করে। আর বাকি ২টি বাস প্রায় দুই বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা বাস ২টি গাবতলী বাস ডিপুতে (ঢাকা মেট্রো-ছ ০৮০০১৯ ও ঢাকা মেট্রো-চ ০৮০০২০) মেরামত কাজ চলছে। মেরামত করতে এই ২টি বাসের পেছনে খরচ লেগেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এদিকে বাস সংকটের বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবার ঢাকা-মিরপুর-উত্তরা ও বঙ্গবাজার রুটে ছেড়ে যাওয়া ৬টি বাসে আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী উঠতে দেখা যায়। এর মধ্যে সকাল সাড়ে নয়টায় বঙ্গবাজার রুটের বাস দুটিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উঠে যার এক’শ জন শিক্ষার্থী বসে আর বাকি শতাধিক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে বাদুরঝোলা অবস্থায় দেখা যায়। দুই তলা এই দুটি বাসের উপর তলা ও নিচ তলায় শিক্ষার্থীরা গা ঘেষাঘেষি করে পাশাপাশি অবস্থান করে। আবার অনেকে কোন উপায় না পেয়ে দরজার পাশে অবস্থান নেন। এতে যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনাসহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ভীড় ঠেলে বাসে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় যা তাদের জন্য অসহনীয় ও বিব্রতকর বলে জানান মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে ঢাকা ও অনেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে বাসা বা মেসে অবস্থান করেন। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিক কাজসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাম্পাসের বাহিরে নিয়মিত যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তারা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে টিউশন করতে হয়। প্রতিদিন টিউশন করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। কিন্তুু যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের যে বাস চালু রয়েছে তা অত্যন্ত কম। বাসগুলোর ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭০-৮০ জন করে। কিন্তুু এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরিবহণের জন্য মাত্র ১২টি বাস চালু রেখেছে প্রশাসন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার চালু থাকা বাসগুলোর সিডিউল ও রুট নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেক সময় নিদিষ্ট রুটে দাঁড়িয়ে হাত তুললেও বাসগুলো থামে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের বাসে নিয়মিত যাতায়াত করলেও তাদের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) বাসে কোন শিক্ষার্থীকে উঠতে দেয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। বাসগুলোর এমতাবস্থায় অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা এমনটি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মৃধা মোহাম্মদ বেলাল বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে দরজার পাশে ঝুলে ঝুলে যাতায়াত করতে হয়। ন্যূনতম পরিবহণ সুবিধা পাচ্ছি না।

জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী বুশরা মেহেজাবিন এশা বলেন, আমি প্রতিদিন মিরপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করি। সকালে যখন ক্লাসে যাই তখন সিটে বসে যেতে পারি কিন্তুু ক্লাস শেষে বিকেল বেলা বাসা ফেরার পথে বাসে সিটতো দূরের কথা মাঝে মাঝে দাঁড়ানোর জায়গাও পাই না।

অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আসিফ ইকবাল বলেন, অতিদ্রুত বাস সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। মেরামত করা বাস ও নতুন কিছু বাস চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ড. খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, বর্তমানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ টি বাস চালু আছে। বাকি ২টি বাসের মেরামত কাজ শেষ। আশা করি আগামী মাসে বাস ২টি চালু করা সম্ভব হবে। নতুন বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের সাথে নতুন ২টি বাসের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। আগামী দুই এক মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী। চালুকৃত বাসগুলোর সাথে মেরামতকৃত ও নতুন বাস যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ সংকট দ্রুত কমবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাসের অবস্থান জানার জন্য অ্যাপস চালু করার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি উনি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এটা চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads